২০ জানুয়ারি ২০২০

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ ছাড়ে সাড়া নেই ব্যাংকগুলোর

-

পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত মূলধন হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়াতে কোনো উদ্যোগই যেন কাজে আসছে না। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে সাড়া মেলেনি ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে। আশা করা হয়েছিল, বিশেষ ছাড় দেয়ায় ব্যাংকগুলোর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বাজারে বিনিয়োগ হতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সার্কুলার জারির প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও একটি ব্যাংক ছাড়া আর কোনো ব্যাংক এতে সাড়া দেয়নি। এ দিকে অব্যাহতভাবে মূলধন হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। আর বাজার মূলধন হারিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ইউনিউয়ন ক্যাপিটালের সাবেক এমডি ও ওমেরা ফুয়েলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আখতার হোসেন সান্নামাত এ বিষয়ে গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোর প্রধান কাজ হলো বিনিয়োগ দেয়া। দ্বিতীয় কাজ হলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা। কিন্তু ব্যাংকগুলো এখন প্রধান কাজটিই ঠিকমতো করতে পারছে না। ব্যাংকগুলোতে এখন তীব্র তারল্য সঙ্কট চলছে। এ সঙ্কটের কারণে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়া তো দূরের কথা, বিদ্যমান উদ্যোক্তাদেরই চাহিদা অনুযায়ী চলতি মূলধনের জোগান দিতে পারছে না। টাকার সঙ্কটের কারণ কী এমন এক প্রশ্নের জবাবে আখতার হোসেন সান্নামাত বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ৫৭টি ব্যাংক, ৩২টি লিজিং (ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান) অনেক বেশি হয়ে গেছে। এর ফলে আমানত নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে ঋণের সুদ। আর ঋণের সুদ বাড়ায় উচ্চ সুদে বিনিয়োগ করতে বিনিয়োগকারীদের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সব মিলেই ব্যাংকগুলোর এখন তহবিল সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে বেসকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। এমন অবস্থায় ব্যাংকগুলোর দ্বিতীয় কাজ অর্থাৎ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে পারছে না। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগও কাজে আসছে না। তাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে ভালো কোম্পানিকে উৎসাহিত করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকের ঋণের শিল্পায়ন ঝুঁকি বেশি। সেই তুলনায় শেয়ারবাজার থেকে অর্থায়নের ঝুঁকি নেই। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো লোকসান করলেও সুদের মতো লভ্যাংশ দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে না। এ জন্য ভালো কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে আসতে সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে। আইপিও অনুমোদন কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ছাড় দিতে হবে। তা হলে পুঁজিবাজারে অর্থের জোগান স্বাভাবিক হবে।
জানা গেছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হয়েছিল বিনিয়োগসীমা যাদের ২৫ শতাংশ নিচে রয়েছে তারা রেপোর মাধ্যমে (ট্রেজারি বিল ও বন্ড বন্ধক রেখে) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থেকে ধার নিতে পারবে। যখন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর এ সুযোগ দেয়া হয়, তখন ব্যাংকগুলোর হাতে ৯২ হাজার কোটি টাকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড ছিল। এর মধ্যে বিনিয়োগসীমা যেসব ব্যাংকের ২৫ শতাংশের নিচে ছিল তারা প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ব্যবহার করতে পারত। শর্ত হলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড বন্ধক রেখে যে পরিমাণ অর্থ ধার নেবে তার পুরোটাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। প্রথমে ২৮ দিনের জন্য, পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ছয় মাস পর্যন্ত তারা এ ধার নিতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, মাত্র একটি ব্যাংক এ সুবিধা নিয়ে ৫০ কোটি টাকার তহবিল ব্যবহার করেছে। চার মাস পার হতে চললেও এখনো আর কোনো ব্যাংক এ সুযোগ নেয়নি।
এ দিকে প্রতিনিয়ত পুঁজিবাজারে লেনদেনের সূচক কমে যাচ্ছে। এর ফলে মূলধন হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে ওঠার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


আরো সংবাদ




krunker gebze evden eve nakliyat