২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শততম গোলের মালিক মেসি

মেসি, বিশ্বকাপ, আর্জেন্টিনা
লিওনেল মেসি - সংগৃহীত

রাশিয়া বিশ্বকাপের শততম গোলটি এসেছে মেসির পা থেকে। মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সাবার্গ স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ‘মাস্ট উইন’ ম্যাচের শুরুতেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন পাঁচবারের বিশ্বসেরা খেতাব জয়ী বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসি। ১৪তম মিনিটে অসাধারণ গোলটি করেন মেসি। রোমাঞ্চকর ওই ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

মেসিকে লক্ষ্য করে এভার বানেগার পাঠিয়ে দেয়া বলটি দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। এরপর নাইজেরিয়ার বক্সে ঢুকে ডান পায়ের অসাধারণ এক শটে গোল করেন মেসি। ওই গেলের মাধ্যমে জর্জ সাম্পাওলির দলটি চাপমুক্ত হবার পাশাপাশি ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি। ডি’গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলে ড্র করা আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-০ গোলে হেরে যায় ক্রোয়েশিয়ার কাছে।

ওই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির নামের পাশে যুক্ত হয়েছে ছয়টি গোল। যার মধ্যে তিনটিই নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। যেগুলো তিনি করেছেন চার বছর আগে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল বিশ্বকাপে।

এবারের আসরের শুরুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্ধুতে থাকা মেসি এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড় থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। পাঁচ গোল দিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ীদের তালিকার শির্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। এক গোল কম দিয়ে এই তালিকার পরের স্থানটি যৌথভাবে দখল করে আছেন যথাক্রমে পর্তুগাল সুপার স্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং বেলজিয়ামের তারকা ফুটবলার রামেলু লুকাকু।

২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে শততম গোলটি আদায় করেছিলেন মেসির তৎকালীন বার্সেলোনা সতীর্থ নেইমার। এরও চার বছর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে শততম গোলটি করেছিলেন মেসিরই আরেক ক্লাব সতীর্থ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।

 

আরো পড়ুন : ৬৬০ মিনিট পর মেসির গোল

ফুটবল বিশ্বকাপে টানা ৬৬০ মিনিট পর অবশেষে গোলের দেখা পেলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি। ২১তম বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ১৪ মিনিটে একক নৈপুণ্যে গোল করেন মেসি। যার মধ্য দিয়ে ৬৬০ মিনিট গোল করতে না পারার খরা কাটলেন মেসি।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে মেসির গোল খড়া শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নাইজেরিয়ার বিপে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে গোল করেছিলেন মেসি। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে মেসির সর্বশেষ গোল।

এরপর গেল বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে অংশ নেন মেসি। গত আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছিল। অতিরিক্তি সময়েও গোলের দেখা পাননি তিনি। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেও গোল বঞ্চিত ছিলেন মেসি। তাই সব মিলিয়ে ৬৬০ মিনিট গোলবঞ্চিত ছিলেন মেসি।

অবশেষে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গোল দিয়ে আবারো বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলের স্বাদ নিলেন বিশ্ব ফুটবলের খুদে জাদুকর মেসি।

 

আরো পড়ুন : সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস ছিল : মেসি

বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে গত মঙ্গলবার রাতের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপা ছিল এমনটাই মনে করেন দলটির অধিনায়ক এবং বার্সেলোনা সুপার স্টার লায়নেল মেসি। মঙ্গলবার ২-১ গোলে নাইজেরিয়াকে হারানোর পর আবেগতাড়িত মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম সৃষ্টিকর্তা আমাদের সাথেই আছেন। আমাদের এখান থেকে বাদ পড়তে দেবেন না।’

শ্বাসরুদ্ধকর ৯০ মিনিটের ওই লড়াইয়ে মেসির দলকে শেষ মিনিটে সফলতা এনে দিয়েছেন মার্কোস রোহো। তার আচমকা শটের গোলেই আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলতে জায়গা পেয়েছে।

শুরুতে মেসির গোলে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী দলটি সেন্ট পিটার্সবার্গে একটা নিখাদ সূচনা করলেও ৫১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নাইজেরিয়া ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনলে একেবারেই ভেঙে পড়ে জর্জ সাম্পাওলির দলটি। রোহোর শেষ মুহূর্তের গোলটি না পেলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হতো মেসির দলকে।

ক্যারিয়ারে এটিই মেসির জন্য সবচেয়ে উত্তেজনাকর ম্যাচ কি না প্রশ্ন করা হলে জবাবে এই বার্সেলোনা সুপার স্টার বলেন, ‘এমন স্নায়ুয়ী ম্যাচ আমি আগে খেলেছি কিনা মনে পড়ছে না। এটি এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছিল, যেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তার মুখে পড়ে যায়।’

কোচ সাম্পাওলি বলেন, ‘পেনাল্টির পর আমরা কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। দ্বিতীয় পর্বে পৌঁছানোর বিষয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ি। অবশেষ এই সমাপ্তিতে আমরা বিমোহিত। খেলোয়াড়রা তাদের হৃদয় দিয়ে খেলেছে। তারা শেষ পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।’


আরো সংবাদ