১৭ নভেম্বর ২০১৮

মিসরীয় গোলরক্ষকের ঈমানদারি আচরণে তোলপাড়

মিসরীয় গোলরক্ষকের ঈমানদারি আচরণে তোলপাড় - ছবি : সংগৃহীত

বক্সের বাইরে থেকে কাভানির দুর্দান্ত শট বাঁচিয়ে দেয়া হোক, কিম্বা দু-দু’বার একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে লুই সুয়ারেজকে আটকে দেয়া। উরুগুয়ে ম্যাচের পর শিরোনামে এসেছিলেন মিসরের গোলকিপার মোহাম্মদ এল-শেনাউই। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে এক পয়েন্টের দোরগোড়ায় এনে দিয়েছিলেন তিনি, শেষরক্ষা অবশ্য হয়নি। তাতে কী, একঝাঁক দুর্দান্ত সেভ করা মিসরের হিরোকেই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হিসেবে বেছে নেয়া হয়।

কিন্তু ম্যান অফ দ্য ম্যাচের সেই ট্রফি নিতে চাইলেন না মোহাম্মদ এল-শেনাউই। ম্যাচের সেরা হওয়ার সম্মান তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন সবিনয়ে। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত।? পরে জানা গেল, ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ ট্রফিটির গায়ে একটি বিখ্যাত অ্যালকোহল প্রস্তুতকারী সংস্থার লোগো লাগানো ছিল। কিন্তু আদ্যপান্ত ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী শেনাউই অ্যালকোহল সংস্থার লোগো লাগানো ট্রফিটি নিতে অস্বীকার করেন। ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী, মদ্যপান ‘হারাম’। তাই রমজান মাস চলাকালীন একজন মুসলিম ফুটবলারকে কেন অ্যালকোহল সংস্থার লোগো লাগানো ট্রফি দেয়া হলো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এই সংস্থাটিই এবার ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল স্পনসর। গোটা বিশ্বকাপে দলগুলোর প্রয়োজনীয় অ্যালকোহল সরবরাহ করার দায়িত্ব সংস্থাটির হাতেই। প্রতিটি স্টেডিয়ামেও বড় করে লাগানো হয়েছে সংস্থাটির লোগো। সংস্থাটির তৈরি অ্যালকোহল বিক্রি করা হচ্ছে স্টেডিয়ামের সরকারি আউটলেটে, এমনকি ফ্যানজোনেও বিক্রি হচ্ছে সংস্থাটির অ্যালকোহল।

এতে বেজায় চটেছেন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের সমর্থকরা। তাদের দাবি, অ্যালকোহল সংস্থার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত ফিফার।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি খেলা চলাকালীন সতীর্থদের রোজা ভাঙানোর জন্য চোট লাগার নাটক করে শিরোনামে এসেছিলেন তিউনিশিয়ার গোলকিপার।

এক্ষেত্রে অবশ্য, মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে নেটদুনিয়া। কেউ কেউ শেনাউইর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন এভাবে ম্যাচের সেরা হওয়ার পুরস্কার প্রত্যাখ্যান না করলেও পারতেন মিসরের গোলকিপার।

আরো পড়ুন :

পেনাল্টি মিসের পর মেসি-রোনাল্ডো বিতর্ক তুঙ্গে

আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিস করার পর আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর তুলনা যেন আরো জোরেশোরে শুরু করেছেন ভক্তেরা।

মেসি যখন পেনাল্টিটি নেন তখন খেলায় ১-১ গোলে সমতা চলছিল। এতে গোল পেলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যেত, কিন্তু আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক হানেস হালডর্সন সহজেই মেসির শটটি ঠেকিয়ে দেন। পুরো খেলায় মেসি মোট ১১টি শট নেন গোল লক্ষ্য করে, কিন্তু গোল হয় নি।

রোনাল্ডোর সাথে এ তুলনা আরো জোর পেয়েছে, কারণ তার আগের দিনই স্পেন-পর্তুগাল খেলায় দেখা গেছে, স্পেন তুলনামূলকভাবে শ্রেয়তর দল হলেও রোনালদো তিনটি গোল করে প্রায় একাই নিজের দেশকে জিতিয়ে আনেন।

