২০ অক্টোবর ২০১৮

সালাহকে দেখে এ কী করলেন 'পাগল' ভক্ত! (ভিডিও)

সালাহ, ভক্ত, ফুটবল
সালাহকে দেখে ভক্তের সেলফি তোলার চেষ্টা - সংগৃহীত

কাঁধে ব্যাথা পেয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ- এ কথা না জানার কথা নয় ফুটবলপ্রেমীদের। কিন্তু সে কথা বেমালুম ভুলে গেলেন এক ভক্ত! সালাহকে দেখে ছুটে এসে রীতিমতো তার কাঁধে ঝুলে পড়ার অবস্থা!

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সালাহ যখন রাশিয়ায় পৌঁছান তার পর। টিম বাস থেকে নামার পর পরই এক ভক্ত ছুটে আসেন তার কাছে। সেলফি তুলতে চান প্রিয় ফুটবলারের সাথে। সালাহও রাজি নয়। সাধারণত এই মিসরীয় রাজপুত্র কখনো কোনো ভক্তকে সেলফি তোলার ব্যাপারে নিরাশ করেন না। ভক্তদের আবদার পুরণে তার সুনাম আছে।

ভক্ত কাঁধে হাত রাখার পরই তা সরিয়ে দেন সালাহ

 

তো সেই অস্থির ভক্ত মোবাইল নিয়ে সেলফি তোলার জন্য সালাহর ইনজুর কাঁধেই হাত দিয়ে বসেন। সাথে সাথে হাত সরিয়ে দেন সালাহ। কিন্তু নাছোরবান্দা ভক্ত তো সেলফি তুলবেনই। সালাহ যেন একটু বিরক্তও হলেন। কিন্তু ভক্ত বলে কথা। তিনি তার হাতটা সরিয়ে একটু দুর থেকেই সেলফি তুললেন। কিন্তু তাতেও যেন সন্তুষ্ট নন ভক্ত! আরো কাছে এসে সেলফি তুলতে চাইলে সামনে পা বাড়ান সালাহ।

ততক্ষণে বাকি সেলফি শিকারীরাও ভিড় জমিয়ে ফেলেছেন। কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি সালাহ। দ্রুত পা চালিয়ে সেখান থেকে সরে পড়েন।

দেখুন ভিডিওতে -

 

আরো পড়ুন : বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ : সালাহ

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর বিশ্বকাপের মঞ্চ কাঁপাতে রাশিয়ায় পা রেখেছেন মিসরের রাজপুত্র মোহাম্মদ সালাহ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের দুঃস্বপ্নের পর তার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভেঙে যেতে বসেছিল। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী সালাহ নিজেকে দ্রুতই সামলে নিয়েছেন। তার ফলাফল, এখন রাশিয়ায় তিনি। তাকে রাশিয়ায় দেখে ভক্তরা আবার উজ্জীবিত হয়েছেন। আর সালাহ? তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন মহান আল্লাহকে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি এভাবেই মনের কথা জানান।

প্রশ্ন : রাশিয়ায় জীবনের প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে আপনি কতটা উত্তেজিত?
সালাহ : সত্যি বলতে কী, বিশ্বকাপে খেলার জন্য আমি রীতিমতো ছটফট করছি। প্রত্যেক ফুটবলারেরই স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে খেলার। ১৯৯০ সালের পর আবার আমাদের দেশ বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলছে। মিসরকে মূলপর্বে তুলতে পারায় আমরা সবাই দারুণ খুশি।

প্রশ্ন: মিসর এই নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলছে। এর আগে যে দু’বার মূলপর্বে খেলেছে, সেই দু’বারই ((১৯৩৪ এবং ১৯৯০) বিশ্বকাপের সংগঠক ছিল ইতালি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, এবার রাশিয়ায় ইতালিই নেই!

সালাহ : হ্যাঁ, ইতালির সমর্থকদের কাছে সত্যি এটা খুবই দুঃখের বিষয়। ইতালি হলো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তি। চিলি এবং হল্যান্ডের সমর্থকদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে, আমাদের সমর্থকরা আপ্রাণ চেষ্টা করবেন বিশ্বকাপের আসর মাতিয়ে দিতে। বুঝতেই পারছেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আমরা আবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলছি বলে এখন থেকেই সমর্থকরা আনন্দে গা ভসিয়েছেন।

প্রশ্ন : চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর গুরুতর চোট পেয়ে আপনাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। এরপরই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে আপনি বিশ্বকাপে নাও খেলতে পারেন।

