২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অবশ্যই এমবাপের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে : বুফন

ফুটবল
এমবাপের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে বলে মনে করছেন বুফন - ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা উপহার দেয়া তারকা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে গতকাল ছুটি কাটিয়ে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই’র অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। সতীর্থকে দলে পেয়ে এবারের মৌসুমে পিএসজিতে যোগ দেয়া অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ানলুইজি বুফন এমবাপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

১৯ বছর বয়সী এমবাপে এবারের বিশ্বকাপে চার গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা তরুন খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেছেন। মস্কোর ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ে তারও অবদান ছিল। সাবেক এই মোনাকো তারকা যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন তাতে অচিরেই কিংবদন্তীর তকমাটা তার নামের পাশে জুড়ে যাবে বলেই বিশ্বাস করেন বুফন।

পিএসজি’র অফিসিয়াল ক্লাব ম্যাগাজিনে ইতালিয়ান এই অভিজ্ঞ তারকা বলেছেন, ‘অন্যদের থেকে অবশ্যই এমবাপের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে। আশা করছি সকলের প্রত্যাশানুযায়ী তিনি নিজেকে এগিয়ে নিতে পারবেন। আর এটা যদি সে করতে পারে তবে ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক মাত্রা যোগ হবে। ফুটবলের ইতিহাসে তাকে নিয়ে দুর্দান্ত কিছু অধ্যায় লেখা থাকবে।’

২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে মোনাকোর বিপক্ষে জুভেন্টাসের ম্যাচটি স্মরণ করে বুফন বলেছেন, ঐ ম্যাচটির পরে আমি আন্দেস বারজাগলির সাথে কথা বলেছিলাম। সে আমার কাছে স্বীকার করেছে ২০ বছরের ক্যারিয়ারে এমবাপের মতো এত দ্রুতগতির খেলোয়াড় সে কখনই দেখেনি। এমনকি বল নিয়েও সে যতটা দ্রুততার সাথে দৌড়াতে পারে তাতে ডিফেন্ডারদের সমস্যায় পড়তে হয়। তার জন্য আমার বেশ সমস্যা হয়েছিল।

একমাত্র বুফনই এমবাপেকে নিয়ে এই মন্তব্যগুলো করেননি, পিএসজি চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী নাসের আল-খেলাফি বলেছেন ভবিষ্যতে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার হবেন এমবাপে।

কাতারি প্রধান বলেন, ‘এমবাপে শুধুমাত্র ফ্রান্সের নয়, পুরো বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিভা। তাকে দেখে অনেক কিছু শেখার আছে। দারুন পরিশ্রমী একজন খেলোয়াড় হিসেবে একদিন সে ব্যালন ডি’অর পাবেই।’

রোববার ঘরের মাঠ পার্ক ডি প্রিন্সেসে কায়েনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিগ ওয়ানের মৌসুম শুরু করবে পিএসজি। ধারণা করা হচ্ছে সদ্য ছুটি কাটিয়ে অনুশীলনে ফেরা এমবাপে এই ম্যাচে মাঠে নামবেন।

আরো পড়ুন :
ব্যালন ডি’অর : মেসি নয়, ফেবারিট এমবাপে!
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৪ জুলাই ২০১৮
লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে চলতি বছর ব্যালন ডি’অর জয়ের তালিকায় নিজেকেই ফেবারিট হিসেবে দেখছেন বিশ্বকাপ বিজয়ী ফ্রান্স ও পিএসজি তারকা কিলিয়ান এমবাপে।

১৯ বছর বয়সী এই ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড রাশিয়া বিশ্বকাপে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়েরর পুরস্কার জয় করেছেন। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ে এমবাপের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালে এক গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে তিনি চার গোল করেছেন।

তরুণ এই ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত পারফরমেন্সই তাকে ইউরোপীয়ান ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাকর এই পুরস্কারের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে, এটা শুধুমাত্র এমবাপের দৃষ্টিভঙ্গীই নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবল বোদ্ধারাও এমনই চিন্তা করা শুরু করেছেন। গত এক দশক যাবত ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেসির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

