২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কর্নার কিকে অবিশ্বাস্য গোল ডি মারিয়ার (ভিডিও)

অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া - ছবি : সংগ্রহ

ফরাসি লিগ ওয়ানে গত ম্যাচে দুর্দান্ত এক গোল করেছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইর আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। কর্নার কিক থেকে বাঁকানো শটে এমন গোল সহসা দেখা যায় না ফুটবলে। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করলেন এই আর্জেন্টাইন।

শনিবার রাতে ছিল ফরাসি লিগ ওয়ানে তাদের চতুর্থ ম্যাচে নিমস অলিম্পিকের মাঠে গিয়ে শুরুতে ২ গোল হজম করে ফেলেছিল নেইমারদের দল। তবে, দলের সেরা চার তারকা নেইমার, কাভানি, এমবাপে ও ডি মারিয়ার দুর্দান্ত চারটি গোলে ৪-২ ব্যবধানেই জয় নিয়ে ফিরে আসে ফরাসি জায়ান্টরা।

তবে কর্নার কিক থেকে ডি মারিয়ার নেয়া বাঁ-পায়ের শট বাতাসে বাঁক নিয়ে সরাসরি জড়িয়ে যায় নিমসের জালে। দলটির গোলরক্ষক পল বার্নার্ডোনি ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পেলেন না। অবশ্য গোলরক্ষকের দোষও ছিলো কিছুটা, তিনি গোল লাইন ছেড়ে উপরে দাড়িয়ে ছিলেন।
৪০ মিনিটে ডান প্রান্তে কর্নার কিক পায় পিএসজি। কিক নিতে যান ডি মারিয়া। তিনি বাম পায়ে সোজা শট নেন একেবারে পোস্ট লক্ষ্যে। কিন্তু বলটা দুরহ কোন থেকে বাতাসেই বাক নেয়। সোজা ঢুকে যায় নিমসের জালে।

পিএসজির কোনো খেলোয়াড়েরই সাহায্যের প্রয়োজন হয়নি। এমনকি নিমসের কোনো ডিফেন্ডারও বলের নাগাল পাননি সেটিকে ঠেকানোর। ডান পাসের পোস্টের পাশ দিয়েই বল প্রবেশ করে জালে। গোলরক্ষক শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সেটা বলের নাগাল ছোঁয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ম্যাচের ৭৭ মিনিটে এমবাপে ও ইনজুরি সময়ে কাভানি আরও দুটি গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি।

দেখুন ডি মারিয়ার সেই গোলের ভিডিও

 

আরো পড়ুন :

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ : বাংলাদেশের গ্রুপে ফিলিপাইন ও লাওস
১ - ১২ অক্টোবর হবে এই আসর
শনিবার ড্রতে একে একে অংশ নেয়া দলগুলোর নাম তুলছিলেন অতিথিরা। পঞ্চম দলের নাম তোলার দায়িত্ব পড়ে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর ওপর। তিনি পট থেকে যে দলের নাম থাকা বল তুলবেন তারা হবে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। ছিল তাজিকিস্তান ও লাওসের নাম। সবাই চাচ্ছিলেন লাওসকে। যাদের বিপক্ষে অতীতে জয়ের রেকর্ড না থাকলেও গত মার্চে ভিয়েনতিয়েনের মাটিতে তাদের সাথে ২ গোলে পিছিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২-এ ড্র করে বাংলাদেশ।

আর তাজিকিস্তান তো নিত্য বড় ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে। ড্রয়ের বলের মুখ খোলার আগে সালাম মুর্শেদীও একটু দোয়া করলেন ওপরওয়ালার কছে। শেষ পর্যন্ত সবার প্রত্যাশা পূরণ হলো। সাবেক এই কৃতী ফুটবলারের হাতে উঠল লাওসেরই নাম। সাথে সাথে উল্লাস ড্রয়ের এই অনুষ্ঠানে। চূড়ান্ত হলো পঞ্চম বঙ্গবন্ধু কাপের গ্রুপিং। বাংলাদেশ গ্রুপে পড়েছে ফিলিপাইন ও লাওস। অন্য দিকে ‘এ’ গ্রুপের দলগুলো হলো ফিলিস্তিন, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের গতবারের চ্যাম্পিয়ন নেপাল ও তাজিকিস্তান। গ্রুপে লাওস থাকায় বাংলাদেশের সুযোগ আছে তাদের টপকে সেমিতে যাওয়ার।