সালাহ: হ্যাঁ, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু আশার বিষয় হলো, বিশ্বকাপে খেলার জন্য আমি রাশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছি। মূলপর্বে ওঠার পর আমি খেলতে না পারলে সেটা অত্যন্ত হতাশার বিষয় হতো। আল্লাহকে ধন্যবাদ, উনি আমাকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিয়েছেন। আমার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিয়েছেন।

প্রশ্ন : সংগঠক রাশিয়া, সৌদি আরব এবং উরুগুয়ের সাথে একই গ্রুপে রয়েছে মিসর। পরের রাউন্ডে যাওয়ার বিষয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

সালাহ: নক-আউট পর্বে কোয়ালিফাই করার কথা বেশি না ভেবে আমাদের উচিত নিজেদের সেরাটা মেলে ধরার দিকে নজর দেয়া। আমাদের প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে। এখন গ্রুপের তিনটি ম্যাচে পরিকল্পনামাফিক সব কিছু উজাড় করে দিতে হবে। আর সেটাই যদি হয়, তাহলে ফল আপনা থেকেই আসবে। তবে, বিশ্বকাপে খেলাটা আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন : আপনাদের প্রথম ম্যাচই উরুগুয়ের বিরুদ্ধে। যারা টুর্নামেন্টে বহু দূর পর্যন্ত যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।

সালাহ : উরুগুয়ে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ওরা সেমি ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ওদের দলে লুই সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানির মতো প্লেয়ার রয়েছে। উরুগুয়ের খেলা দেখে যতটুকু বুঝেছি, ওদের কোনোমতে খালি জায়গা ছেড়ে দেয়া চলবে না। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা যদি গোল করে দিতে পারি, তাহলে ওদের পক্ষে কিন্তু আমাদের রক্ষণ ভেঙে গোল শোধ করা সহজ হবে না।

প্রশ্ন: চূড়ান্ত কোয়ালিফাইং গ্রুপে আপনাদের প্রতিপক্ষ ছিল ঘানা। বিশ্বকাপে খেলার প্রশ্নে ওরা কিন্তু ফেবারিট ছিল!

সালাহ : ঘরের মাঠে ওদের হারানোর জন্য আমরা দারুণ লড়েছিলাম। আর অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্র করেছিলাম। সেই কারণেই গ্রুপ শীর্ষে থেকে রাশিয়ায় খেলায় ছাড়পত্র আদায় করতে পেরেছিলাম। আমাদের গ্রুপে ছিল উগান্ডা এবং কঙ্গো। আমরা একমাত্র উগান্ডার কাছেই হেরেছিলাম।

প্রশ্ন: বলা হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে যে সব ফুটবল তারকার দিকে নজর রয়েছে, সেই তালিকায় লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার এবং আন্দ্রে ইনিয়েস্তার সাথে রয়েছে আপনার নামও।

সালাহ : এই সব ফুটবলারই কিংবদন্তি। আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং তারকা হওয়ার বিচারে আমি এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। আল্লাহর কৃপায়, ইউরোপের পেশাদারি ফুটবল দুনিয়ায় আমার অভিযান শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক বছর ধরে আমি মাঠে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। কিন্তু, এই তারকারা নিজেদের সর্বকালের সেরার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। মেসি, রোনালদো, নেইমাররা বিশ্বকাপ জেতার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। আর ইনিয়েস্তা চাইবে ২০১০ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর। দয়া করে এই তারকাদের সাথে আমাকে একই তালিকায় রাখবেন না!

 

আরো পড়ুন : মেসি-রোনালদোর শাসন : এরপর সালাহর

বিশ্ব ফুটবলে ১০ বছর ধরে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন সময়ের দুই সেরা খেলোয়াড় লায়লেন মেসি ও সি আর সেভেন খ্যাত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। উভয়েই পাঁচবার করে জিতে নিয়েছেন ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব। এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রতাপে শাসন করে চলেছেন ফুটবল বিশ্বকে। থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এই দু’জনের বদৌলতে এখন সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়াকেও করে দিয়েছে আরো দুরূহ। আগামী বৃহস্পতিবার রাশিয়ায় শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২১তম আসর। যেখান থেকে উঠে আসতে পারেন নতুন কেউ। এখন দেখার বিষয় এই দুই কিংবদন্তির উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে আসছে কারা। এ তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন পাঁচ তারকা।

দ্য ক্রাউন প্রিন্স : নেইমার (ব্রাজিল)

এই স্টাইলিশ ফুটবলার গত গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দিয়েই বনে গেছেন সর্বকালের সবচেয়ে দামি ফুটবল তারকা। মেসি ও রোনালদোর মতোই ‘বিখ্যাত’ ক্যারিয়ার উপভোগ করছেন।

