২৩ জানুয়ারি ২০২০

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে সাগর-মহাসাগরে কমে যাচ্ছে অক্সিজেন

-

জলবায়ু পরিবর্তন এবং দূষণের কারণে মহাসাগরগুলোতে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মাছের অসংখ্য প্রজাতি।
পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন-এর বড় ধরনের একটি গবেষণায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বহু দশক ধরেই বিজ্ঞানীরা জানতেন যে, মহাসাগরগুলোতে পুষ্টিমান কমে যাচ্ছে। এখন গবেষকরা বলছেন, জলবয়ু পরিবর্তনের কারণে অক্সিজেন হ্রাস পরিস্থিতিকে মারাত্মক করে তুলছে, ফলে হুমকিতে পড়েছে টুনা, মার্লিন, হাঙ্গরের মতো অনেক মাছ।
কারণ বড় মাছগুলোর বেশি শক্তির দরকার হয়।
সারা বিশ্ব জুড়ে ৭০০-এর বেশি সামুদ্রিক এলাকা এখন অক্সিজেন স্বল্পতায় ভুগছে। ১৯৬০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৫টি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃষি খামার ও শিল্প কারখানা থেকে নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস সমুদ্রের পানিতে গিয়ে মেশার কারণেই পুষ্টি-দূষণের ঘটনা ঘটছে।
সেই সাথে এসব কারণে সমুদ্রের পানিতে থাকা অক্সিজেনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে বলে বিজ্ঞানীরা জানতেন। এত দিন ধারণা করা হতো, এটি শুধুমাত্র উপকূলীয় এলাকার সমুদ্রেই প্রভাব ফেলছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই হুমকির মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্রিনহাউজের কারণে যেহেতু কার্বন-ডাই অক্সাইড বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার ফলে সমুদ্রগুলোকে আরো বেশি তাপ শুষে নিতে হচ্ছে। ফলে উষ্ণ পানি কম অক্সিজেন ধরে রাখতে পারছে।
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ১৯৬০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সমুদ্রের পানি থেকে ২ শতাংশ অক্সিজেন হারিয়ে গেছে।
সারা বিশ্বের বিবেচনায় এটা খুব বেশি মনে নাও হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো গ্রীষ্মপ্রধান এলাকায় এই হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এমনকি খুব সামান্য পরিবর্তনও সামুদ্রিক জীবনযাত্রার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন কম অক্সিজেন সমৃদ্ধ পানি জেলিফিশের মতো প্রাণীর জন্য উপকারী হতে পারে কিন্তু টুনা মাছের মতো বড়, দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে, এমন প্রাণীর জন্য সেটি ভালো নয়।
অক্সিজেন হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি আমরা জানতাম, কিন্তু সেটার সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক এবং কতটা হুমকি তৈরি করছে সেটা আমাদের জানা ছিল না, বলছেন আইইউসিএনের কর্মকর্তা মিন্না ইপস।
গত ৫০ বছরে অক্সিজেন কমে যাওয়ার হার যে শুধুমাত্র চারগুণ হয়ে গেছে তাই নয়, এমনকি যেসব জায়গায় কার্বন নিঃসরণ কম হয়েছে সেখানেও মহাসাগর থেকে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে।
গবেষকরা বলছেন, এর ফলে টুনা, মার্লিন ও হাঙ্গরের মতো অনেক প্রাণী সমুদ্রের উপরের দিকে এসে থাকতে শুরু করেছে। কিন্তু এ কারণে এসব প্রাণী মাছ শিকারিদের সহজ টার্গেটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়ে যাচ্ছে।
বিশ্বের দেশগুলো যদি কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো মনোভাব দেখিয়ে যায় তাহলে ২১০০ সাল নাগাদ মহাসাগরে অক্সিজেনের মাত্রা তিন থেকে চার শতাংশ কমে যাবে।
গ্রীষ্মপ্রধান এলাকাগুলোয় এই হার হবে আরো অনেক বেশি। বেশির ভাগ ক্ষতি হবে সমুদ্রের প্রথম এক হাজার মিটারের মধ্যে যেখানে সবচেয়ে বেশি জীববৈচিত্র্য রয়েছে। কম মাত্রার অক্সিজেনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যচক্রের মতো মৌলিক ক্ষেত্রেও হুমকি তৈরি হবে।
আমরা যদি সাগর থেকে অক্সিজেন হারিয়ে ফেলি তাহলে সেখানে প্রাণীগুলোর আবাসস্থল নষ্ট হবে, জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে এবং আরো বেশি জেলিফিশের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবেÑ বলছেন মিন্না ইপস।
এটা সেই সাথে মহাসাগরের শক্তি এবং জৈব রাসায়নিক চক্র পাল্টে দেবে। ফলে আমরা এখনো জানি না, এসব জীববৈচিত্র্যের এবং রাসায়নিক পরিবর্তন মহাসাগরের ভেতরে কী ঘটাবে?
সমুদ্রে পরিবর্তনের এসব তথ্য বিশ্ব নেতাদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।
মহাসাগরের অক্সিজেন কমে যাওয়ায় সমুদ্রের তাপমাত্রা ও এসিড বেড়ে যাওয়ার ফলে এর মধ্যেই ক্ষতির মুখে পড়েছে সমুদ্রের পরিবেশÑ বলছেন গবেষণাটির সহলেখক ও আইইউসিএনের গবেষক ড্যান ল্যাফোলে।
আমাদের ব্যাপকভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে হবে। সেই সাথে কৃষিখামার ও অন্যান্য উৎসের কারণে সমুদ্রে যে পুষ্টি-দূষণ হয় সেটাও বন্ধ করতে হবে।

 


আরো সংবাদ

নীলফামারীতে আজ আজহারীর মাহফিল, ১০ লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতির টার্গেট (১৬৬৬৩)ইসরাইলের হুমকি তালিকায় তুরস্ক (১৪৪৬৩)বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে মহীশূরের মেয়র হলেন মুসলিম নারী (১৩৮৭০)আতিকুলের বিরুদ্ধে ৭২ ঘণ্টায় ব্যবস্থার নির্দেশ (৮৩৫১)জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তাবিথের প্রচারণায় হামলা (৮১০২)মসজিদে মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিল না ভারতের আদালত (৫৯৫১)মৃত ঘোষণার পর মা কোলে নিতেই নড়ে উঠল সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটি (৫৭৮২)তাবিথের ওপর হামলা : প্রশ্ন তুললেন তথ্যমন্ত্রী (৫৪৪৯)দ্বিতীয় স্ত্রী তালাক দিয়ে ফিরলেন স্বামী, দুধে গোসল দিয়ে বরণ করলেন প্রথমজন (৫৩৯৭)ইশরাককে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ডেমরাবাসী (৪৭৪৬)



unblocked barbie games play