ড্রতে র‌্যাংকিং অনুযায়ী তিনটি পটে রাখা হয় ছয় দলকে। ফিলিস্তিনের ফিফা র‌্যাংকিং ৯৯। ফিলিপাইনের ১১৫। অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে এই দুই দেশের অবস্থান সবচেয়ে ভালো। তাই তাদের ধরা হয় শীর্ষ বাছাই হিসেবে। স্বাগতিক বাংলাদেশ ও গতবারের চ্যাম্পিয়ন নেপাল ছিল দ্বিতীয় পটে। তাজিকিস্তান ও লাওস ছিল তৃতীয় পটে।

দেশের ফুটবল অঙ্গন এখন মেতে আছে আসন্ন সাফ ফুটবল নিয়ে। অতিথি দলগুলোর মধ্যে সবার আগে বাংলাদেশে এসেছে শ্রীলঙ্কা। রোববার আসবে নেপাল ও ভুটান। সোমবার আসার কথা ভারত ও মালদ্বীপের। এই ফুটবল উৎসব শেষ হতে-না-হতেই দেশবাসী সিনিয়র জাতীয় দলগুলোর অংশগ্রহণে আরেকটি আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর দেখতে যাচ্ছে মাঠে বসে। তা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল। ১-১২ অক্টোবর হবে এই আসর। গতকাল হয়ে গেল এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর গ্রুপিং তথা ড্র। ড্রয়ের জমকালো অনুষ্ঠানে ছয় দেশেরই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।

কার্যত ফুটবল উৎসব শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। দেশে-বিদেশে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে মহা ব্যস্ততা বাংলাদেশে জাতীয় ফুটবল দলের। তা সিনিয়র-জুনিয়র সব দলেরই। ইন্দোনেশিয়া থেকে এশিয়ান গেমস শেষ করে এসেছে অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল। অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা দল রানার্সআপ হয়ে এসেছে ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলে। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে নবম সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। এই সাফ শেষ হতে-না-হতেই মাঠে গড়াবে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের বাছাই পর্ব।

এই টুর্নামেন্ট শেষ করেই তারা চলে যাবে ভুটানে। সেখানে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে। থিম্পুর মাঠে তাদের টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে দেশে ফের ফুটবলের বড় আসর। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল। এরপর নেপালে অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ সাফ। এএফসির আসর খেলতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা দল যাবে তাজিকিস্তানে। নভেম্বরে মহিলা ফুটবলে অলিম্পিক বাছাই পর্ব। ডিসেম্বরে মহিলা সিনিয়র সাফ। বাফুফের দম ফেলার সময় নেই এসব আসরের কারণে। আর দেশের সিনিয়র-জুনিয়র, পুরুষ-মহিলা সবার জন্য দারুণ সুযোগ এসব আসরের মাধ্যমে নিজেদের মেলে ধরার। সে সাথে সাফল্য এনে দিয়ে দেশের ফুটবলের জনপ্রিয়তাকে আবার চাঙ্গা করার।

শনিবার ড্র অনুষ্ঠানে বাফুফে ও সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানান, আমরা এবার এই আসরে এশিয়ার পাঁচ জোনের দলকেই নিয়েছি। কোনো দুর্বল দলকে নেয়া হয়নি। সব দলই শক্তিশালী। যেন দর্শকেরা খেলা দেখে মজা পায়। তিনি যোগ করেন ফুটবলে এগোতে হলে বাংলাদেশকে এসব দেশের সাথেই খেলতে হবে। এ থেকে শিক্ষারও বিষয় আছে। হারবে জিতবে এটাই ফুটবল। সালাউদ্দিন যোগ করেন, আমরা আমাদের কাজ করছি। এখন বাকি কাজ ফুটবলারদের। বাফুফে সভাপতি উল্লেখ করেন, এশিয়ায় এই ধরনের টুর্নামেন্ট ধ্বংস হয়ে গেছে; কিন্তু আমরা তা চালু রেখেছি।

এই আসরের স্বত্ব কিনে নিয়েছে ‘কে স্পোর্টস’। তাদের বাজেট ১০ কোটি টাকা। বাফুফেকে তারা দেবে এক কোটি টাকা। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়ন দল ৫০ হাজার ডলার পাবে। ‘কে’ স্পোর্টস’-এর সিইও ফাহাদ করিম জানান, আমরা এবার প্রতি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করব। থাকবে দর্শকদের মাঠে টানার ব্যবস্থাও। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সব খেলা কয়েকটি টেলিভিশনে দেখানো হবে। ধারাবর্ণনা দেয়া হবে বাংলা ও ইংরেজিতে। জানান ফাহাদ করিম।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বঙ্গবন্ধু কাপে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে বিদায় নিয়েছিল। ২০১৫তে তারা হয় রানার্সআপ।


আরো সংবাদ