২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যে কারণে বার্সায় যাননি সালাহ

মেসি, সালাহ
লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহ - সংগৃহীত

বার্সেলোনা-ত্রয়ী বলা হতো মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজকে। প্রতিপক্ষ শিবিরে তারা ত্রাস সৃষ্টি করত তারা। কিন্তু হঠাৎ বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে রেকর্ড অর্থে যোগ দিলেন নেইমার। এর কারণ হিসেবে শোন গিয়েছিল, মেসির ছায়ায় নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না এই ব্রাজিলীয় সুপারস্টার। এবার একই কারণে বার্সেলোনায় যোগ দিতে চাননি সালাহ।

হ্যাঁ, মেসির মতো মহাতারকা যে ক্লাবে থাকবেন, সেখানে আর কারো দিকে নজর পড়বে না ফুটবলপ্রেমীদের। তাই নাকি বার্সায় যেতে চাচ্ছেন না মিসরীয় সুপারস্টার সালাহ।

ব্রিটেনের ডেইলি স্টার প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে।

ডন ব্যালনের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়েছে, 'বার্সেলোনায় মেসি যে পজিশনে খেলে, একই পজিশনে খেলে সালাহ। তাই লিভারপুলে খেলাই তার জন্য এই মুহূর্তে ভালো হবে। তাছাড়া এই ক্লাবের মধ্যমণি হয়ে থাকতেই পছন্দ করছেন তিনি। কারণ লিভারপুলের সমর্থকরা তাকে অসম্ভব পছন্দ করেন।

 

আরো পড়ুন : সালাহর সতীর্থ হলেন শাকিরি

স্টোক সিটি থেকে সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ তারকা জারদান শাকিরিকে দলে ভিড়িয়েছে লিভারপুল। পাঁচ বছরের চুক্তিতে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে শাকিরিকে দলভূক্ত করেছে লিভারপুল। মার্সিসাইড ক্লাবের হয়ে চলতি গ্রীষ্মে এটি তৃতীয় চুক্তি।

২০১৪ সাল থেকেই লিভারপুলের নজরে ছিলেন সুইস এই তারকা উইঙ্গার। শাকিরি নিজেও এনফিল্ডে খেলার ব্যপারে বেশ আগ্রহী ছিলেন। লিভারপুলের ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে শাকিরি বলেছেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি দারুণ খুশি। এটি একটি বিশাল ক্লাব, যার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আছে। এখানকার খেলোয়াড়, কোচ সবাই অসাধারণ। সে কারণেই এমন একটি ক্লাবে খেলতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের। একজন খেলোয়াড় হিসেবে প্রত্যেকের ইচ্ছা থাকে একটি বড় ক্লাবে খেলার। বেশ কয়েক বছর আগে আমি এখানে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তা কোন কারণে তা হয়নি। আমি এখানে নিজের পারফরমেন্সের উন্নতি করতে চাই। আমি সেরা হতে চাই, শিরোপা জিততে চাই। সেজন্যই আমি এখানে এসেছি।’

২০১৫ সালে ইন্টার মিলান থেকে স্টোক সিটিতে গিয়েছিলেন শাকিরি। সেখানে ৯২ ম্যাচে তিনি ১৫ গোল করেছেন। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগ থেকে রেলিগেটেড হয়েছে স্টোক সিটি।

রাশিয়া বিশ্বকাপে শাকিরি সার্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুইজার‌্যাল্যান্ডের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে ৯০ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন।

লিভারপুর বস জার্গেন ক্লপ বলেছেন, শাকিরি এমন একজন খেলোয়াড় যে পুরো দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কারণ সে ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলার যোগ্যতা রাখে।

এফসি বাসেলের হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা শাকিরি ২০১২ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে আড়াই বছর কাটানোর পরে ছয় মাসের জন্য ইন্টার মিলানে পাড়ি জমান। সুইজার‌্যান্ড ও জার্মানিতে তিনি লিগ শিরোপা ছাড়াও বায়ার্নের হয়ে ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছেন।

 

আরো পড়ুন : রিয়ালের কোনো টোপই গিলেননি সালাহ! কারণ কী?

গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, লিভারপুল ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিচ্ছেন মিসরীয় তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। অনেক বড় অঙ্কের লোভ দেখানো হয়েছিল তাকে। কিন্তু তিনি সেই টোপ গিলেননি। শেষ পর্যন্ত সালাহ লিভারপুলেই থেকে গেছেন। গত সপ্তাহে নতুন করে ক্লাবের সাথে চুক্তি করেছেন তিনি।

এই কথা কেন এখন উঠছে? উঠছে কারণ গতকাল রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছেন সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৯৯.২ মিলিয়ন ইউরোতে এই ক্লাবে গেছেন তিনি। গত পাঁচ বছরে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। দীর্ঘ সময় ক্লাবের হয়ে খেলার পর কেন চলে গেলেন সি আর সেভেন?

রোনালদো অবশ্য বলেছেন, জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাচ্ছেন তিনি।

এখন প্রশ্ন উঠেছে সালাহ কেন রিয়ালে গেলেন না? তাকে তো অনেক বড় অঙ্কের লোভ দেখানো হয়েছিল?

সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের সেই দুঃস্বপ্নের পর রামোসের পাশে কোনোভাবেই খেলতে চাননি সালাহ। সেই ম্যাচে রামোসের বাজে ট্যাকেলে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়ে হয় মিসরের এই রাজপুত্রকে। কাঁধে মারাত্মক চোট পান তিনি। এর প্রভাব পড়ে বিশ্বকাপেও। হয়ত সেই ঘটনা ভুলতে পারেননি সালাহ। এই ঘটনা দীর্ঘ সময় পর তিনি অবশ্য বলেছিলেন, রামোসকে কোনো দিন ক্ষমা করতে পারবেন না তিনি।

তবে সালাহকে পেতে মরিয়া ছিল রিয়াল। স্প্যানিশ পত্রিকা ডন ব্যালনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সালাহর ব্যাপারে অনেক আগ্রহ ছিল রিয়ালের।

হবেই বা না কেন? এক মৌসুমে ৪৪ গোলের রেকর্ড যে গড়েছিলেন এই সালাহ। রোনালদোর ৩৮ গোলের রেকর্ডটি ভেঙে নতুন এই রেকর্ড গড়েন তিনি।

শোনা গিয়েছিল, লিভারপুলের কোচ জারগেন ক্লপকে শেষ মেষ বড় অঙ্কের পাশাপাশি রিয়ালের একজন তারকাকেও দিতে চেয়েছিল ক্লাবটি। কিন্তু লিভারপুল বস তাতে রাজি হননি। উল্টো দ্রুত নতুন চুক্তি সেরে ফেলেছেন সালাহর সাথে।

দেখুন:

আরো সংবাদ