শক্তিশালী ড্রিবলিং, বিচক্ষণ খেলা, অসাধারণ সমাপ্তি, চিত্তাকর্ষক ক্রীড়াশৈলীসহ বিশ্ব সেরার আসন দখলের সব রকম যোগ্যতাই নেইমারের রয়েছে। ইনজুরির কারণে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে খেলতে না পারলেও, দুই বছর পর অলিম্পিকে পুরুষ বিভাগের ফুটবলের স্বর্ণপদকটি নেইমারের নেতৃত্বেই ঘরে তুলেছে ব্রাজিল। এখন রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের জন্য বদ্ধপরিকর এ ব্রাজিলীয় সুপারস্টার।

দ্য শুটিং স্টার : মোহাম্মদ সালাহ (মিসর)

রোমা থেকে লিভারপুলে যোগ দেয়ার আগে মোহাম্মদ সালাহকে একজন ভালো ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে মোটেও তাকে ব্যতিক্রমী উইঙ্গার হিসেবে আমলে নেয়নি কেউ। জার্গেন ক্লাপের অধীনে খেলার ধরনে নিজেকে অন্য রকম অবস্থানে নিয়ে গেলেন সালাহ। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এ যাবৎকালের সেরা ফিনিশার হিসেবে। সর্বশেষ মওসুমে এ মিসরীয় দখল করেছেন প্রিমিয়ার লিগের সর্বাধিক গোলদাতার আসন, যা ব্যক্তি সালাহর সুনাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সালাহর দক্ষতার কারণে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ লাভ করেছে মিসর। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার ইতি ঘটেছে ফারাওদের। লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার সার্জিও রামোসের সঙ্গে বল দখলের সময় ইনজুরির কবলে পড়া সালাহ যদি যথাসময়ে সুস্থ হতে পারেন তাহলে রাশিয়ায় যে চমক দেখাতে পারবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর ফলে তিনিও হয়ে উঠতে পারেন ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কারের জোরালো দাবিদার।

দ্য এসিস্ট কিং : কেভিন ডি ব্রুইনা (বেলজিয়াম)

এ খেতাবটি অনায়াসেই ব্যবহার করা যায় এডেন হেজার্ডের ওপর। যার খেলার ধরন সতীর্থদের চেয়েও দর্শনীয়, যা তাকে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত তালিকায় পৌঁছে দিয়েছে। তবে ডি ব্রুইনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ম্যানচেস্টার সিটি এবং নিজ দেশের জাতীয় দলের সতীর্থদের যে পরিমাণ বলের জোগান দিয়েছেন এবং গোলে সহায়তা করেছেন, তা হিসাবেরও বাইরে। এমন ধারাবাহিকতায় তিনি ফুটবলকে নিয়ে গেছেন বহু উচ্চতায়। আসন্ন বিশ্বকাপে যদি বেলজিয়াম তাদের নামের সুবিচার করে মনোমুগ্ধকর কিছু একটা দেখাতে পারে, তাহলে চলতি বছর ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কারের তালিকায় শীর্ষে পৌঁছে যাবে ব্রুইনার নাম।

দ্য মাস্টার অব অ্যান্ডারেস্টেটমেন্ট : হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড)

অ্যালান শিয়ারের পর এই প্রথম বিশ্বমানের স্ট্রাইকার হিসেবে হ্যারি কেনকে পেয়েছে ইংল্যান্ড। ১৯৯৬ সালে ফিফা বিশ্বসেরা খেলোয়াড় নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে তৃতীয় হয়েছিলেন অ্যালান। তারই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ২৪ বছর বয়সী কেনের মধ্যে। টাইমিংয়ে দারুণ জ্ঞানসম্পন্ন, মানসিক দৃঢ়তা ও কঠোর পরিশ্রম সব কিছুই রয়েছে তার মধ্যে; যে কারণে আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে তার হাতেই নেতৃত্বের ঝাণ্ডা তুলে দিয়েছেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। অনেকে তার দল বদল নিয়ে ব্রাজিলীয় সুপারস্টার নেইমারের পর্যায়ের গুজব ছড়াতে শুরু করেছে।

দ্য ইয়ং প্রডিজি : কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এমবাপ্পে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বর্ষসেরা ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি যে শুধু ২০১৮ বিশ্বকাপে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন তা নয়, বরং পরবর্তী বেশ কয়েক বছর এমন ধারা ধরে রাখবেন। এ বয়সেই তিনি খুবই বিচক্ষণ এবং পরিণত গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মোনাকোর হয়ে লিগ ওয়ান ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এর প্রমাণ তিনি দিয়েছেন। এখন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে নিজেকে পরের ধাপে পৌঁছে দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এমবাপ্পে।


আরো সংবাদ