পাঁচবারের বিজয়ী রোনালদো, বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল বিজয়ী লুকা মড্রিচ, ফ্রেঞ্চ সতীর্থ রাফায়েল ভারানে ও পিএসজি সতীর্থ নেইমার ইতোমধ্যেই এমবাপের বিবেচনায় পাঁচজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে এখানে জায়গা হয়নি মেসির। এ সম্পর্কে এমবাপে বলেছেন, ‘এই তালিকা সম্পূর্ণ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে এখানে আমার নামও থাকা উচিত।’

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের সাথে ক্লাব ক্যারিয়ারে ভাল সম্পর্ক রয়েছে বলে এমবাপে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বকাপের পরেও এই বিষয়টিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

গত বছর ব্যালন ডি’র এর তালিকায় এমবাপে সপ্তম স্থান লাভ করেছিলেন। অন্যদিকে তৃতীয়বারের মত রোনালদো ও মেসির পরে তৃতীয় স্থানটি পেয়েছিলেন নেইমার।

বিশ্বকাপ বদলে দিলো এমবাপেকে
আগামী মৌসুমে ফ্রেঞ্চ লিগের জন্য তারকা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপেকে নতুন জার্সি নম্বর উপহার দিয়েছে পিএসজি। রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে এমবাপের জার্সি নম্বরও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসজি।

১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড রাশিয়া বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিয়েছে। পুরো টুর্ণামেন্টে ফাইনালে এক গোলসহ তিনি চারটি গোল করেছেন।

গত মৌসুমে প্যারিসে আসার পরে এমবাপেকে ২৯ নম্বর জার্সি দেয়া হয়েছিল। দুই বছর আগে মোনাকোর হয়ে খেলতে গিয়েও তিনি এই নম্বর নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন।

কিন্তু রাশিয়ায় দুর্দান্ত পারফর্ম করা এই তরুণের জন্য পিএসজি আসন্ন মৌসুমে ৭ নম্বর জার্সিটি উপহার দিয়েছে। এই ৭ নম্বর জার্সি গায়ে দিয়েই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ডেভিড বেকহ্যাম, হেনরিক লারসন, জর্জ বেস্ট তাদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।

ঘিঞ্জি মহল্লা থেকে বিশ্বমঞ্চে
আল জাজিরা, ১৭ জুলাই ২০১৮
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তরাংশের একটি অনুন্নত আর দরিদ্র এলাকা- নাম বন্ডি। অনেক নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এলাকাটির বাসিন্দাদের রয়েছে নানা অভিযোগ। প্যারিসের বিখ্যাত প্রশস্ত সড়ক আর উন্নত জীবনের ছোয়া নেই এখানে। নেই পর্যটক টানার মতো কোন ব্যবস্থা।

প্যারিস বিশ্বের উন্নত নগরীগুলোর একটি হলেও তার একটি অংশে বিরাজ করছে অনুন্নত পরিবেশ, যাকে তুলনা করা যায় ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার’ হিসেবে। এলাকাটির বেশির ভাগ বাসিন্দাই স্বল্প আয়ের। নিজেদের বাড়ি নেই বেশিরভাগেরই। সোস্যাল হাউজিং নামক সরকারি প্রকল্পের অধীনে নির্মিত বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বাস করেন তারা। এলাকাটির বেশিরভাগ বাড়িই সোস্যাল হাউজিংয়ের। বেকারত্বের মাত্রা অনেক বেশি। নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও অন্য এলাকাগুলোর চেয়ে অনেক কম।

তবে এত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই মহল্লাটির মানুষ আজ গর্বের সাথে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন। শুধু ফ্রান্সই নয়, বিশ্বমঞ্চেই আজ পা পড়েছে বন্ডি নামক অনুন্নত মহল্লা থেকে উঠে আসা বীরদের। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক কিলিয়ান এমবাপে বন্ডি এলাকার সন্তান। আলজেরীয় মুসলিম মা আর ক্যামেরুন থেকে আসা অভিবাসী বাবার সন্তান এমবাপে আজ বিশ্ব মঞ্চের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। মাত্র উনিশ বছর বয়সেই তিনি করেছেন বিশ্বজয়।

বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলের কনিষ্ঠতম এই সদস্য দেশকে শিরোপা এনে দেয়ার পাশাপাশি নিজেকেও নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কিশোর সুলভ গড়ন আর সর্বদা হাসিমাখা মুখের এই তরুণই মূহুর্তে চরম নির্মমতায় দুমড়ে মুচড়ে দেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্স। তার গতি আর অসাধারণ ড্রিবলিংয়ের সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খায় বাঘা বাঘা ডিফেন্ডাররাও। কিংবদন্তী পেলের পর দ্বিতীয় কিশোর ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।

বন্ডি এলাকার ‘এএস বন্ডি ক্লাবে’ শুরু এমবাপের ফুটবল ক্যারিয়ার। এখান থেকেই প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়ে পৌছে গেছেন বিশ্ব মঞ্চে। আজ তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি বিশ্বের সেরা ফুটবল ক্লাবগুলোর। এখানে তার সাবেক কোচ অ্যান্তোনিও রিকার্ডি একবার বলেছিলেন, ‘আমি তাকে যখন কোচিং করাতে শুরু করি তখন তার বয়স মাত্র ছয় বছর। সে সময় অন্য সব শিশুর চেয়ে এমবাপে অনেক এগিয়ে ছিলো। তার ড্রিবলিং ও গতি ছিলো অসাধারণ। ওই ক্লাবে ১৫ বছর কোচিং করিয়েছি, তার মতো এমন প্রতিভা আর দেখিনি।’

মহল্লার এই ক্লাব থেকে এমবাপে সরাসরি যোগ দেন পেশাদার লিগের ক্লাব মোনাকোতে। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের লিগ-১ এর ম্যাচে তার অভিষেক হয় পেশাদার ফুটবলে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা এনে দেন এমবাপে। এক বছর পর ১৮০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন ফ্রান্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে।

বন্ডির মানুষরা আজ গর্ব করেন এমবাপেকে নিয়ে। তারা বুঝতে শিখেছেন স্বপ্ন থাকলে তা কোন সীমাবদ্ধতাই মানবে না। একদিন ধরা দেবেই হাতে। এমবাপের শৈশবের ক্লাব এএস বন্ডির কিশোর ফুটবলার ১৪ বছর বয়সী ইয়ানিস জ্যাঁ আলজাজিরাকে বলেন, ‘তিনি আমার এই মহল্লা থেকে উঠে এসেছে সেটা ভাবতে গর্ব হয়। আমি একদিন তার মতো হতে চাই।’

এমবাপেও ছিলেন এমন একজন স্বপ্নবাজ তরুণ। শৈশব থেকেই তার বাড়ির দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পোস্টার। সিআরসেভেনকে আদর্শ মেনে এমবাপে বড় হয়েছেন। রোনালদোর মতোই অসাধারণ গতি আর দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। আজ তিনি রোনালদোরই প্রতিদ্বন্দ্বী, রোনালদোকে বিক্রি করে নিয়ে স্পেনের ক্লাব রিয়ালমাদ্রিদ কিনতে চাইছে এমবাপে কে।

শুধু এমবাপে নয়, ফ্রান্সের এবারের বিশ্বকাপ জয়ী দলের মাতুইদি ও কন্তে এই এএস বন্ডি ক্লাব থেকে উঠে এসেছেন। এলাকাটির শিশু, কিশোর, তরুণরা তাই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এখান থেকেই বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার। ১৭ বছর বয়সী লুতফি বিচারেফ বলেন, ‘কেউ যখন জিজ্ঞেস করে আমি কোন ক্লাবে খেলি- গর্বের সাথে বলি এএস বন্ডির নাম, কারণ এমবাপে এখান থেকেই উঠে এসেছেন। এক নামেই তারা চিনে ফেলে ক্লাবটিকে।


আরো সংবাদ