০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ছয় টাকা

-

রাজধানীর খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চালের দাম কেজিতে ছয় টাকা বেড়েছে। মোটা চালের দাম বেড়েছে চার টাকা। চালের এ মূল্যবৃদ্ধির জন্য খুচরা বিক্রেতারা দায়ী করছেন পাইকারদের। আর পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগের আঙ্গুল মিলমালিকদের দিকে। তবে তাদের প্রত্যেকেরই দাবি, বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এ দিকে নতুন সড়ক আইনও চালের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর মৌলভীবাজারে পাইকারি মার্কেটে গতকাল প্রতি কেজি ভালো মানের মিনিকেট চাল বিক্রি হয় ৫৯ থেকে ৬০ টাকা। খুচরা বাজারে এসে একই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারেই এ দাম ছিল ৫৮ থেকে ৫৯ টাকা। কয়েক দিন আগে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে মোটা চালের কেজিপ্রতি দর ছিল ৩২ থেকে ৩৪ টাকা, যা গতকাল বিক্রি হয় ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা কেজি দরে। মাঝারি মানের বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়।
ঢাকার পাশাপাশি চালের দাম বেড়েছে ঢাকার বাইরের মোকামেও। তবে মোকামে দাম বেড়েছে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা। কুষ্টিয়ার চালের আড়তে গত সপ্তাহে মিলগেটে মিনিকেট চাল বিক্রি হয় ৫৮ টাকা কেজি দরে, যা এখন ৬০ টাকা হয়েছে। খুচরা বাজারে তা ভোক্তারা কিনছেন ৬৫ টাকা দরে। মিলমালিকেরা বলছেন, ধানের দাম বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। মিনিকেট চালের দাম আরো কিছুটা বাড়তে পারে বলে বলেও জানান চালকল মালিকরা। অথচ আড়তদার, মিলমালিক কিংবা খুচরো বিক্রেতা সবাই একবাক্যে বলছেন, এ সময়ে এভাবে চালের দাম বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার নিজেও বলেছেন, দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বোরো মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল থেকেই বাজারে চালের দাম বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ওঠে ৫০ টাকায়, যা কয়েক বছর ধরে ৩৫ টাকার নিচে ছিল। এরপর আমদানি বাড়ায় দাম কিছুটা কমে যায়। জানুয়ারিতে আমন মৌসুমের চাল বাজারে আসার পর দাম এক দফা বেড়েছিল। এখন আরেক দফা বেড়েছে।
চালের দাম বৃদ্ধির জন্য খুচরা বিক্রেতারা দায়ী করছেন পাইকারদের। আর পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগের আঙ্গুল তাক করা মিলমালিকদের দিকে। তবে তাদের প্রত্যেকেই দাবি, বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান পাইকারি মার্কেট বাবুবাজারের মমতা রাইস এজেন্সির মালিক নূর মোহাম্মদ গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, যে দামে এখন চাল বিক্রি হচ্ছে সেটি বছরের এ সময়ে সাধারণত যে দামে চাল বিক্রি হর তার চেয়ে কেজিপ্রতি ৪-৫ টাকা করে বেশি। দাম এখন একটু বাড়তির দিকে জানিয়ে তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগেও যে দামে চাল বিক্রি করেছি, এখন তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ মিল থেকে আমাদের কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
এ দিকে দাম বৃদ্ধির জন্য পাইকারি বিক্রেতারা মিল মালিকদের দায়ী করলেও তা মানতে নারাজ মিলমালিকরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলীর দাবি, ধানের দাম বেড়েছে বলে মিনিকেট চালের দাম সামান্য বেড়েছে। ২০-২২ দিন আগেও যে ধান আমরা ৮৫০ টাকায় কিনেছি সেটা এখন এক হাজার ২০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে সরু চালের দাম সামান্য বেড়েছে যাতে বাজারে খুব একটা প্রভাব পড়ার কথা নয়। তিনি বলেন, চিকন চাল আগে অল্প লোক কিনত। কিন্তু দাম কম থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই খাওয়া শুরু করেছে। যদিও যে ধান থেকে চালটা হয় সেটি বছরে মাত্র একবারই উৎপাদন হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চালের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ধানের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি অনুসঙ্গ হিসেবে কাজ করেছে সরকারের সড়ক পরিবহন আইন। আইনে মোটা অংকের জরিমানার পাশাপাশি বড় ধরনের সাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে ট্রাকচালকদের মাঝে মারাত্মক আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে রাস্তায় ট্রাক বের করা বন্ধ করে দিয়েছে। তা ছাড়া রাস্তার ক্ষতি এড়াতে সরকার অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। মহাসড়কের ওজন স্কেলগুলোতে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনকে জরিমানা করা হচ্ছে। এসব কারণে ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে। স্বাভাবিক কারণে বেড়েছে চালের দামও।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির মালিক মহিউদ্দিন রাজা এ প্রসঙ্গে বলেন, চালের দাম বেড়েছে মূলত ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায়। বেনাপোল থেকে আসতে প্রতি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৭ হাজার টাকা, যা এখন হয়েছে ২২ হাজার টাকা। অন্য দিকে একটি ট্রাকে ২০ টনের জায়গায় চাল আনা যাচ্ছে ১৩ টন। ঢাকা- বেনাপোল পথের পাশাপাশি অন্যান্য পথেও ট্রাকভাড়া বাড়তি দিতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ দিকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার চালকলের মালিকদের সাথে বৈঠক করে দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে চালের যথেষ্ট মজুত আছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ এখন বেশি বেশি করে চিকন চালের ভাত খাওয়ায় চিকন চালের দাম বেড়েছে। তবে মন্ত্রীর এ তত্ত্ব সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে উপহাস বলে মন্তব্য করছেন সাধারণ মানুষ।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik