১৫ নভেম্বর ২০১৮

বিশ্বকাপে অঘটন ঘটাবে কোন আফ্রিকান দলটি?

আফ্রিকা, মিসর, ফুটবল
মিসরের রাজপুত্র মোহাম্মদ সালাহ - সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর সময় গণনা চলছে, একই সাথে চলছে নানা ধরণের বিশ্লেষণ।

এবারের বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান দল কি প্রথমবারের মতো সেমি ফাইনালেও যেতে পারবে?

"যখন আমি আইভরি কোস্টকে কোচিং করানো শুরু করি তখন দিদিয়ের দ্রগবাকে বলেছিলাম যে আমাদের অনেক চমৎকার খেলোয়াড় আছে এবং বিশ্বকাপে আমরা অনেক দূর যেতে পারি। সে বলেছিল : না, পারি না"।

সুইডেনের সাবেক ফুটবলার এসভেন গোরাম এরিকসন দেখার চেষ্টা করেছিলেন যে কেন আফ্রিকা একটি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছে। যেখানে ২০০২ সালে পেলে বলেছিলেন যে ২০ বছরের মধ্যে এই মহাদেশের কেউ বিশ্বকাপ জয় করবে।

এরিকসন বলছেন, "কেন তারা পারছে না? এক কথায়, অর্গানাইজেশন বা সংগঠন। আমি যখন যোগ দেই তখন ছিল একেবারেই নৈরাজ্য"।

১৯৯৪ সালে গ্রুপ পর্বের খেলায় নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থানে ছিল নাইজেরিয়া। কিন্তু তারপরেও কোয়ার্টার ফাইনাল পার করার মতো দল এখনো তৈরি হয়নি।

অথচ জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম এ মহাদেশে ফুটবল আছে রাজার আসনে।

মিসর, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও তিউনিসিয়া এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলছে। কিন্তু তারা ফাইনালের কাছে যাবে এটা বিশ্বাস করার মতো লোক খুব একটা বেশি নেই।

এ দলগুলোর কোনোটিই ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০ এর মধ্যেই নেই।

নাইজেরিয়ার সাবেক ফরোয়ার্ড পিটার ওডেমউইঙ্গির দাবি, আফ্রিকার ফুটবলের মান আরো পিছিয়েছে।

২০১০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি।

তার মতে, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া দলটি ছিল সেরা আফ্রিকান স্কোয়াড। "ব্রাজিল আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৯৯৬ সালে অলিম্পিক জিতেছিলাম আমরা।"

১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুন, ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগাল ও ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানা কোয়ার্টার ফাইনাল অবধি পৌঁছে ছিল।

কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপে মিসর ২৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো খেলছে আর ২০ বছর পর ফিরে এসেছে মরক্কো।

মরক্কো দলটির অধিকাংশ খেলোয়াড়েরই জন্ম হয়েছে বিদেশে। ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জনেরই জন্ম দেশের বাইরে।

বোনাস নিয়ে ঝামেলা এবং বয়কট

২০১৪ বিশ্বকাপের পর ক্যামেরুন, ঘানা ও নাইজেরিয়া শিরোনাম হয়েছে ভিন্ন কারণে। ঘানার খেলোয়াড়রা প্রশিক্ষণ বর্জন শুরু করে বেতন ভাতা সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে। আর ক্যামেরুনের খেলোয়াড়রা দেরিতে পৌঁছায় বোনাস নিয়ে সঙ্কটের জন্য।

তিউনিসিয়া দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা রাধি জাইদি বলেন, "ইউরোপ থেকে নিজ দেশের জন্য খেলতে আসা খেলোয়াড়রা ক্লাব থেকে সময়মত টাকা পয়সা ও বোনাস পায়। কিন্তু এটিই ভিন্ন হয় তারা যখন দেশের জন্য খেলতে আসে।"

এটি আফ্রিকা, এটি এমনই

২০১০ সালের বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের দায়িত্বে ছিলেন এরিকসন।

"আমরা প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলাম সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ড্রেসিং রুমে গিয়ে দেখি আমাদের কোনো জার্সি নেই, অন্য উপকরণ নেই। খেলা শুরুর তখন মাত্রা সোয়া এক ঘণ্টা বাকি ছিলো।"

"ওয়ার্ম আপে নামার আগে একজন খেলোয়াড় এসে আমার কাছে আসে এবং বলে যে সে খেলবে না। জিজ্ঞেস করলাম তুমি ইনজুরড? সে বললো না, কিটম্যান আমার বুট আনতে ভুলে গেছে।"

