২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ব্যালন ডি’অর : মেসি নয়, ফেবারিট এমবাপে!

মেসি, এমবাপে
মেসি-এমবাপে - সংগৃহীত

লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে চলতি বছর ব্যালন ডি’অর জয়ের তালিকায় নিজেকেই ফেবারিট হিসেবে দেখছেন বিশ্বকাপ বিজয়ী ফ্রান্স ও পিএসজি তারকা কিলিয়ান এমবাপে।

১৯ বছর বয়সী এই ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড রাশিয়া বিশ্বকাপে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়েরর পুরস্কার জয় করেছেন। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ে এমবাপের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালে এক গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে তিনি চার গোল করেছেন।

তরুণ এই ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত পারফরমেন্সই তাকে ইউরোপীয়ান ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাকর এই পুরস্কারের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে, এটা শুধুমাত্র এমবাপের দৃষ্টিভঙ্গীই নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবল বোদ্ধারাও এমনই চিন্তা করা শুরু করেছেন। গত এক দশক যাবত ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেসির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

পাঁচবারের বিজয়ী রোনালদো, বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল বিজয়ী লুকা মড্রিচ, ফ্রেঞ্চ সতীর্থ রাফায়েল ভারানে ও পিএসজি সতীর্থ নেইমার ইতোমধ্যেই এমবাপের বিবেচনায় পাঁচজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে এখানে জায়গা হয়নি মেসির। এ সম্পর্কে এমবাপে বলেছেন, ‘এই তালিকা সম্পূর্ণ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে এখানে আমার নামও থাকা উচিত।’

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের সাথে ক্লাব ক্যারিয়ারে ভাল সম্পর্ক রয়েছে বলে এমবাপে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বকাপের পরেও এই বিষয়টিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

গত বছর ব্যালন ডি’র এর তালিকায় এমবাপে সপ্তম স্থান লাভ করেছিলেন। অন্যদিকে তৃতীয়বারের মত রোনালদো ও মেসির পরে তৃতীয় স্থানটি পেয়েছিলেন নেইমার।

 

আরো পড়ুন : বিশ্বকাপ বদলে দিলো এমবাপেকে

আগামী মৌসুমে ফ্রেঞ্চ লিগের জন্য তারকা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপেকে নতুন জার্সি নম্বর উপহার দিয়েছে পিএসজি। রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে এমবাপের জার্সি নম্বরও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসজি।

১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড রাশিয়া বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিয়েছে। পুরো টুর্ণামেন্টে ফাইনালে এক গোলসহ তিনি চারটি গোল করেছেন।

গত মৌসুমে প্যারিসে আসার পরে এমবাপেকে ২৯ নম্বর জার্সি দেয়া হয়েছিল। দুই বছর আগে মোনাকোর হয়ে খেলতে গিয়েও তিনি এই নম্বর নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন।

কিন্তু রাশিয়ায় দুর্দান্ত পারফর্ম করা এই তরুণের জন্য পিএসজি আসন্ন মৌসুমে ৭ নম্বর জার্সিটি উপহার দিয়েছে। এই ৭ নম্বর জার্সি গায়ে দিয়েই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ডেভিড বেকহ্যাম, হেনরিক লারসন, জর্জ বেস্ট তাদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।

 

আরো পড়ুন : জিতলে জার্মানি হারলে অভিবাসী!

মাঠের বাইরে বেদনাদায়ক ঘটনায় বিধ্বস্ত মেসুত অ’জিল অবসর ঘোষণা দিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন প্লে-মেকারকে আর দেখা যাবে না জার্মানির জার্সি গায়ে প্রতিনিধিত্ব করতে। গত রোববার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্তের পেছনে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ ইস্যুতে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) বর্ণবাদ ও মর্যাদাহনিকর আচরণকে দায়ী করেন ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অ’জিল। দুইটি ভিন্ন বিবৃতিতে বিক্ষুব্ধ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ডিএফবির সমালোচনার কড়া জবাবও দেন।
অবসরের বিবৃতিতে অ’জিল বলেন, ‘জিতলে আমি জার্মান। হারলে অভিবাসী।’ ট্যাক্স ও বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ সত্ত্বেও জার্মান সমাজ গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেন অ’জিল। আর্সেনালের প্লে-মেকার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে যা ঘটেছে তা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। আমিও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। আর খেলব না জার্মান জার্সিতে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রতিটি খেলাতেই সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আমি প্রয়োজনহীন ফুটবলার জার্মানির কাছে।’

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় তুর্কি বংশদ্ভেূাত মিডফিল্ডার অ’জিলের। জার্মান জার্সিতে তিনি ৯২ প্রতিনিধিত্বের ক্যারিয়ারে করেছেন ২৩ গোল। ২০১২ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানদের সাফল্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন প্লে-মেকার অ’জিল। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের আসরেও তার দারুণ সাফল্যের ক্যারিয়ার রয়েছে। ২০১২ ও ২০১৬’তে জার্মানদের সেমিফাইনালে উন্নীতের প্রক্রিয়ায় নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

গত মে’তে লন্ডনে চ্যারিটিমূলক একটি অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের সাথে ফটোসেশনে অংশগ্রহণে নেন অ’জিল। চ্যারিটির তহবিল সংগ্রহের ওই অনুষ্ঠানে তুরস্ক বংশদ্ভেূাত আরেক জার্মান মিডফিল্ডার গুনডগান। রাশান বিশ্বকাপের আগে তাদের মধ্যকার বৈঠকের গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও সমালোচনার শিকার হয়নি। কিন্তু ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের লজ্জাজনক ব্যর্থতার পর জার্মান ফুটবল ও গণমাধ্যম একযোগে অ’জিলকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর প্রচেষ্টায় মত্ত হয়। অ’জিল একযোগে আক্রমণের শিকার হন জার্মান ফুটবল শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিগত ও গণমাধ্যমের। আর্সেনাল তারকাকে মানসিক বিপর্যস্তের প্রচেষ্টায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে টুর্নামেন্ট শেষে তার ফিফার ২১তম আসরের আগে তুরস্তের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকের কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা দাবির কথাও তোলেন জার্মান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি গ্রিন্ডেল। রোববার ডিএফডির উদ্দেশে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন ওজিল।

তিনি বলেন, ‘লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় দেশভুক্ত সরকারপ্রধানের ওই সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ব্রিটেনের রানীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাহলে আমার অপরাধ কোথায়? এ ছাড়া আমার ভিত্তিমূল হচ্ছে তুরস্ক। মা বলতেন, কখনো ভুলে যাবে না তোমার পূর্বপুরুষদের ভূমিকে। সর্বোপরি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করেছি আমি। কোনো ব্যক্তি প্রেসিডেন্টের সাথে নয়।’

দেখুন:

আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme