২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অসুস্থ মায়ের জন্য অবসর নিলেন 'ইরানের মেসি'

বিশ্বকাপ, আজমুন, ইরান
মাকে আদর করছেন আজমুন - সংগৃহীত

মায়ের সম্মানের কথা চিন্তা করে মাত্র ২৩ বছর বয়সে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্বান্ত নিলেন ইরান ফুটবল দলের স্ট্রাইকার সরদার আজমুন। দেশের হয়ে ৩৬ ম্যাচে এখন পর্যন্ত ২৩ গোল করা আজমুনকে ‘ইরানের মেসি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চলতি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে ছিল ইরান। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তিন খেলায় একটি করে জয়-ড্র হারে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে ইরান। মরক্কোর বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতলেও একই ব্যবধানে স্পেনের কাছে হার মানে তারা। আর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে ইরান।

এর পরই দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় দলের সমালোচনায় মেতে ওঠে; যা ভালো লাগেনি আজমুনের। যার ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাই দিয়ে ফেললেন তিনি।

 

আজমুন বলেন, ‘ইরানের কিছু মানুষ আমাকে এবং দলের অন্যান্য খেলোয়াড়ের খুব বাজেভাবে গালিগালাজ করেছে; যা শুনে আমার মা অসম্মানিতবোধ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এটি মোটেও প্রত্যাশিত ছিল না। তাই আমার মায়ের সম্মান ও তার শরীরের কথা ভেবে জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।’

এভাবে অবসর নেয়ার সিদ্বান্তটা হৃদয়বিদারক বলে মনে করেন আজমুন নিজেও। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে যথেষ্ট ভালো খেলেও আমাদের বাজে কথা শুনতে হচ্ছে। শুধু আমরা খেলোয়াড়রাই নই, আমাদের পরিবারকে শুনতে হচ্ছে। এভাবে অবসর নেয়াটা সত্যিই যন্ত্রণাদায়ক।’

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ইরানের হয়ে ১১ গোল করেছিলেন আজমুন। তবে বিশ্বকাপের মূল আসরে গ্রুপ পর্বে কোনো গোলই করতে পারেননি তিনি।

 

আরো পড়ুন : আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স : একাদশে জায়গা হবে কাদের

গ্রুপ ডি থেকে ফেভারিট ছিল আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া। এই দুটি দলই দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু দুটি দেশ দুই রকম উপায়ে। পূর্ব ইউরোপের ক্রোয়েশিয়া নিজেদের তিনটি ম্যাচের তিনটিতেই জয়ী হয়ে শতকরা শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপ ফেভারিট হিসেবে আর্জেন্টিনার সহজেই দ্বিতীয় পর্বে যাওয়াটা ধরেই নিয়েছিলেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা এবং পৃথিবীজুড়ে তাদের ভক্ত-সমর্থকেরা। কিন্তু সাম্পাওলির দলের কিছুটা অগোছালো পারফরম্যান্স তাদেরকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল অনেক হিসাবের সামনে। শেষ পর্যন্ত সে সব হিসাব-নিকাশ ও পাহাড়কে ডিঙিয়ে আলবেসেলেস্তেরা জায়গা করে নেয় দ্বিতীয় পর্বে। নক-আউট পর্ব বা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেসির আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে পগবার ফ্রান্সের।

ঘুরে দাঁড়ানো আর্জেন্টিনা এবং হিসেবি ফ্রান্স এখনো নিজেদের ক্ষমতা নিয়ে পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত নয় যে, তারা ১৫ জুলাই রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা নিয়ে উৎসব করতে পারবে কি না। তবে আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে বেশ কিছু অনিশ্চয়তা ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এই বিশ্বকাপে মোকাবেলা করে সামনে এগিয়েছে। তাই তাদেরকে ফ্রান্সের বিপক্ষে কিছুটা এগিয়ে থাকতেই দেখা যাবে। তবে গ্রুপ থেকেই অনেকটা হিসেবি ফুটবল খেলা ফ্রান্সকে দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরো একটু মেলে ধরতে হবে, না হলে নিজেরাই বিপদের সম্মুখীন হবে। নিজেদের গ্রুপ থেকে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হলেও তারা দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং একটিতে ড্র করেছে। পয়েন্ট টেবিলে তারা সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও গ্রুপ পর্বে মাত্র তিনটি গোল করতে পেয়েছে গ্রিজম্যান, জেরু, এমবাপ্পে ও ডেম্বেলের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও।

