esans aroma gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indir Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien webtekno bodrum villa kiralama
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

পি কে হালদারসহ ২০ জনের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

৩৬০০ কোটি টাকা পাচার
-

প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাচার করার ঘটনায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পি কে হালদার) ২০ জনের সব সম্পদ ক্রোক, ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেইসাথে এই ২০ জনের সম্পদের হিসাব ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ ছাড়া কোম্পানি পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি পি কে হালদারকে দেয়া ঋণসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের আওতায় থাকা অন্য ১৯ জন হলেনÑ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক জহিরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, বাসুদেব ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি, মোমতাজ বেগম, নওশেরুল ইসলাম, আনোয়ারুল কবির, প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, আবুল হাসেম, মো: রাশেদুল হক, পি কে হালদার, পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, ভাই প্রিতুষ কুমার হালদার, চাচাতো ভাই অমিতাব অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক পরিচালক ইরফান উদ্দিন আহমেদ, পি কে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী।
এমএম স্ট্রাকচারাল লিমিটেড কোম্পানি ৮ কোটি টাকার দাবিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে। ওই মামলার শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আদালত।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির, কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পি কে হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে লোপাট করেছেন অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।
প্রশান্ত কুমার হালদার প্রথমে রিলায়্যান্স ফাইন্যান্স এবং পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন ও নতুন আরো কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছেন পি কে হালদার। নিজেও পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে।
ক্যাসিনো অভিযানের ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বাদি হয়ে মামলা করেন। তবে মামলা করার আগেই লাপাত্তা হন পি কে হালদার।
তিনজনকে দুদকে তলব : প্রশান্ত কুমার হালদারের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তিন পরিচালককে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান তাদের তলব করে চিঠি দেন।
যাদের তলব করা হয়েছে, তারা হলেন পিপলস লিজিংয়ের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান নিজামুল আহসান, দুই পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও ইউসুফ ইসমাইল। তাদের ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি থাকার সময় প্রশান্ত কুমার হালদার তার আত্মীয়স্বজনকে বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক করেন। পর্ষদে একক কর্তৃত্ব নিয়ে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা তিনি বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাৎ করেন। পিপলস লিজিংয়ে আমানতকারীদের তিন হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করে কোম্পানিটিকে পথে বসিয়েছেন তিনি।
দুদক সূত্র জানায়, পিপলস লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য, ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত আমানতকারীদের কাছ থেকে কত টাকা জমা নেয়া হয়েছে, কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কাছে কত টাকা জমা আছে, সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানের হিসাব আছে, সেসব তথ্যের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবের বিবরণীও এখন দুদকের হাতে।
৮ জানুয়ারি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। তার বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের : ঢাকা ব্যাংকের ফেনী শাখার সাত কোটি পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকটির দুই কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের সভায় চার্জশিট প্রদানের বিষয় অনুমোদন দেয়া হয়।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, শিগগিরই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হচ্ছে তারা হলেনÑ ঢাকা ব্যাংক ফেনী শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার ও ক্রেডিট ইনচার্জ গোলাম সাঈদ রাশেব, সাবেক ক্যাশ ইনচার্জ আব্দুস সামাদ ও ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ বল্লভপুরের বাসিন্দা আজিম খন্দকার।
দুদক জানায়, ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ ফেনী থানায় ঢাকা ব্যাংকের ফেনী শাখার সাত কোটি পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি গোলাম সাঈদ সাত বছর ৯ মাস ঢাকা ব্যাংকের ফেনী শাখায় কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তিনি গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করেন। ব্যাংকের ক্রেডিট ইনচার্জ ও এলসি খোলার দায়িত্বে থাকায় গ্রাহকদের বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি ও সংরক্ষণের দায়িত্বও ছিল তার। ক্রেডিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে প্রতিটি ঋণের বিপরীতে কিছু সই চেক লোন ডকুমেন্টের সাথে সংরক্ষণ করতেন তিনি। এ ছাড়া গ্রাহকদের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ঋণ হিসাব সমন্বয়ের কথা বলে অগ্রিম চেক নিতেন। পরে তিনি তার মেকার আইডি ব্যবহার করে যেসব গ্রাহকের চেক তার কাছে ছিল তাদের হিসাবে অন্য গ্রাহকের টাকা স্থানান্তর করে সাত কোটি পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার আত্মসাৎ করেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করেন আব্দুস সামাদ ও আজিম খন্দকার। এ ঘটনায় ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা হয়।

 


আরো সংবাদ




short haircuts for black women short haircuts for women Ümraniye evden eve nakliyat