রোনালদো ইতিমধ্যে তার দেশ পর্তুগালকে ইউরো ২০১৬-র শিরোপা জিতিয়েছেন। কিন্তু মেসির আর্জেন্টিনা এখনো বিশ্বকাপ বা লাতিন আমেরিকান কাপও জেতেনি।

পৃথিবীর বহু ফুটবল বিশ্লেষক মেসিকে 'এ যুগের শ্রেষ্ঠ' বা 'সর্বকালের সেরা' ফুটবলার ইত্যাদি নানা অভিধায় ভূষিত করেছেন। কিন্তু ক্লাব স্তরে বার্সেলোনাকে বহু সাফল্য এনে দিলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির আর্জেন্টিনা শুধু অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণপদক এবং অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে।

গত ২০১৪-র বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছিল, কিন্তু তারা জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্স-আপ হয়।

এবার বিশ্বকাপেও দেখা গেল, রোনাল্ডোর শট গোলকিপারের হাত থেকে ফসকে গিয়ে গোল হয়ে যাচ্ছে, আর মেসির শট উড়ে যাচ্ছে গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে।

রোনালদো বিশ্বকাপের আগে গত ৪৪টি টুর্নামেন্ট ফ্রি-কিক থেকে গোল করতে পারেননি, কিন্তু বিশ্বকাপে ঠিকই জ্বলে উঠেছেন। লিওনেল মেসি তার ক্লাব এবং দেশের হয়ে নেয়া গত ৬টি পেনাল্টি কিকের মধ্যে তিনটি মিস করেছেন।

ইংলিশ ফুটবল বিশ্লেষক এবং সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা রিও ফার্দিনান্দ বলেছেন, "সবাই অপেক্ষা করছিল মেসি কী করে দেখার জন্য । কিন্তু বলুন তো, এবার নিয়ে কতবার আমাদের বলতে হলো যে মেসির যা করার কথা তা তিনি করতে পারেননি?"

তবে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে আগামী ম্যাচগুলোতে নিশ্চয়ই তাকে ভালো খেলতে দেখা যাবে।

মেসি পরে বলেন, পেনাল্টি মিস করাটা তাকে মর্মাহত করেছে। "গোলটা হলে সবকিছু বদলে যেত, আমরা এ্যাডভান্টেজ পেতাম। আমি কষ্ট পাচ্ছি, কারণ আমরা তিনটি পয়েন্ট পেলাম না। তবে আমরা দ্রুত এ আঘাত কাটিয়ে ওঠার চেষ্ট করবো। এখন আমাদের ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটির দিকে মন দিতে হবে।"

মেসি বলেন, আইসল্যান্ড যেভাবে খেলেছে তাতে কাজটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারা ভালোভাবেই আমাদের ঠেকাতে পেরেছে।

অন্যদিকে রোনালদো স্পেনের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করার পর এখন তার প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত ফুটবলা বিশ্লেষকরা।

রিও ফার্দিনান্দ বলেছেন, শুক্রবার রাতটা ছিল রোনালদোর। তিনি একজন মহান খেলোয়াড় হয়ে ওঠার পথে অপ্রতিহত গতিতে এগিয়ে চলেছেন। বিশ্ব স্তরে তিনি যা করছেন তা অবিশ্বাস্য।

বাস্তবেই রোনালদো অনেক ম্যাচেই এটা দেখিয়েছেন যে তিনি যা করবেন সেটাই হবে শেষ কথা।

রিও ফার্দিনান্দ বলছেন, গ্রেট হয়ে ওঠার পথে রোনালদো যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন তা মেসির ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রোনালদোর এখন আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা ৮৪টি - যা পৃথিবীতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম স্থানে আছেন ইরানের দায়েই (১০৯টি), দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রোনালদো আর হাঙ্গেরির পুসকাস।

অনেকে এমনটাও বলছেন, রোনালদোর বয়স ৩৩ হলেও তিনি ফিটনেস ও ট্রেনিংয়ের ব্যাপারে এতটাই যত্নবান যে হয়তো আগামি বিশ্বকাপেও তিনি খেলতে পারবেন।


আরো সংবাদ