২০ আগস্ট ২০১৮

রাশিয়ায় এতো খাবার কেন বয়ে এনেছে মেসিরা?

আর্জেন্টিনা, ফুটবল, বিশ্বকাপ
মস্কো থেকে ৩০ মাইল দূরে ব্রনিস্তিতে বেস ক্যাম্প করছে আর্জেন্টিনা - সংগৃহীত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইতোমধ্যে রাশিয়া পৌঁছে গেছে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, তিন টন খাবার নিয়ে রাশিয়ায় প্রবেশ করেছে আর্জেন্টিনা।

এমন খাবার সাথে করে আনার কারণ হলো, মস্কো থেকে ৩০ মাইল দূরে ব্রনিস্তিতে বেস ক্যাম্প করছে আর্জেন্টিনা। ব্রনিস্তিতে মেসিরা যখনই যা খেতে চাইবেন তা যেন সাথে সাথেই পেয়ে যান। এছাড়া রাশিয়ায় নতুন খাবারে যাতে ফুটবলারদের কোনোভাবেই পেটের সমস্যায় না পড়তে হয়, সেজন্য তিন টন খাবার দেশ থেকে নিয়ে এসেছে আর্জেন্টিনা।

শুধু কি খাবার? নাহ। সাথে করে নিজ দেশের শেফ এনেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। জাতীয় দল রাশিয়ায় পৌঁছানোর দুই দিন আগে সেখানে গিয়ে ঘাটি বাঁধে আর্জেন্টাইন শেফরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইটারে এমন অবাক করা তথ্য দিয়েছে আর্জেন্টিনার শেফ।

তিন টন খাবারের মধ্যে কী কী আছে?

এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে ফুটবলপ্রেমীদের। এই উত্তর দিয়েছে দেশটির থেকে রাশিয়ায় আসা শেফরা।

তিন টন খাবারের সবগুলোই আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যগত খাবার। কনডেন্সড মিল্ক থেকে শুরু করে কফি মিশ্রিত ড্রিঙ্ক, খেলোয়াড়দের পছন্দের চকলেট বার, বিস্কুট-চিপসসহ আরো অনেক কিছু।

তবে একটি ব্যাপার তারা নিশ্চিত করেছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন মেসি-ডি মারিয়ারা যাতে খাবার নিয়ে কোনো রকম সমস্যায় না পড়েন, এজন্যই এমন অভিনব পরিকল্পনা। প্রয়োজনে টুর্নামেন্ট চলাকালীন আরো খাবার আনা হবে।

 

আরো পড়ুন : ধন্যবাদ মেসি, ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা

ধন্যবাদ, ধন্যবাদ মেসি, ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা। ইসরাইলের সাথে প্রীতি ম্যাচটি বাতিল করার পর এভাবেই ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আগামী শনিবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। সেই ম্যাচটি যাতে মেসিরা বাতিল করে তার জন্য অনুরোধ করে আসছিল ফিলিস্তিনিরা। অবশেষে রাজনৈতিক চাপের মুখে ম্যাচটি বাতিলের ঘোষণা দেয় আর্জেন্টিনা। স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন ইএসপিএন স্পোর্টসকে ম্যাচ বাতিলের কথাটি জানিয়েছেন। তিনি জানান, 'শেষ পর্যন্ত তারা সঠিক কাজটি করেছে।'

এ ঘোষণার পরই উল্লাসে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনিরা। পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে পিএফএ এক বিবৃতিতে আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি এবং তার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানায়।

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জিবরিল রজব বলেছেন, 'মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং খেলা জয়লাভ করেছে এবং এ ম্যাচ বাতিলের মাধ্যমে ইসরাইলকে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়েছে।'

এদিকে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমে এ ম্যাচ বাতিলের খবর প্রকাশ করার পর ইসরাইলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে পশ্চিম তীরে লিওনেল মেসির একটি পোস্টারে লেখা হয়েছিল, "আপনি একটি দখলকৃত জায়গায় প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। মানবতার পক্ষে দাঁড়ান।"

