২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

স্বপ্নের ফাইনালে ফ্রান্স

স্বপ্নের ফাইনালে ফ্রান্স - ছবি : সংগ্রহ

বেলজিয়ামকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে গেল ফ্রান্স। মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে গ্রিয়েজম্যান-এমবাপ্পেরা ১-০ গোলে হারিয়েছে হ্যাজার্ড-লুকাকুদের। ম্যাচের ৫১ মিনিটে হেডে গোল করেন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার স্যামুয়েল উমতিতি।

ম্যাচের শুরুতে ২৫ মিনিট পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও এরপর আর ফ্রান্সের দুর্দান্ত গতির সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেনি বেলজিয়াম। সেই সাথে হ্যাজার্ড, লুকাকুদের কড়া পাহাড়ায় রেখেছে ফ্রান্সের ডিফেন্ডাররা। যার ফলে তারা কোন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

প্রথমার্ধের যে পচিশ মিনিট বেলজিয়াম আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে, তার কৃতিত্ব অধিনায়ক হ্যাজার্ডের; কিন্তু এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি চেনা ছন্দে। মাঝমাঠের তাই নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে ফরাসিদের হাতে, বিশেষ করে পল পগবা ছিলেন ফ্রান্সের মাঝমাঠের আক্রমণ তৈরির প্রধান নায়ক। বেলজিয়ামের স্ট্রাইগার রোমেলু লুকাকুকে খেলার জায়গায়ই দেয়নি ফরাসি ডিফেন্ডাররা। করা পাহাড়ায় রাখা হয়েছে তাকে পুরো নব্বই মিনিট। আর এই পরিকল্পনার ফলটাও পেয়েছে ফ্রান্স। পৌছে গেছে ফাইনালে।

এই জয়ের ফলে ১৯৯৮, ২০০৬ সালের পর আবারো ফাইনালে গেল ফ্রান্স। ৯৮তে দেশের মাটিতে শিরোপা জিতলেও ২০০৬ সালের ফাইনালে তারা পরাজিত হয়েছিলো ইতালির কাছে।

৭৪ দেখায় বেলজিয়ামের জয় ৩০টি, ফ্রান্সের ২৪টি। ড্র ১৯টি। এটি ছিল ফ্রান্সের ষষ্ঠ সেমিফাইনাল। আর বেলজিয়ামের দ্বিতীয়। আগের পাঁচ সেমিফাইনালের তিনবারই হারে ফ্রান্স। ফাইনালে উঠে ১৯৯৮ সাল ও ২০০৬ সালে। অন্য দিকে বেলজিয়াম বিশ্বকাপ সেমিতে খেলেছে একবারই, ১৯৮৬ সালে। এবার বেলজিয়ামের স্বপ্নভঙ্গ করে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার স্বপ্ন বহাল রাখে ফ্রান্স।

১৯৯৮ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হয়ে সেবারই প্রথম ও শেষবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছে ফ্রান্স। বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশ্যম ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন। এবার কোচ হিসেবে এগিয়ে গেলেন দ্বিতীয় শিরোপার দিকে। ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলা ১৫ জন খেলোয়াড়ই ছিলেন বেলজিয়াম দলে। অভিজ্ঞতার আলোকে মাঠে নামলেও শেষ হাসি হাসতে পারেননি বেলজিয়ামের স্কোয়াড।

মস্কোর লুঝিনিকে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এ ম্যাচে ফরাসি একাদশে ফিরেছেন মাতুইদি। অন্য দিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে বেলজিয়াম একাদশে নেই টমাস মুনিয়ের। শুরুতে মাঠ গুছিয়ে উঠতে পারেনি ফ্রান্স। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিট থেকেই একের পর এক আক্রমণ শানায় বেলজিয়াম। একাধিক সুযোগ পেলেও ল্যভেদ করতে পারেননি হ্যাজার্ডরা। কিছুক্ষণ পর মাঠ গুছিয়ে পরিকল্পিত আক্রমণে যায় ফ্রান্স। গ্রিজম্যান, এমবাপ্পেরা সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু কাক্সিক্ষত গোল পায়নি। দুই দলকেই গোল হজম থেকে বাঁচিয়েছেন দুই দলের গোলরক। প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের কাছে ৬০ শতাংশ এবং ফ্রান্সের কাছে ৪০ শতাংশ বল ছিল।