"দ্রগবাই তখন বলেছিল যে এসভেন, এটাই আফ্রিকা"।

স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা ম্যানেজার সঙ্কট

রাশিয়া বিশ্বকাপে আসার জন্য মোট ৪৪টি দল নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে কিন্তু এর মধ্যে ৩০টিরই ম্যানেজার নন-আফ্রিকান।

সাতবার বিশ্বকাপে খেলা ক্যামেরুন চারবার ফরাসী, দুবার জার্মান ও একবার রাশিয়ান ম্যানেজার বা কোচের নেতৃত্বে ছিল।

এবার রাশিয়ায় মিসর, মরক্কো ও নাইজেরিয়া এসেছে যথাক্রমে আর্জেন্টাইন, ফরাসি ও জার্মান কোচের তত্ত্বাবধানে।

টানেলের শেষ প্রান্তে কোনো আলো দেখা যাচ্ছে?

মরক্কো চেষ্টা করছে বিশ্বকাপের আয়োজক হতে। ২০২৬ সালের ৪৮ দলের বিশ্বকাপের আয়োজনের দৌড়ে আছে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রও।

ক্যামেরুনের ডিফেন্ডার ছিলেন গায়েতান বং। তিনি বলেন, আফ্রিকায় একেবারে মৌলিক প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলোর উন্নতি দরকার।

"অনেক সময় আপনি মাঠের কারণেই খেলতে পারবেন না। অনেক মেধাবী খেলোয়াড় আছে কিন্তু শক্তিশালী কোনো লীগ নেই।"

কিন্তু এরিকসন আশা করেন একদিন বিশ্বকাপ জিতবে আফ্রিকা।

"আমি জানি না কখন, কিন্তু মনে করি আফ্রিকা জিতবে। হয়তো পরে। কিন্তু হবে কারণ ফুটবল নিয়ে এখানে ব্যাপক উৎসাহ আছে।"

 

আরো পড়ুন : অনুশীলন করেননি সালাহ

শনিবার কায়রোতে মিসর জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। তবে রাশিয়াগামী ফারাও বিশ্বকাপ দলের সাথে অনুশীলন করতে দেখা যায়নি এই লিভারপুল তারকাকে।

মিসরের রাত্রিকালীন চুড়ান্ত অনুশীলন দেখতে এ সময় হাজার হাজার সমর্থক সেখানে হাজির হয়ে বুনো উন্মাদনায় মেতে উঠে এবং দলকে সমর্থন দেয়। স্থানীয় সময় রাত ঠিক ১০টা বাজার আগমুহুর্তে শুরু হয় অনুশীলন।

এ সময় দলের সদস্যরা মাঠে অনুশীলনে মেতে উঠলেও মাঠের মাঝখানে বসে ড্রেসিং সামগ্রী নিয়ে ব্যকরুম স্টাফদের সাথে আলাপ আলোচনায় মেতেছিলেন সালাহ। রেকর্ড সংখ্যক সাতবার আফ্রিকা অঞ্চলের এই চ্যাম্পিয়ন দল এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপের চুড়ান্ত আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে। মিশর সর্বশেষ বিশ্ব মঞ্চে যোগ দিয়েছিল ১৯৯০ সালে।

আগামী ১৫ জুন দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশণ শুরু করবে ফারাওরা। ইনজুরিতে থাকা সত্ত্বেও দলটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সালাহকে। গত মাসে লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের মোকাবেলা করার সময় কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন সালাহ। ম্যাচে ৩-১ গোলে জয়লাভ করেছে রিয়াল। ওই ইনজুরির কারণে সালাহ’র বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

রোমা থেকে লিভারপুলে যোগ দিয়ে গত মৌসুমে ইংলিশ ক্লাবের হয়ে ৪৪ গোল করা সালাহ আসন্ন বিশ্বকাপে মিসরের আশাভরসার প্রতীক। আহত হওয়ার পরপরই মিসরীয় ফুটবল ফেডারেশন সালাহর ইনজুরি সেরে উঠতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ঘোষনা দেয়।। যার মানে এ’গ্রুপ থেকে মিসরের প্রথম ম্যাচে যে সালাহ খেলতে পারছেননা সেটি প্রায় নিশ্চিত। সৌদি আরব ও রাশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচে তার অংশগ্রহনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় ফুটবল দলের চিকিৎসক মোহাম্মদ আবু আল ইলা অন স্পোর্টস টিভিকে বলেন, সালাহ কখন পুরোপুরি সুস্থ হবেন তা অচিরেই জানা যাবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন,‘ দুটি দিন না যাওয়া পর্যন্ত আমরা কিছুই বলতে পারব না।’


আরো সংবাদ