২১ নভেম্বর ২০১৮

পদত্যাগ করলেন সালাহদের কোচ

মিসর, কুপার
মিসরের দায়িত্ব ছাড়লেন হেক্টর কুপার - সংগৃহীত

যার হাত ধরে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে পা রাখলো মিসর, সেই কোচ হেক্টর কুপার পদত্যাগ করেছেন। বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখতে পায়নি সালাহরা। দলের ব্যর্থতার পর দায়িত্ব ছেড়ে দেন ৬২ বছর বয়সী এই কোচ।

সালাহর নৈপূণ্যে বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করে মিসর। তার ওপর ভরসা করেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে দলটি। কিন্তু ইনজুরির কারণে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি সালাহ। দুই ম্যাচে দুটি গোল করেছেন। কিন্তু দলকে জেতাতে পারেননি।

প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের হার দিয়ে শুরু হয় যাত্রা। দ্বিতীয় ম্যাচে রাশিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হার। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের কাছেও ২-১ ব্যবধানে হারে সালাহর দল। তিন ম্যাচে টানা হারের ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিসর। এরপরই দায়িত্ব ছাড়েন আর্জেন্টাইন কোচ কুপার।

২০১৫ সালে মিসরের দায়িত্ব নেন তিনি। বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সাথে চুক্তি করে মিসর ফুটবল ফেডারেশন (ইএফএ)। দলকে বিশ্বকাপে তুলে দেয়ায় এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কথাও ভাবছিল ফেডারেশন। কিন্তু নতুন এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, কুপারের সাথে মেয়াদ বাড়াতে চায়নি ইএফএ।

 

আরো পড়ুন : সালাহদের হার সহ্য করতে না পেরে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু

আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে মিসরের ঐতিহ্য বেশ প্রসিদ্ধ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে মিসর। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচেও জয় পায়নি তারা। এমনকি শেষ ম্যাচেও সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরেছে সালাহর মিসর। সেই দিনই সালাহদের হারে উত্তেজিত হয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান মিসরের কায়রো জামালেক স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক কোচ ও ধারাভাষ্যকার আবদেল রহিম মোহামেদ।

মিসরের ম্যাচ চলাকালীন আবদেল রহিম মোহামেদের সাথে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন মিসরের সাবেক গোলরক্ষক আহমেদ ফাওজি। তিনিও মর্মাহত হয়েছেন।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ১-১-এ সমতায় ছিল সালাহর মিসর; কিন্তু শেষ মুহূর্তে সৌদিদের গোলে মিসরের কাছ থেকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় এশিয়ান দলটি। আর এই ঘটনাকেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি মিসরের আবদেল। তাতেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

 

আরো পড়ুন : মিসরের হয়ে আর খেলবেন না সালাহ!

সিএনএন

আর খেলবেন না মিসরের হয়ে। এমনটাই জানিয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ। তার ঘনিষ্ঠ একজন সিএনএনকে এ কথা জানিয়েছেন। চেচনিয়ার নাগরিকত্ব নিয়ে উঠা বিতর্কের জেরেই সালাহ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের অনুশীলনের জন্য চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রের রাজধানী গ্রোজনিতে বেইস ক্যাম্প করেছিল মিসর। দুই ম্যাচে হেরে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তারা। তাই শুক্রবার সালাহদের বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছে চেচনিয়ার নেতা রমজান কাদিরভ। এরপরই সালাহকে নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণা দেন কাদিরভ।

সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে কাদিরভ জানান, ‘মোহাম্মদ সালাহ এখন চেচনিয়ার একজন সম্মানিত নাগরিক। আমি সালাহকে এই সম্মান জানিয়ে ফরমান জারি করছি। এবং সালাহকে এর একটি কপি পাঠিয়েছি। এটি উদযাপনের জন্য আমি রাতে মিসরের পুরো দলের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছি।’

রাশিয়ার একটি বার্তা সংস্থার ভিডিওতে দেখা গেছে, নৈশভোজে এ ঘোষণার পর সালাহকে চেচনিয়ার পতাকাযুক্ত একটি মর্যাদাপূর্ণ ব্যাজও পরিয়ে দিচ্ছেন কাদিরভ।

এই ঘটনার পর সমালোচনার মুখে পড়েন সালাহ। কিন্তু তিনি কোনো রাজনীতির অংশ হতে চান না।

মিসরের ফুটবল ফেডারেশন সিএনএনকে পাঠানো এক ই-মেইলে জানিয়েছে, 'তারা খুবই আশ্চর্য হয়েছেন এই কথা শুনে যে সালাহ মিসরের জাতীয় দল থেকে বিদায় নিতে চাচ্ছেন। অথচ এ ব্যাপারে তিনি তাদের জানাননি।'

বিবৃতিতে সংস্থাটি আরো জানায়, 'সালাহ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমাদের জানান। আমরা পুরোদিন সালাহর সাথে ছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কারো সাথে এই ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।'

তারা জানায়, 'আমরা এখানে খেলতে এসেছি। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, আমরা কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করি না। আর যদি তেমন কিছু নিয়ে কথা বলতে হয়, তবে সেটা সরাসরি ফিফার সাথেই বলা উচিত।' (২৫ জুন ২০১৮, প্রকাশিত সংবাদ)


আরো সংবাদ