২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মেসিকে অনুরোধ, 'যেও না'

মেসি, আর্জেন্টিনা
লিওনেল মেসি - সংগৃহীত

বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারো ফেরার আশা করছে আর্জেন্টিনা। আর এই মুহূর্তে জাতীয় দল ছেড়ে অবসরে না যাওয়ার জন্য লিওনেল মেসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন কার্লোস তেভেজ।

রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ১৬’ থেকে বিদায় নিয়েছেন মেসির আর্জেন্টিনা। আর আরো একবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আর্জেন্টাইনদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো মেসির অবসরের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। কিন্তু তেভেজের প্রত্যাশা মেসি আরো কিছুদিন জাতীয় দলের সাথে থাকুক। দেশের এই সুপারস্টারের এখনো দলকে দেয়ার মতো অনেক কিছুই আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা বলেছেন, ‘আমি মনে করি লিও নিজেকে নিয়ে চিন্তা করার অনেক কিছু আছে। কি বিষয়গুলো তাকে আর আনন্দ দিচ্ছে না, কোথায় সে স্বস্তি অনুভব করবে এসব নিয়ে সে চিন্তা করুক। আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার দায়িত্ব একা কাঁধে নেয়াটা সত্যিই কঠিন। তাকে খুশি করতে না পারা কিংবা কাঙ্খিত লক্ষ্যে তাকে দেখতে না পাওয়া নিয়ে আমরা অনেক সময় নষ্ট করছি। আমি মনে করি তাকে স্বস্তিতে না খেলতে দেয়াটা আমাদের ব্যর্থতা। একজন খেলোয়াড় ও একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আমি তাকে একটি কথাই বলতে চাই তাকে আমাদের প্রয়োজন আছে। তাকে যেমন বিশ্রাম দেয়া প্রয়োজন, তাকে যেমন ঠাণ্ডা রাখা প্রয়োজন ঠিক তেমনি আমাদের কাছে তার প্রয়োজনীয়তা আছে। তাকে আমাদের প্রয়োজন কারণ সে আর্জেন্টিনার প্রাণ। সে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় আইডল, সেই দায়িত্ব তাকে নিতেই হবে।’

এদিকে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে জর্জ সাম্পাওলির স্থানে পেরুর বস রিকার্ডো গার্সিয়াকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেছে নিতে যাচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। কিন্তু তেভেজ মনে করেন এই স্থানে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেয়া কোচ হোসে পেকারম্যানকে আরো একবার সুযোগ দেয়া উচিত।

 

আরো পড়ুন : সেরা দশে নেই মেসি

সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকায় নেই মেসি-নেইমারের নাম। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ শেষে ওয়ার্ল্ড সকার এমনই একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১৯ বছরের কিলিয়ান এমবাপে। পুর্তগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও স্বাগতিক রাশিয়ার সেনশেসন ড্যানিশ চেরিশেভ থাকলেও সেই তালিকায় নেই মেসি ও নেইমার। এই তালিকা করতে সেরা দশ দল বেছে নিয়ে প্রত্যেক দল থেকে মাত্র একজন করে খেলোয়াড় নির্বাচনের শর্ত মানা হয়েছে।

কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) : শীর্ষ দশে ফ্রান্সের কয়েকজন খেলোয়াড় গ্রিয়েজম্যান, কান্তে ও রাফায়েল ভারান থাকতে পারতেন। কিন্তু নিয়মের বেড়াজালে তাদের বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত বেছে নিতে হয়েছে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ গতি, নৈপুণ্য, ভয়ডরহীন খেলায় অনন্য ছিলেন রাশিয়ায়।

লুকা মডরিচ (ক্রোয়েশিয়া) : টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় হয়ে জিতেছেন গোল্ডেন বল। ফাইনালে ক্রোয়াট রূপকথার সফল সমাপ্তি টানতে পারেননি। বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে আবির্ভূত ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মডরিচ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। দলে ইভান র্যাকিটিচ ও পেরিসিচও তালিকায় আসেননি একজনকে নেয়ার নিয়মে।

