film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
বিএনপির আলোচনা সভায় বক্তারা

আ’লীগ যেখানে ব্যর্থ জিয়াউর রহমান সেখানে সফল হয়েছেন

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গতকাল জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনাসভা : নয়া দিগন্ত -

বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ হয়েছে জিয়াউর রহমান সেখানে সফল হয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি সফল হয়েছে। এসব সফলতার ইতিহাস যদি বর্তমান প্রজন্মের কাছে চলে আসে তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থাকে না। সেজন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তারা ইতিহাস বিকৃত করছে।
গতকাল বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় নেতারা এসব কথা বলেন।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইভিএম দিয়েছে জালিয়াতির নতুন একটি কৌশল। আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, এই ইভিএম ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। এই ইভিএম দিয়ে নির্বাচন হবে না। স্বচ্ছ ব্যালটবক্সে নির্বাচন করতে হবে এবং সেই দাবি আমাদের আদায় করে নিতে হবে। আমি বলতে চাই, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা যদি সমস্ত মানুষকে সংগঠিত করতে পারি তাহলে এই নির্বাচনে (সিটি করপোরেশন) অবশ্যই আমরা তাদের পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব।
দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন আমরা আগামী দিনগুলোতে নিজকে আরো সঙ্ঘবদ্ধ করি, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদিপ্ত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপ্রেরণায় আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। পরাজিত করি এই দানবকে। দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, দেশনেত্রীর বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি এবং জনগণের মুক্তির জন্য আমরা সেই আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাই।
আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময়ই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। ১৯৭২-১৯৭৫ সালে তারা গণতন্ত্রবিরোধী কাজ করেছে, একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। আজকে আবার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দিয়েছে।
শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একাই যথেষ্ট। তার যে দর্শন, তার যে আদর্শ তাকে যদি আমরা অনুসরণ করি তাহলে আমাদের আর অন্য কোনো দিকে তাকাতে হবে না। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র-উন্নয়ন সবগুলো জিনিসকে নিয়ে তিনি আমাদের সামনে যে দর্শন দিয়ে গেছেন, সেই দর্শন প্রতিষ্ঠা আমাদের করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তিনি এর প্রমাণ রেখে গেছেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যেই দল এখনো বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এই আওয়ামী লীগকে ইতিহাস বিকৃত করার কেনো এত চেষ্টা, এত প্রয়াস আমরা দেখতে পাই?
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আওয়ামী লীগ জানে, জিয়াউর রহমানের সফলতাগুলো যদি মানুষের সামনে চলে আসে, বর্তমান প্রজন্মের সামনে চলে আসে তাহলে আওয়ামী লীগে যেসব মিথ্যাচার করে রাজনীতি করছে তাদেরগুলো কেউ বিশ্বাস করবে না। তাই আজকে গায়ের জোরে মিথ্যাচার করে আওয়ামী লীগ ইতিহাসকে বিকৃত করছে। আজকে জিয়াউর রহমানকে, তার পরিবারের সদস্যদের, বিএনপিকে নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছে। সেখানেই প্রমাণিত যে, তারা (আওয়ামী লীগ) নিশ্চয়ই দুর্বল। এসব ক্ষেত্রগুলো আওয়ামী লীগ সেখানে ব্যর্থ হয়েছে জিয়াউর রহমান সেখানে সফল হয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি সফল হয়েছে। এগুলো যদি প্রজন্মের কাছে চলে আসে তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থাকে না। সেজন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তারা ইতিহাস বিকৃত করছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যেই বাকশাল মরহুম শেখ মুজিবর রহমান সাহেব কায়েম করেছিলেন সেই বাকশালকে এখন অন্য উপায়ে আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে। খুন হলে কথা বলা যাবে না, জখম হলে কথা বলা যাবে না, মারলে কথা বলা যাবে না, ডাকাতি হলে কথা বলা যাবে না। বাংলাদেশ থেকে আট হাজার কোটি টাকা, শেয়ার মার্কেটের কয়েক হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেল- কথা বলা যাবে না। বাকশালী চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিনদিন জনগণের কাছে।
তিনি বলেন, যদি এদেশের জনগণ রুখে না দাঁড়ায়, যদি বাংলার মানুষ রুখে না দাঁড়ায়, যদি বিএনপি রুখে না দাঁড়ায় তাহলে এদেশের স্বাধীনতা থাকবে না। আজকে শহীদ রাষ্ট্রপতির জন্মবার্ষিকীতে দেশের প্রত্যেকটা নাগরিককে জিয়াউর রহমান হয়ে যেতে হবে, নইলে এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যাবে না।
বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের জেরিন খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামল, ওলামা দলের শাহ নেছারুল হক, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিমও বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, নুরী আরা সাফা, মাহবুবুল হক নান্নু, মাশুকুর রহমান মাশুক, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, হায়দার আলী লেলিন, তকদীর হোসেন জসিম, রফিক শিকদার, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমীন, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আকরামুল হাসান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 


আরো সংবাদ