২২ অক্টোবর ২০১৮

শ্রমিকের কাজটাই মুসলিমদের!

মস্কোর লুজনিয়াকি স্টেডিয়াম - ছবি : সংগ্রহ

আর একদিন পরই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আয়োজন বিশ্বকাপ। মস্কোর দুই স্টেডিয়ামই পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যূ লুজনিকি স্টেডিয়ামের চত্তরে এখনও চলছে কাজ। একটানা কাজ চলছে সেখানে। তা মূলত বিভিন্ন স্টল নির্মাণের ক্ষেত্রে। কোকোকোলা, গ্রাসপ্রম, হিউন্দাই এসবেরই স্টল বসানোর কাজ চলছিল সোমবার রাত পর্যন্ত। আয়োজকদের আশা বুধবারের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে সব কাজ।

লক্ষণীয় বিষয় এই সব কাজে যে সব শ্রমিক ব্যস্ত তাদের সিংহভাগই মুসলিম। এদের কেউ উজবেক, কেউবা তাজিক ,কিরগিজ। অবশ্য আর্মেনিয়ার কয়েকজনকেও পাওয়া গেল। এরা যে মুসলিম তা বোঝা গেল কাজের সময় বেজে উঠা মেবাইল ফোনের জবাব দিতে দেখে। সালাম দিয়ে তাদের ফোনের কথপোকথন শুরু। জানা গেছে এই সব শ্রমিকের কাজ করে না রুশরা। এই কাজ করানো হয় গরিব মুসলিম অভিবাসী শ্রমিকদের দিয়ে। স্পার্টাক মস্কো স্টেডিয়ামের বাইরে সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য ঘাস লাগানো সব শ্রমিকই তাজিকিস্তান থেকে আসা মুসলিম। লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামে পাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে পেলাম উজবেক, কিরগিজ মুসলিমদের। অবশ্য দুই ভলান্টিয়ারকে পেয়েছি যাদের বাড়ি রাশিয়ার দাগেস্তানে। একটি মুসলিম তরুণ ও এক তরুণ- দুজনেই ভালো ইংরেজী জানেন।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক
রাশিয়া বিশ্বকাপ বাংলাদেশ নেই। তা থাকারও কথা নয়। আগামী ৫০ বছর পরেও লাল সবুজরা বিশ্বকাফপ ফুটবলে খেলবে এমন আশা করেনা কোনো বাংলাদেশী। এরপরও রাশিয়া বিশ্বকাপে থাকছে বাংলাদেশের উপস্থিতি। তার পরক্ষোভাবে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সদস্য এবং ফিফা কাউন্সিল মেম্বার মাহফুজা আত্তার কিরন এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যূ একতেরিনবার্গের গুড উইল অ্যাম্বাসেডর। এছাড়া অন্য ১০ ভেন্যুর অবজারবার। এটা বাংলাদেশের জন্য বিশাল সম্মানের। এবার আরেকটি মর্যাদায় যোগ হলেন আরেক বাংলাদেশী। তিনি রাশিয়া বিশ্বকাপের ভলেন্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক। নাম ইমাম হোসেন অমিত। ঢাকার কেরানীগঞ্জের এই ছেলে লেখা পড়া করছেন রাশিয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটির হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং অ্যান্ড ট্যুরিজম বিষয়ে। দুই বছর আগে ফিফা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেয় রাশিয়া বিশ্বকাপের স্বেচ্ছাসেবকের জন্য। তাতে ১ লাখ ৭০ হাজার ৪০ জন আবেদনকারীর মধ্যে যে ১৭ হাজার ছেলে মেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছেন তাদেরই একজন এই ইমাম হোসেন অমিত।

গত পরশু বাংলাদেশীদের দেয়া ইফতার পার্টিতে তার সাথে পরিচয়। তিনি তথ্য দেন, ‘আরেক বাংলাদেশী ছাত্রের কথা আমি শুনেছি। যিনি মালয়েশিয়া থেকে নিজ খরচে রাশিয়া আসবেন এই স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করার জন্য। বিশ্বকাপ চলার সময় তার কর্মক্ষেত্র হবে সেন্ট পিটার্সবার্গ।’ অমিতের সব কাজই মস্কোতে। এখন তার দায়িত্ব বুনুকোভা বিমানবন্দরে। যে সব বিদেশী বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসছেন বিমান বন্দরে তাদের দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। এরা চলে যাওয়ার সময়ও একই ভ’মিকায় থাকবেন। খেলা শুরু হয়ে গেলে মস্কোর দুই স্টেডিয়াম স্পাটার্ক মস্কো এবং লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে যে অনুষ্ঠান হবে সেখানে তাকে দেখা যাবে স্বেচ্ছাসেবকের পোশাক গায়ে।

এই দায়িত্বের জন্য অবশ্য ড্রেস ছাড়া আর কিছুই পাচ্ছেন না ইমাম হোসেন অমিত। অবশ্য তাতেই খুশী তিনি। জানান, ‘এতে আমার ভিন্ন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা তা। নানান দেশের মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পারছি। বড় বড় সেলিব্রেটিকে পাচ্ছি। তাদের সাথে ছবি তোল হচ্ছে।’

প্রথমে ইংরেজী ভাষার উপর পরীক্ষা হয় তাদের। এরপর স্কাইপিতে ইন্টারভিউ। কিভারে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করতে হবে এর উপর প্রশিক্ষন হয় ৪ দিনের। এতে পাশ মার্ক পান অমিত। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নেয়াদের মধ্যে ৭ শতাংশ বিদেশী। মোট এগারো শত স্বেচ্ছাসেবক আছেন বিদেশী কোটায়। ১১২ দেশ থেকে নেযা হয় এই স্বেচ্ছাসেবকদের।


আরো সংবাদ