২০ আগস্ট ২০১৮

রোনালদো আর সেই ইরিনা : ঊষ্ণতা আর হাহাকার

রোনালদো আর সেই ইরিনা : ঊষ্ণতা আর হাহাকার - ছবি : সংগৃহীত

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রাশিয়ায় পা রেখেই জামাই আদরে ভেসে যেতেন রোনালদো। কারণ এ দেশের ইয়েমানঝেলিন্সকই যে জন্মস্থান ইরিনা শায়েকের! হয়তো বিশ্বকাপের পর শ্বশুরবাড়ির আপ্যায়নও পেতেন সিআর সেভেন।

রেড স্কোয়্যারে ঘড়িটায় চলছে ব্যাক কাউন্টডাউন। দিন, ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড...। শুরু হতে চলেছে ফুটবল মহারণ। এক বৃষ্টিতে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে দশের নিচে। কিন্তু আঁচ বাড়ছে বিশ্বকাপের। নেইমার, মেসি, রোনালদো...। তিন বছর আগেই ভেঙে গেছে দু’জনের সম্পর্ক। রোনালদোর নতুন সঙ্গী জিওর্জিনা। পাশাপাশি মার্কিন অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপারের মধ্যেই মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছেন ইরিনা।

তা সত্ত্বেও এই রুশ মডেলটির জন্য লেনিন-স্তালিনের দেশে জনপ্রিয়তায় মেসিকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছেন রোনালদো। রেড স্কোয়্যারের সামনে আলাপ হওয়া লেকভ নামে এক রাশিয়ান ফুটবলপ্রেমীকে বলতে শুনলাম, ‘আমরা এখনো বিশ্বাস করি, রোনাল্ডো-ইরিনা জুটি অতুলনীয়। মেড ফর ইচ আদার। তাই মে মাসের শেষে কিয়েভে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আমরা সবাই রোনালদোর রিয়ালের জন্য গলা ফাটিয়েছিলাম। এল ক্লাসিকোয় আমরা অনেকেই চাই রিয়াল মাদ্রিদ জিতুক। মেসি বা বার্সেলোনার সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু রোনালদোর হার আমরা দেখতে পারি না।’ পাল্টা প্রশ্ন করলাম, কিন্তু রোনালদোর জীবনে তো ইরিনা এখন সাবেক? তাহলে কেন এই প্রীতি? লেকভের বিশ্লেষণ, ‘রোনালদোর খেলা দেখা শুরু ইরিনার জন্যই। আমাদের দেশের মেয়েটি ওর কাছে সাবেক ঠিকই। কিন্তু তার জন্য তো পছন্দ বদলাতে পারব না!’

শুনতে পাচ্ছেন রোনালদো? মনে কি পড়ছে ইরিনার কথা? শোনা যায়, রাশিয়ান এই মডেলটি এখনো নাকি রোনালদোর হৃদমাঝারে রয়েছেন। তবে গোপনে। প্রকাশ্যে ঝলমল করছেন জিওর্জিনা। ২০১০-এ এক অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল দু’জনার। লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট। ওই বছরেরই ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে স্পেন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উড়ে গিয়েছিলেন। ইরিনাকে প্রেম নিবেদন করতে। হীরের আংটি নিয়ে। তারপর প্রেমের জোয়ারে ভেসেছিল এই যুগলের নৌকা। লেকভই বলছিলেন, ‘তখন রাশিয়ার সব কাগজেই রোনালদো-ইরিনার প্রেমের খবর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হতো। এছাড়া পর্তুগিজ মহাতারকাটি গোল পেলে তো স্বমহিমায় জায়গা করে নিতেন।’

ওই সময় ফুটবল সংক্রান্ত অনেক অনুষ্ঠানেই রোনালদোর হাতে হাত ধরে দেখা গেছে ইরিনাকে। তার পরিবারের সঙ্গেও যথেষ্ট সুসম্পর্ক ছিল রাশিয়ান সুন্দরীটির। ব্যালন ডি ওর অনুষ্ঠানেও বান্ধবী ইরিনাকে নিয়ে এসেছিলেন রোনাল্ডো। উঠেছিল গুঞ্জন, এবার বোধহয় চার হাত এক হবে। রোনালদোর বন্ধুরাও তাই ভাবতেন। কারণ, জন্ম নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রকেও আপন করে নিয়েছিলেন ইরিনা।

কিন্তু ২০১৫। শুরু হলো মন কষাকষি। ক্রমশ দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল দু’জনের। ইরিনা মা হতে চেয়েছিলেন। আর রোনালদো তখন ব্যস্ত শুধুই কেরিয়ার নিয়ে। তাই শেষ পর্যন্ত দু’জনেই সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আর যা আজও মেনে নিতে পারে না রাশিয়া। হয়তো একটু অভিমান! কিন্তু বিশ্ব মহারণের মঞ্চে? লেকভের সাফ কথা, ‘এবারের বিশ্বকাপেও দেখবেন, রোনালদোর জন্য রাশিয়া কতটা গলা ফাটায়!’