১৩ মিনিটে পগবার বাড়ানো বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে। দুই মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে হ্যাজার্ডের কোনাকুনি শট পোস্টের কয়েক ইঞ্চি দূর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ১৮ মিনিটে মাতুইদির শট রুখে দেন বেলজিয়ামের কিপার কোর্তোইজ। ১৯ মিনিটে হ্যাজার্ডের শট গোলমুখ থেকে মাথা দিয়ে রুখে দেন ফ্রান্সের উমতিতি। ২২ মিনিটে বেলজিয়ামের আলদারের নজর কাড়া শটটি রুখে দেন ফ্রান্সের কিপার লরিস। ২৩ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গিরুদের শট কোনোমতে পা দিয়ে রক্ষা করেন বেলজিয়ামের কিপার। ৩১ মিনিটে ফের গোলের সুযোগ নষ্ট করেন গিরুদ। ৪০ মিনিট থেকে প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত বল ছিল ফ্রান্সের দখলে। এমবাপ্পে ও ডি ব্রুইনের দু’টি গোলের সুযোগ নস্যাৎ করে দেন বেলজিয়ামের কিপার কোর্তোইজ। গোলশূন্য থেকে বিরতিতে যায় উভয় দল।

দ্বিতীয়ার্ধে আরো বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে ফ্রান্স। কম যায় না বেলজিয়ামও। ৫১ মিনিটে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। গ্রিজম্যানের কর্নার থেকে শূন্যে লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডটি করেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি। তাকে রুখতে পারেননি দীর্ঘদেহি ফেলাইনি এবং তার বলটি রুখতে পারেননি গোলরক্ষক কোর্তোইজ (১-০)। এরপর কমপক্ষে তিনটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন লুকাকু, ফেলাইনি ও ডি ব্রুইন। ৬৪ ভাগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বল রেখেও কাজের কাজটি করতে পারেনি বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা। অবশ্য এ সময় ফাউলের পরিমাণও বেশি হতে থাকে। ৮০ মিনিটে হ্যাজার্ড বল মিস করলে বদলি খেলোয়াড় মার্টিনেজের বুলেট গতির শট রুখে দেন ফ্রান্সের কিপার লরিস। ৮৮ মিনিটে খেলায় সমতা আনার সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন লুকাকু। শেষ দিকে কয়েকটি গোলের সুযোগ পেলেও ব্যর্থ হয় ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলেও শিরোপা স্বপ্নে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।

আরো পড়ুন :

রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে দিলেন রোনালদো
অবশেষে গুঞ্জনই সত্যি হলো। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। মঙ্গলবার খবরটি নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। জুভেন্টাসের সাদাকালো ডোরাকাটা জার্সিতে তুরিনের স্টেডিয়ামে রোনালদোকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।

প্রায় সপ্তাহজুড়ে চাউর হয়ে উঠেছিল রোনালদোর জুভেন্টাসে যাওয়ার গুঞ্জন। বিশ্বের সব ফুটবলপ্রেমী দেখার অপেক্ষায় ছিল, পর্তুগিজ যুবরাজের দলবদলের গুঞ্জনটি সত্য হয় কি না। অবশেষে মঙ্গলবার সব অঙ্কই মিলে গেল। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে রোনালদো এখন জুভেন্টাসের দখলে।  মঙ্গলবার রিয়াল মাদ্রিদ বোর্ড সভায় ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে রোনালদোর বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা।

আনুষ্ঠানিক ঘোষনার এক ঘণ্টা আগেই রোনালদো যে রিয়াল ছাড়ছেন, সেটা নিশ্চিত করেছেন স্কাই স্পোর্টসের রিপোর্টার জিয়ানলুকা ডি মার্জিও। দলবদল-সংক্রান্ত সংবাদের ক্ষেত্রে এ সাংবাদিকের টুইট খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নেন সবাই। সেখানেই বলা হয়েছিল, মঙ্গলবার রিয়ালের পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। সভাপতি রোনালদোর ক্লাব ছাড়ার অনুরোধ এরই মাঝে মেনে নিয়েছেন। এবং পরিচালকেরাও নাকি এতে সম্মত হবেন। আগামী কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিকতা।

রোনালদো বর্তমানে গ্রিসে ছুটি কাটাচ্ছেন। সেখানে রোনালদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ইতিমধ্যে বেরিয়ে পড়েছেন জুভেন্টাস চেয়ারম্যান আন্দ্রেয়া আগনেল্লি। রিয়ালের অনুমতি মেলার পরই গ্রিসে যাচ্ছেন আগনেল্লি!

২০০৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ওই সময়ের রেকর্ড ট্রান্সফার ফি ৯ কোটি ইউরোতে রিয়ালে যোগ দেওয়া রোনালদো ক্লাবটির হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও দুটি লা লিগাসহ  জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা।

তুরিনের বুড়িদের দলে নাম লেখানোর আগমুহূর্তে রিয়ালের জার্সিতে রোনালদোর অর্জনগুলো একটু দেখে নেওয়া যাক-


আরো সংবাদ