কেভিন ডি ব্রুইন (বেলজিয়াম) : ম্যানচেস্টার সিটির এই খেলোয়াড় রাশিয়ায় দেখিয়েছেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার বলা হয়। তার নিখুঁত পাস রোমেলু লুকাকু ও ইডেন হ্যাজার্ডকে ধ্বংসাত্মক করে তুলেছিল যথারীতি। ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখায় সুযোগ পেয়েছেন সেরা দশে।

কিয়েরান ট্রিপিয়ের (ইংল্যান্ড) : হ্যারি কেন গোল্ডেন বুট জিতলেও তার কাছ থেকে যেমনটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তিনি সেটি পূরণ করতে পারেননি। ইংল্যান্ড দলের লেফট ব্যাক বিশ্বের অন্যতম সেরা রক্ষণসৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রাশিয়ায়। বিশেষ করে সেট-পিসে অনন্য ছিলেন ট্রিপিয়ের। পুরো টুর্নামেন্টেই ইংল্যান্ডের ভরসার প্রতিক ছিলেন তিনি।

ফিলিপে কুতিনহো (ব্রাজিল) : বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবাই নেইমারকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। সেটিকে ছাপিয়ে সবার নজর কাড়লেন কুতিনহো। বিশ্বকাপের শুরু থেকে নিজের জাত চিনিয়েছেন। গোল করেছেন, করিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তার গোলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ইয়েরি মিনা (কলম্বিয়া) : হামেস রদ্রিগেজ ছিলেন ইনজুরিতে। গেল বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা হামেস এবার পারলেন না নিজেকে প্রমাণ করতে। অভিজ্ঞ রাদামেল ফ্যালকাও আলো জ্বালতে ব্যর্থ। তাদের ব্যর্থতার মাঝে সেন্টার ব্যাক মিনা নিচের থেকে ওপরে উঠে এলেন। তিনটি গোল করে কলম্বিয়াকে নিয়ে গেলেন শেষ ষোলতে।

দিয়েগো গোডিন (উরুগুয়ে) : উরুগুইয়ান ডিফেন্সের মহাপ্রাচীর ছিলেন গোডিন। দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যেতে তার ভূমিকা ছিল অবিশ্বাস্য। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে ওখানে হারতে হলো বলে থামলো গোদিনের জাদু। তবে ওয়ার্ল্ড সকারের মতে, এই মুহূর্তে সম্ভবত বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার গোডিনই।

দেনিস চেরিশেভ (রাশিয়া) : স্বাগতিক রাশিয়াকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউ গোনায় ধরেনি। প্রথম রাউন্ড পেরোনের কথাও চিন্তা করেনি। অথচ তারা উঠে গেলেন দ্বিতীয় রাউন্ড পেরিয়ে কোয়ার্টারে। সেখান ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারতে হয়েছে টাইব্রেকারে। প্রথম ম্যাচেই সৌদির বিপক্ষে দৃষ্টি কেড়েছেন চেরিশেভ। টুর্নামেন্টে করেছেন চারটি গোল।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) : শেষ ষোলতেই শেষ পর্তুগালের যাত্রা। উরুগুয়ের কাছে হার। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকে অসাধারণ কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছিলেন রোনালদো। ৩-২ গোলে পিছিয়ে দল। শেষ মুহূর্তে একেবারে বক্সের কাছে রোনালদো ফাউলের শিকার। ফ্রিকিক থেকে দেখার মতো একটা গোল করে দেশকে বাঁচালেন, হ্যাটট্রিকও হলো। মরক্কোর বিপক্ষে জয়সূচক গোলটিও তার।

আন্দ্রিয়াস গ্রাঙ্কভিস্ট (সুইডেন) : সুইডেন দলের নেতা মানতে হবে গ্রাঙ্কভিস্টকে। গ্রুপের শীর্ষ দল হতে এবং দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিতে হাত রয়েছে এই ডিফেন্ডারের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ আটে হারতো হলো। দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করা ছাড়াও ডিফেন্সিভ কাজেও দলের অতুলনীয় খেলোয়াড় ছিলেন।


আরো সংবাদ