অপরদিকে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মার্কাস রোহর ভলির দরকার হয়েছিল জয়ের জন্য। নিজেদের গ্রুপ থেকে শীর্ষস্থান অর্জন করে দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিলে সেই দেশকে নিয়ে উচ্চাশা বা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক; কিন্তু ফ্রান্সের বেলায় তেমনটি ভাবা যাচ্ছে না। তারা অনেক হিসেবি এবং লড়াকু ফুটবল খেলে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। নিজেদের তিন ম্যাচ থেকে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিলেও ফ্রান্সের খেলা তাদের ভক্ত-সমর্থকদের মনমতো বিবেচিত হয়নি। ফ্রান্সের যে খেলোয়াড়দের রাশিয়া বিশ্বকাপে আগুন ঝরানোর কথা ছিল তারা নিজেদের তেমনভাবে প্রকাশই করতে পারেনি। লেস ব্লুসরা তাদের গ্রুপে একমাত্র পেরুর বিপক্ষে নিজেদের ক্লাস দেখাতে সক্ষম হয়েছিল; কিন্তু সকারুজদের বিপক্ষে তাদের দুটি গোলই ছিল বিতর্কিত একটি পেনাল্টি থেকে এবং একটি আত্মঘাতী গোল ছিল।

তিনটি অর্ধ বা সপ্তাহ কেটে গেছে যখন ফ্রান্স তাদের সর্বশেষ গোল করেছিল। দিদিয়ের দেশম অবশ্য নিজের দলের এই অবস্থা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয়। তার সব চিন্তা ৯৮ বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয়বারের মতো দেশকে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেয়া। তার দলে প্রতিভা বা তারকা ফুটবলারের বেশ প্রাচুর্য আছে। বর্তমান বিশ্বফুটবলে ফ্রান্সেরই সবচেয়ে বেশি ফসল বা ফুটবল তারকা আছে; কিন্তু এটি নিশ্চিত করে বলা যায় ফ্রান্সের তারকারা গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সব সময় যে সুসংহত ও শক্তিশালী জয় নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দেয় না।

আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের লড়াইয়ে যে দেশ জয়ী হবে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল কিংবা উরুগুয়ের মুখোমুখি হতে পারে যা তাদের সামনে আরো ক্ষয়কারী লড়াই হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশমের দলে বেশির ভাগই ফ্রান্স ২০ কিংবা ২৩ দলের সদস্য। যারা বিভিন্ন পর্যায় ঘুরে এখন জাতীয় দলে। দেশমের সামনে এখন বড় চিন্তা হলো আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে একাদশ গঠন করা, যারা অনেক সমালোচনা ও হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা দুই দেশ নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করবে। শনিবারের ম্যাচে ফ্রান্সকে তাদের ইচ্ছার আরো প্রকাশ ঘটাতে হবে এবং নিজেদের খেলায় আরো উন্নতি ঘটাতে হবে। কেন জানি আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে দেশমের দলের বিপক্ষে একটি ভালো করার বাতাস বয়ে চলেছে। দেশম ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে সে একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসে। তাই এটি বলা যায় না আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কাজান এরিনায় ফ্রান্সের কোন ফুটবলাররা একাদশে থাকবে। হুগো লরিস গোলবারের নিচে আবার ফেরত আসবে। রক্ষণভাগে স্যামুয়েল উমতিতি এবং মাঝমাঠে পল পগবার খেলা নিশ্চিত। আক্রমণভাগে কিলিয়েন এমবেপ্পে ফেরত আসতে পারেন উসমান ডেম্বেলের স্থানে। ওলিভার জিরু খেলার শুরু থেকেই না থাকতে পারে এবং এন্টনিও গ্রিজম্যান আক্রমণভাগের মাঝে স্থান পেতে পারেন। নাবিক ফেকিরকে একাদশে দেখা যেতে পারে শুরু থেকেই। বেঞ্জামিন পাভার্ডের পরিবর্তে জিব্রেল সিদিবেকে দেখা যেতে পারে। নিজেদের সর্বশেষ ছয়টি ম্যাচে ফ্রান্স চারটিতে জয় পেয়েছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

