২৪ জানুয়ারি ২০২০
ভিসিদের প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি

অনুমতি ছাড়া বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না

-

দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্বেই অনুমতি নিতে হবে। এ ছাড়া সরাসরি কোনো বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি না করতে সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলরদের প্রতি চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সৈয়দ আলী রেজা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চান্সেলরদের এ কথা বলা হয়েছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে ৪৭ এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে ১০৫টি। সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথভাবে আবেদন ছাড়াই বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির হচ্ছে। যা সরকারের নজরে আসার পর বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের উদ্দেশে এ চিঠি দিয়ে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয় সম্পর্কে অবহিত করে। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেই এ বিধি প্রচলিত রয়েছে। এ বিধিটি বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পালন করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভিনদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিটি হচ্ছেÑ শিক্ষার্থীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রথমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সাথে শিক্ষার্থীকে তার পাসপোর্টসহ যাবতীয় সনদযুক্ত করে আবেদন করতে হয়। কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে ইচ্ছুক, তারও উল্লেখ করতে হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উক্ত আবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সে আবেদন যাচাই-বাচাই করে একটি প্রাথমিক অনুমতি দিয়ে থাকে। এ অনুমতিপত্র নিয়েই শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভর্তির সুযোগ দেবে বা সম্মতিপত্র ছাড়া ভর্তি করবে না এটিই বিধি। কিন্তু দেশের বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এই বিধি মানছে না।
জানা গেছে, আফ্রিকার অনেক দেশের শিক্ষার্থীরা এখন বাংলাদেশে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য আসছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী নেপাল, ভুটানসহ আরো কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা ঢাকায় মানসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে এবং পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এ সংখ্যা তিন সহ¯্রাধিক ছিল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে প্রচলিত বিধি অনুসরণ এবং এ সব তথ্য নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।
গত ৩ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি দৃষ্টি আকষর্ণ বা তাগিদপত্র পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে। এরই প্রেক্ষিতে গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের এ চিঠি দিয়েছে। এ চিঠির কপি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্বদ্যিালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যানকেও দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