আরো পড়ুন :

পর্তুগাল-ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, মরিনহোর বাজি ইংল্যান্ড

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ভালো করবে বলে মনে করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ পর্তুগালের হোসে মরিনহো। নিজ দেশ পর্তুগালকে নিয়ে আশাবাদী নন তিনি। ব্রিটিশ প্রচারমাধ্যমের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে নিজের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মরিনহো। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড এবারের আসরে ভালো করবে। অনেক দূর যাবে তারা। তবে পর্তুগাল-ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা বড় সাফল্য পাবে না।’

১৯৬৩ সালে পর্তুগালে জন্ম নেন মরিনহো। তবে দেশের হয়ে কোন ম্যাচ খেলতে পারেননি। দেশের ঘরোয়া ফুটবলের চারটি ক্লাবের হয়ে আশি দশকে ৯৪টি ম্যাচ খেলেছেন মিডফিল্ডার মরিনহো। খেলোয়াড় হিসেবে সুনাম না কুড়ালেও ম্যানেজার হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে সুনামের কমতি নেই তার।

২০০০ সালে বেনফিকা দিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন মরিনহো। এরপর ছয়টি ক্লাবে কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রায় সব দলকেই সেরা সাফল্যর স্বাদ দিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী মরিনহো। যেসব দলের দায়িত্বে তিনি ছিলেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পর্তুগিজ ক্লাব ডেসপোর্তিভা ডি লেইরিয়া, পোর্তো, চেলসি, ইন্টারমিলান, রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

বর্তমানে ম্যান ইউ’র কোচের ধারণা গ্রুপ পর্বের বাধা সহজেই পেরিয়ে যাবে ইংল্যান্ড। সেখানে ইংলিশরাই সেরা হবে বলে মনে করেন তিনি, ‘গ্রুপে ইংল্যান্ডের কোনো বড় বাধা নেই। বেলজিয়াম ভালো দল। তবে বেলজিয়ামকে হারাতে কোনো সমস্যা হবে না ইংলিশদের। তাই গ্রুপের সেরা হিসেবেই পরের রাউন্ডে খেলবে ইংল্যান্ড।’

পর্তুগালের নাগরিক হলেও, যে দেশে বর্তমানে কোচিং করাচ্ছেন সেই ইংল্যান্ড এ বারের বিশ্বকাপে ভাল করবে বলেও ঘোষনা দিয়ে রাখলেন মরিনহো। ব্রিটিশ প্রচারমাধ্যমের কাছে আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে চাই না। কিন্তু হয়ে পড়েছি। আমি চাই আমার ফুটবলাররা জিতুক। আবার চাই কিছু ফুটবলারের তাড়াতাড়ি ছুটি হোক। তবে ইংল্যান্ডের এবার ভালো সম্ভাবনা দেখছি। ইংলিশদের অনেক ফুটবলারই এবার লিগে খুব ভালো পারফরমেন্স করেছে। আমার নজরে পড়েছে। বিশ্বকাপে ভালো করতে পারলে দলও সাফল্য পাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

ইংল্যান্ডের পর স্পেনকে নিজের পছন্দের তালিকায় রাখছেন মরিনহো। গ্রুপ পর্বে স্পেনের প্রধান প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, মরিনহোর জন্মভূমি। তারপরও ‘বি’ গ্রুপে স্পেনই সবার উপরে থাকবে বলে বলেন তিনি, ‘আমি পরে বুঝিয়ে দেব, যে আমি পুরোপুরি পর্তুগিজ। কিন্তু এখন বলতেই হচ্ছে, এই গ্রুপে দ্বিতীয় হবে পর্তুগাল। তবে পর্তুগাল খুব বেশি দূর যেতে পারবে না। এক্ষেত্রে স্পেনের এবার ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে।’

ইংল্যান্ড ও স্পেনের সাথে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে সেরা হবার কাতারে রেখেছেন মরিনহো। তবে বিশ্ব ফুটবলের দুই জনপ্রিয় দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের কোননোসম্ভাবনা দেখছেন না নিজেকে এক নম্বর কোচ হিসেবে দাবি করা ৫৫ বছর বয়সী মরিনহো।


আরো সংবাদ