১৪ নভেম্বর ২০১৮

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ : বাংলাদেশের গ্রুপে ফিলিপাইন ও লাওস

১ - ১২ অক্টোবর হবে এই আসর
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের এবারের আসরের ড্র শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় - ছবি : নয়া দিগন্ত

শনিবার ড্রতে একে একে অংশ নেয়া দলগুলোর নাম তুলছিলেন অতিথিরা। পঞ্চম দলের নাম তোলার দায়িত্ব পড়ে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর ওপর। তিনি পট থেকে যে দলের নাম থাকা বল তুলবেন তারা হবে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। ছিল তাজিকিস্তান ও লাওসের নাম। সবাই চাচ্ছিলেন লাওসকে। যাদের বিপক্ষে অতীতে জয়ের রেকর্ড না থাকলেও গত মার্চে ভিয়েনতিয়েনের মাটিতে তাদের সাথে ২ গোলে পিছিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২-এ ড্র করে বাংলাদেশ।

আর তাজিকিস্তান তো নিত্য বড় ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে। ড্রয়ের বলের মুখ খোলার আগে সালাম মুর্শেদীও একটু দোয়া করলেন ওপরওয়ালার কছে। শেষ পর্যন্ত সবার প্রত্যাশা পূরণ হলো। সাবেক এই কৃতী ফুটবলারের হাতে উঠল লাওসেরই নাম। সাথে সাথে উল্লাস ড্রয়ের এই অনুষ্ঠানে। চূড়ান্ত হলো পঞ্চম বঙ্গবন্ধু কাপের গ্রুপিং। বাংলাদেশ গ্রুপে পড়েছে ফিলিপাইন ও লাওস। অন্য দিকে ‘এ’ গ্রুপের দলগুলো হলো ফিলিস্তিন, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের গতবারের চ্যাম্পিয়ন নেপাল ও তাজিকিস্তান। গ্রুপে লাওস থাকায় বাংলাদেশের সুযোগ আছে তাদের টপকে সেমিতে যাওয়ার।

ড্রতে র‌্যাংকিং অনুযায়ী তিনটি পটে রাখা হয় ছয় দলকে। ফিলিস্তিনের ফিফা র‌্যাংকিং ৯৯। ফিলিপাইনের ১১৫। অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে এই দুই দেশের অবস্থান সবচেয়ে ভালো। তাই তাদের ধরা হয় শীর্ষ বাছাই হিসেবে। স্বাগতিক বাংলাদেশ ও গতবারের চ্যাম্পিয়ন নেপাল ছিল দ্বিতীয় পটে। তাজিকিস্তান ও লাওস ছিল তৃতীয় পটে।

দেশের ফুটবল অঙ্গন এখন মেতে আছে আসন্ন সাফ ফুটবল নিয়ে। অতিথি দলগুলোর মধ্যে সবার আগে বাংলাদেশে এসেছে শ্রীলঙ্কা। রোববার আসবে নেপাল ও ভুটান। সোমবার আসার কথা ভারত ও মালদ্বীপের। এই ফুটবল উৎসব শেষ হতে-না-হতেই দেশবাসী সিনিয়র জাতীয় দলগুলোর অংশগ্রহণে আরেকটি আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর দেখতে যাচ্ছে মাঠে বসে। তা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল। ১-১২ অক্টোবর হবে এই আসর। গতকাল হয়ে গেল এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর গ্রুপিং তথা ড্র। ড্রয়ের জমকালো অনুষ্ঠানে ছয় দেশেরই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।

কার্যত ফুটবল উৎসব শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। দেশে-বিদেশে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে মহা ব্যস্ততা বাংলাদেশে জাতীয় ফুটবল দলের। তা সিনিয়র-জুনিয়র সব দলেরই। ইন্দোনেশিয়া থেকে এশিয়ান গেমস শেষ করে এসেছে অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল। অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা দল রানার্সআপ হয়ে এসেছে ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলে। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে নবম সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। এই সাফ শেষ হতে-না-হতেই মাঠে গড়াবে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের বাছাই পর্ব।

এই টুর্নামেন্ট শেষ করেই তারা চলে যাবে ভুটানে। সেখানে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে। থিম্পুর মাঠে তাদের টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে দেশে ফের ফুটবলের বড় আসর। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল। এরপর নেপালে অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ সাফ। এএফসির আসর খেলতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা দল যাবে তাজিকিস্তানে। নভেম্বরে মহিলা ফুটবলে অলিম্পিক বাছাই পর্ব। ডিসেম্বরে মহিলা সিনিয়র সাফ। বাফুফের দম ফেলার সময় নেই এসব আসরের কারণে। আর দেশের সিনিয়র-জুনিয়র, পুরুষ-মহিলা সবার জন্য দারুণ সুযোগ এসব আসরের মাধ্যমে নিজেদের মেলে ধরার। সে সাথে সাফল্য এনে দিয়ে দেশের ফুটবলের জনপ্রিয়তাকে আবার চাঙ্গা করার।

শনিবার ড্র অনুষ্ঠানে বাফুফে ও সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানান, আমরা এবার এই আসরে এশিয়ার পাঁচ জোনের দলকেই নিয়েছি। কোনো দুর্বল দলকে নেয়া হয়নি। সব দলই শক্তিশালী। যেন দর্শকেরা খেলা দেখে মজা পায়। তিনি যোগ করেন ফুটবলে এগোতে হলে বাংলাদেশকে এসব দেশের সাথেই খেলতে হবে। এ থেকে শিক্ষারও বিষয় আছে। হারবে জিতবে এটাই ফুটবল। সালাউদ্দিন যোগ করেন, আমরা আমাদের কাজ করছি। এখন বাকি কাজ ফুটবলারদের। বাফুফে সভাপতি উল্লেখ করেন, এশিয়ায় এই ধরনের টুর্নামেন্ট ধ্বংস হয়ে গেছে; কিন্তু আমরা তা চালু রেখেছি।

এই আসরের স্বত্ব কিনে নিয়েছে ‘কে স্পোর্টস’। তাদের বাজেট ১০ কোটি টাকা। বাফুফেকে তারা দেবে এক কোটি টাকা। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়ন দল ৫০ হাজার ডলার পাবে। ‘কে’ স্পোর্টস’-এর সিইও ফাহাদ করিম জানান, আমরা এবার প্রতি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করব। থাকবে দর্শকদের মাঠে টানার ব্যবস্থাও। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সব খেলা কয়েকটি টেলিভিশনে দেখানো হবে। ধারাবর্ণনা দেয়া হবে বাংলা ও ইংরেজিতে। জানান ফাহাদ করিম।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বঙ্গবন্ধু কাপে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে বিদায় নিয়েছিল। ২০১৫তে তারা হয় রানার্সআপ।


আরো সংবাদ