১৯ নভেম্বর ২০১৮

আনন্দ নয়, বিশ্বকাপ যখন আতঙ্কের

ফুটবল
ছবিতে হামলাস্থলে একজন তদন্তকারীকে দেখা যাচ্ছে। - ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ ফুটবল সবার জন্যই বড় উৎসবের সময়, কিন্তু উগান্ডায় সেটি যেন এক দুঃস্বপ্নের স্মৃতিচারণ। ২০১০ সালে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখার সময় এক বোমা হামলায় ৭০ জন নিহত হন।

উগ্রপন্থী গ্রুপ আল-শাবাব ওই হামলা দায় স্বীকার করেছিল। হামলার আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অনেকে সেই হামলার ভীতি বহন করছেন।

ওই বোমা হামলার জীবিতদের একজন ব্রেন্ডা নানইয়োনজো। তিনি বলেছেন, ‘আমার চেয়ারের পাশেই রক্ত দেখতে পাই, আমার বাম দিকে। আমি মনে করেছিলাম এটা অন্য কারো, কিন্তু আমি জানতাম না, আসলে সেটি আমারই রক্ত। এরপরই লক্ষ্য করি, মানুষের শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ আমার চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। আমি তখন শুধু নিজের শরীর থেকে সেগুলো পরিষ্কার করার চেষ্টা করছিলাম।’

একটি রাগবি ক্লাব আর ইথিওপিয়ান রেস্তোরাঁয় সোমালি উগ্রবাদী গ্রুপ আল শাবাবেব ওই হামলায় অসংখ্য মানুষ নিহত হন।

উগান্ডা আর ইথিওপিয়া যৌথভাবে সোমালিয়ায় উগ্রবাদবিরোধী যে অভিযান পরিচালনা করছিল, তার জবাব দিতেই তাদের ওই হামলা।

আর তখন বেশিরভাগ মানুষ ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা উপভোগ করছিল।

বোমা হামলার ওই ঘটনা ব্রেন্ডাকে আরো দৃঢ় সংকল্প করে তুলেছে। কিন্তু তিনি স্বীকার করেন, পুরো ঘটনাটি এখনো তাকে আতঙ্কিত করে তোলে।

তিনি বলছেন, ‘কোথাও বড় ভিড় থাকলে আমি সেখানে যেতে বা ঠিকভাবে আনন্দ করতে পারি না। এটা আমার জন্য একটি বড় সমস্যা। আমি জানি না, এটা আমি কখনো কাটিয়ে উঠতে পারবো কিনা।’

দেশটির বেশিরভাগ মানুষের এখনো সংশয় আছে যে, এরকম বড় হামলা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি প্রস্তুত কিনা।

ফুটবল ভক্ত ৭০ বছরের রোমান কানয়োরো বলছেন, ‘২০১০ সালের আগে, এরকম সব এলাকা যেন ফুটবলের গ্যালারি হয়ে যেত, সবাই এসে খেলা দেখত। কিন্তু এখন আপনি যেখানেই যান, যদি ট্যাক্সি খুঁজতে যান, কাউকে দেখতে পাবেন না। সবাই খেলা দেখতে বাড়িতে চলে গেছে।’

পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমিলিয়ান কায়িমা বলছেন, ওই বোমা হামলার ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাদের সক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছে।

তিনি উগান্ডার নাগরিকদের প্রতিও অনুরোধ করেন যে, যেন তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সহায়তা করেন।

মিস্টার কায়িমা বলেছেন, ‘আমি অনুরোধ করি, যাতে পুলিশের মতো স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক থাকে। যেকোনো সমাবেশেই, সেটা ধর্মীয় সমাবেশ হলেও সবাইকে পরীক্ষা করতে হবে। যদি সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়, তাহলে আমরা আগে পদক্ষেপ নিতে পারবো। ফলে এ ধরণের ঘটনা এড়ানো যাবে।’

আল শাবাবের নতুন কোনো হামলা ঠেকানো শুধুমাত্র উগান্ডানদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাদের পশ্চিমা মিত্র, যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রিটেনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। এই মহাদেশে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তারাও বেশি মরিয়া।

তবে এতকিছু সত্ত্বেও ব্রেন্ডার মতো অনেকে এখনো ফুটবল ভালোবাসে। তিনি তার তিন বছরের মেয়ে, যারাকেও ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ ক্লাসে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। ফুটবল নিয়ে মেয়ের আনন্দের যেন সীমা নেই। সূত্র: বিবিসি

আরো পড়ুন :

ঘাটাইলে বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা, ১৮ জুন ২০১৮
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চলতি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের রুপেরবয়ড়া (বয়ড়ার মোড়) নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ৮জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত দুই জনকে ভুঞাপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় তাদের বাড়িঘরেও ভাংচুর চালানো হয়।

ভুঞাপুর উপজেলার বাহাদিপুর গ্রামের লোকজন ঘাটাইল উপজেলার রুপেরবয়রা গ্রামে প্রবেশ করে রাতের আঁধারে এই হামলা করে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

জানা যায়, চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার সমর্থিত দেশের পতাকা উত্তোলন এবং পতাকা ছিঁড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক একটার দিকে একদল উশৃঙ্খল ফুটবল সমর্থক ঘাটাইলে উপজেলার রুপেরবয়ড়া গ্রামের লোকজনের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ৮ জন আহত হয়, এদের মধ্যে গুরুতর আহত দুই জনকে ভুঞাপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়।

গুরুতর আহতরা হল- বছির উদ্দিনের ছেলে দুলাল মিয়া (৩৮), ছাত্তারের ছেলে শিশু ছেলে হৃদয় (৬)। দুইজনকে ভুঞাপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: ফজলু মিয়া জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে শুরু থেকেই একটা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

গতরাতে ব্রাজিল-সুইজারল্যান্ড খেলা নিয়ে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ভুঞাপুর উপজেলার বাহাদিপুর গ্রামের একদল উশৃঙ্খল ফুটবল সমর্থক রাতের আঁধারে হামলা চালালে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।’

লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরিফ হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমি সাথে সাথেই এলাকায় গিয়ে উত্তেজনা নিরসনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি।’

ঘাটাইল থানা পুলিশ জানায়, আমরা ঘটনার খবর শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরো সংবাদ

সকল