ফ্রান্স যদিও গ্রুপ পর্ব থেকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিয়েছে; কিন্তু আর্জেন্টিনার বেলায় সেটি মোটেও ছিল না এবং তাদেরকে নিজেদের শেষ ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটি গোলের দরকার ছিল শেষ ষোলতে আসতে। আর্জেন্টিনার বেলায় বেশির ভাগ সময়ই তাদের ও বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসির খেলা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সার্জিও অ্যাগুয়েরোর খেলা গোলরক্ষক উইলি কারবালোর কিছু ছেলেমানুষী ভুল এবং মার্কাস রোহর শেষ মুহূর্তের গোল গ্রুপ পর্বে এই ছিল আর্জেন্টিনা; কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোহর গোল সাম্পাওলিকে যেন কারাগার থেকে বের করে দ্বিতীয় পর্বে এনেছে। লে আলবেসেলেস্তেদের ভক্ত- সমর্থকেরা তাদের প্রিয় দলের খেলা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট ছিল না। তারা আশাই করেনি মেসি যে দলে আছে তাদেরকে এভাবে শেষ ষোলোতে আসতে হবে। তারা নিজেদের ধারা থেকেও কিছুটা নিচু ছিল; কিন্তু নাইজেরিয়ার বিপক্ষে একটি জয় পুরো দলকে একত্র করেছে এমনটিই দেখা যাচ্ছে।

সাম্পাওলি এবং ফুটবলারদের মাঝের সম্পর্ক নিয়ে এখনো সন্দেহ আছে। কোচ সাম্পাওলি তার চাকরি হারানোর খুব কাছেই ছিল; কিন্তু রোহর গোল নাইজেরিয়ার বিপক্ষে সেটি প্রতিহত করেছে। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের মনে হচ্ছে শেষ চেষ্ট করতে প্রস্তুত বিশ্বকাপ শিরোপার জন্য। ফ্রান্সের বিপক্ষে সার্জিও অ্যাগুয়েরোকে আক্রমণভাগে আবার দেখা যেতে পারে। গঞ্জালো হিগুয়েনের ফর্ম খুব ভালো না থাকায়। ফ্রাংকো আরমানি একাদশে তার জায়গা ধরে রাখবে। এঞ্জেল ডি মারিয়ার একাদশে থাকা নিয়েও সন্দেহ করা হচ্ছে। তার জায়গায় আসতে পারে পাওলো দিবালা। যদিও জুভেন্টাসের এই স্ট্রাইকার মেসির পজিশনে খেলে থাকেন এবং তাদের খেলার ধরনও এক। আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ ছয় ম্যাচের তিনটিতে জয় পেয়েছে দু’টিতে পরাজিত হয়েছে এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের কাজান এরিনায় শনিবারের ম্যাচটি হবে ১২তম ম্যাচ। আর্জেন্টিনা এর মধ্যে জয় পেয়েছে ছয়বার এবং ফ্রান্স দুইবার ও তিনটি খেলা ড্র হয়েছে। শনিবারের খেলাটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকতে পারে। তবে জয়ের জন্য আর্জেন্টিনা বেশি চেষ্টা করবে; কিন্তু টাইব্রেকারে ফ্রান্সের জয়েরই সম্ভাবনা বেশি এমনটিই মনে করেন ফুটবল পণ্ডিতেরা; কিন্তু আসল ফলাফলের জন্য আমাদের শনিবারের ম্যাচটি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


আরো সংবাদ

সকল