এ ম্যাচ বাতিলের আগে রজব ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা যাতে লিওনের মেসির ছবি এবং নকল জার্সিতে অগ্নিসংযোগ করে।

ফিলিস্তিনি ক্যাম্পেইন গ্রুপ আভাজ এ ম্যাচ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।

গত সোমবার পিএফএ সভাপতি জিব্রিল রজব জেরুসালেমের টেডি স্টেডিয়ামকে ভেন্যু নির্ধারণের প্রতিবাদে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন এবং বিশ্ব ফুটবলের মূল সংস্থা ফিফার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তাতে রজব বলেছিলেন, 'ইসরাইল খেলাকেও রাজনীতিকরণ করেছে। ৯ ‍জুন টেডি স্টেডিয়ামে ইসরাইল যে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করেছে সেটি সম্পূণ অনৈতিক।'

তিনি বিবৃতিতে আরো বলেন, 'যেখানে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯৪৮ সালের আগে এই স্থানে ফিলিস্তিনের গ্রাম ছিল। সেখান থেকে এর অধিবাসীদের উচ্ছেদ করে ইসরাইলে এই এলাকা দখল করেছিল। ইসরাইল একটি দখলদার বাহিনী। তারা অপশক্তির প্রয়োগ করছে। এরা বৈশ্বিক মূল্যবোধের লঙ্ঘন করে আসছে। ইসরাইল খেলার মূলনীতিরও বিরোধী। এই ম্যাচের কারণে আর্জেন্টিনাকে তার খেলোয়াড়ি এবং নৈতিকতার বিষয়ে মূল্য দিতে হবে। ইসরাইল ‘ইহুদিদের জন্য অখন্ড জেরুসালেম’ বলে আর্জেন্টিনার জনগনকে ভুল বুঝাচ্ছেন।'

তাদের অনুরোধ রেখে ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা আসার পর আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্তকে' সাহসী নৈতিক সিদ্ধান্ত' হিসেবে বর্ণনা করেছে তারা।

আভাজ ক্যাম্পেইন গ্রুপের পরিচালক অ্যালিস জে বলেছেন, 'এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে জেরুসালেমে খেলার সাথে বন্ধুত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ এর কয়েক মাইল দূরে ইসরাইলি বন্দুকধারীরা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনদের গুলি করে মারছে।'

বিশ্বকাপের আগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার জন্য সর্বশেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ। পশ্চিম জেরুসালেমের একটি স্টেডিয়ামে এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল।

জেরুসালেম ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের জন্য খুবই স্পর্শকাতর জায়গা।

পুরো জেরুসালেমকে ইসরাইল মনে করে অবিভক্ত রাজধানী। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে মনে করে।

আর্জেন্টিনা এবং ইসরাইলের মধ্যকার ম্যাচটি প্রথমে হাইফা শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেটি পশ্চিম জেরুসালেমে সরিয়ে আনা হয়। এ সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ করেছিল ফিলিস্তিনিদের।

সাম্প্রতি ফিলিস্তিনদের বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার গাজা সীমান্তে আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসা দেয়ার সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় রাজান আশরাফ আল নাজার নামে একজন ফিলিস্তিনি নার্স নিহত হন। ২১ বছর বয়সী নিহত নাজার স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনেস এলাকায় এ ঘটনার শিকার হন তিনি।

বিক্ষোভ চলার সময় আহত একজনকে চিকিৎসা দিতে ইসরাইল সীমান্তের কাছে ছুটে যান নাজার। সেখানেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন। নাজার চিকিৎসা পেশাজীবীদের মতো সাদা পোশাক পরে ছিলেন। তার ওপর তিনি ইসরাইলি সেনাদের উদ্দেশে দুই হাত উপরে তুলে সঙ্কেতও দিয়েছিলেন। তার পরও ইসরাইলি সেনারা তার ওপর গুলি চালায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান নাজার। এই ঘটনায় উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, গতমাসে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে আনার মাধ্যমে শহরটিকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

সূত্র : গোল ডট কম, ইএসপিএন, বিবিসি ও রয়টার্স

(৬ জুন প্রকাশিত সংবাদ)


আরো সংবাদ