১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

স্বাগতিকদের কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

সেমিফাইনালে পৌছে গেল ক্রোয়েশিয়া - ছবি : সংগ্রহ

দারুণ জমজমাট এক লড়াইয়ের পর শেষ হলো বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ রাশিয়ার স্বপ্নযাত্রা। সোচিতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের এই ম্যাচে তারা শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায়। রাশিয়াকে বিদায় করে দিয়ে সেমিফাইনালে পৌছে গেল ক্রোয়েশিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াই দর্শকদের দিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বীতপূর্ণ ফুটবলের আমেজ। আর রাশিয়ার খেলা বারবারই মনে করিয়ে দিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেনকে বিদায় করে দেয়ার স্মৃতি। যদিও এবার তারা সফল হতে পারেনি, তবু মাথা উচু করে বিদায় নিয়েছে চেরিশেভরা।

বিশ্বকাপের সর্বশেষ পাঁচ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সব স্বাগতিক দেশই খেলেছে শেষ চারে। ১৯৯০ সালে ইতালি, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স, ২০০২ সালে কোরিয়া ও ২০১৪ সালে ব্রাজিল। শনিবার ইতিহাসের সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার পরীক্ষায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সোচিতে মাঠে নেমেছে স্বাগতিক রাশিয়া। তবে সফল হয়নি দলটি। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ও অতিরিক্ত সময়ে ২-২ গোলে ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে স্বাগতিক রাশিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। সেমি ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া আগে তিন দেখায় দুইবার ছিল গোলশূন্য ড্র, একবার জয় ক্রোয়েশিয়ার। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এই প্রথমবারের মতো কোয়ার্টারে উঠেছিলো রাশিয়া। ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে এসে ক্রোয়েশিয়া সেমিফাইনালে উঠেছিল জার্মানিকে হারিয়ে। এর আগে বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দু’টি ম্যাচই খেলে হেরেছিল ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের কাছে সেমিফাইনালে ২-১ গোলের পর গত আসরে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের কাছে ৩-১ গোলে হারে তারা। এবার আর তা হয়নি। টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হলো স্বাগতিকদেরই। ২০ বছর পর সেমিফাইনালের টিকিট পেল ক্রোয়েশিয়া।

সোচিতে ম্যাচ শুরুর প্রথম কয়েক মিনিট রাশিয়ার প্রান্তে বল নিয়ে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল ক্রোয়েশিয়া। ৬ মিনিটে আন্তে রেবিচের শট ইগোর আকিনফেভ ব্যর্থ করে দেন। কিছুণ পর মারিও মানজুকিচ ৮ গজ দূর থেকে শট নিলেও ল্যভ্রষ্ট হয়। সোচির গ্যালারি উৎসবে মাতে ঘড়ির কাঁটা আধঘণ্টা পার হওয়ার পরই। গত দুই ম্যাচে মাত্র একটি করে শট নেয়া রাশিয়াকে চমৎকার গোলে এগিয়ে দেন চেরিশেভ। ৩১ মিনিটে দিজুইবার দারুণ অ্যাসিস্টে বল পায়ে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলপোস্টের বাঁ দিক দিয়ে জালে জড়ান ভিয়ারিয়াল স্ট্রাইকার। ডেনমার্কের বিপে শেষ ষোলোতে দারুণ সব সেভ করা সুবাসিচ বল ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি (১-০)। বিশ্বকাপের চলতি আসরে এটি তার চতুর্থ গোল। মাত্র ৮ মিনিটই জয়ের আনন্দ ধরে রাখতে পেরেছে রাশিয়া। ৩৯ মিনিটে হেড থেকে দারুণ এক গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচে ফেরান আন্দ্রে ক্রামারিচ (১-১)। চলতি আসরে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে সপ্তম গোল স্কোরার তিনি। সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় উভয়দল।

দ্বিতীয়ার্ধে আরো বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু কোনোভাবেই রাশিয়ার জালে বল পাঠাতে পারছিল না তারা। একে তো গত ম্যাচের সেরা পোস্টের নিচে রাশিয়ার বীর খ্যাত আকিনফিভ অপর দিকে ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ডদের ভুল। রাশিয়া মাঝে মধ্যে আক্রমণে গেলেও এলোমেলো শটে বিপদমুক্ত থাকে ক্রোয়েট শিবির। ৪৭ মিনিটে ক্রামারিক ও রেবিকের আদান প্রদানে ফাঁকায় থাকা পারসিককে বল দিলেও তিনি সেটি পাঠান বারের উপর দিয়ে। ৫৩ মিনিটে রাকিটিচ একাই বল নিয়ে ঢুকে পড়েন শত্রু শিবিরে। মান্দজুকিচকে বাড়ালে কোনাকুনি শট করেন। গোলমুখ থেকে ফিরান আকিনফিভ। পাল্টা আক্রমণে ৭১ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারান গোলেভিন। পেনাল্টি সীমানা থেকে বল পাঠান বারের বাইরে দিয়ে।

এরপরই মূলত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ৬৬ ভাগ বলছিল ক্রোয়েটদের দখলে। শটও নিয়েছে ১৬টি। বিপরীতে রাশিয়ায় ৩৪ ভাগ পায়ে রেখেছে বল আর শট নিয়েছে সাতটি। অতিরিক্ত সময়ে কিছুটা কৌশলের আশ্রয় উভয়দল। পাল্টা আক্রমণের দিকেই নজর ছিল বেশি। তাতেই অতিরিক্ত সময়ের ১০ মিনিটে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। মদ্রিচের থ্রো থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল আদায় করে নেন ডিফেন্ডার দোমাগোজ ভিদা (২-১)। স্থায়ী হয়নি ক্রোয়েটদের খুশি। দ্বিতীয়ার্ধে ১১৫ মিনিটে দিজাগোয়েভের ফ্রি কিকে ফার্নান্দেজের মাথা ছুঁইয়ে ম্যাচে সমতা আনে রাশিয়া (২-২)।

টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার রোজোভিক, মদ্রিচ, ভিদা ও র‌্যাকিটিচ গোল করলেও মিস করেন কোভোচিচ। অপর দিকে রাশিয়ার দিজাগোয়েভ, ইগনাশেভিচ ও কুজায়েভ গোল করলেও মিস করেন স্মোলোভ ও ফার্নান্দেজ।


আরো সংবাদ