২২ জানুয়ারি ২০২০

ডিসেম্বরেও ডেঙ্গু রোগী : এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪২ জন

-

মধ্য ডিসেম্বরেও ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশার অস্তিত্ব রয়েই গেছে। গতকাল শনিবার দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন ভর্তি হয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে রাজধানীতেই এডিস মশা বেশি। এখনো রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এডিস মশা জন্মানোর মতো অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। গত জুলাই-আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত করে গুরুত্ব দিয়ে মশা মারার ওষুধ ছিটানোর কাজটি করলেও অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ছাড়া অন্যান্য স্থানে স্প্রে করার কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানীর বাসিন্দারা জানান, তারা অক্টোবর থেকে ফগিংওয়ালা অথবা মশা মারার স্প্রে করার লোকদের আর আগের মতো দেখতে পাচ্ছেন না। আগে নিজ বাসার সামনে না পেলেও কাছে কোথাও মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তা বোঝা যেত অথবা কেউ-না-কেউ বলতে পারতেন। এখন মশার ওষুধ ছিটানো টের পাওয়া যাচ্ছে না। মশা মারার কাজটি অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গুকে রাজধানী থেকে নির্মূল করে দেয়া যেত বলে তারা মন্তব্য করেন।
রোগ তত্ত্ব রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এর আগে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের দিকে আগের চেয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ হয়তো কমে যাবে; কিন্তু একেবারে নির্মূল হবে না। হয়তো দেখা যাবে ডিসেম্বরেও ডেঙ্গু আক্রান্ত পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, এখন থেকে ডেঙ্গু সারা বছরের রোগ হিসেবে আমাদের মধ্যে থেকে যাবে। বর্ষাকালে হয়তো বেশি থাকবে আর শীতকালে সংখ্যায় কমে যাবে; কিন্তু একেবারেই পাওয়া যাবে না সে রকম না-ও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো শীতপ্রধান দেশের কয়েকটি রাজ্যেও এ বছর ডেঙ্গু অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তাই ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। এটা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি প্রভাব।
জলবায়ু বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে জিকার মতো রোগগুলোও বাংলাদেশে যদি চলে আসে তাহলে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।
আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম আলমগীর জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী ১২৮টি দেশে এডিস মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটা ভবিষ্যতে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে এবং বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজের মতো হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বেশি বেড়েছে। এসব কারণে এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, এডিস মশা যেকোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতাও বৃদ্ধি করেছে। এসব কারণে এডিস মশা অথবা ডেঙ্গুর জীবাণু নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক তথ্য থেকে জানা গেছে, গতকাল যে ৪২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে ২৪ জন রয়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে। অবশিষ্টরা দেশের নানা প্রান্ত থেকে আক্রান্ত হয়েছে।
চলতি বছর স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী কেবল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৩৩ জন। আইইডিসিআর মোট ২১১ মৃত্যু পর্যালোচনা করে এর মধ্যে থেকে ১৩৩ জন ডেঙ্গুতেই মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে।
আইইডিসিআরের কাছে ৫৩টি মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। আইইডিসিআরের কাছে মোট ২৬৪টি মৃত্যুর তথ্য আসে। তবে এই ২৬৪ জন মানুষই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ডেঙ্গু সন্দেহে এবং হাসপাতালের চিকিৎসকরা এদের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা দিয়েছেন।


আরো সংবাদ

নীলফামারীতে আজ আজহারীর মাহফিল, ১০ লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতির টার্গেট (১৬৬৬৩)ইসরাইলের হুমকি তালিকায় তুরস্ক (১৪৪৬৩)বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে মহীশূরের মেয়র হলেন মুসলিম নারী (১৩৮৫৯)আতিকুলের বিরুদ্ধে ৭২ ঘণ্টায় ব্যবস্থার নির্দেশ (৮৩৫১)জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তাবিথের প্রচারণায় হামলা (৮১০২)মসজিদে মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিল না ভারতের আদালত (৫৯৫১)মৃত ঘোষণার পর মা কোলে নিতেই নড়ে উঠল সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটি (৫৭৮২)তাবিথের ওপর হামলা : প্রশ্ন তুললেন তথ্যমন্ত্রী (৫৪৪৯)দ্বিতীয় স্ত্রী তালাক দিয়ে ফিরলেন স্বামী, দুধে গোসল দিয়ে বরণ করলেন প্রথমজন (৫৩৯৭)ইশরাককে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ডেমরাবাসী (৪৭৪৫)



unblocked barbie games play