১২ নভেম্বর ২০১৯
ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে দ্বন্দ্ব

এক নেত্রী কোপালেন আরেক নেত্রীকে

-

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে বহিরাগতকে রাখা নিয়ে গতকাল শনিবার সকালে ছাত্রলীগ নেত্রীদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে এক ছাত্রলীগ নেত্রীর হাতে গুরুতর জখম করেন হলে দীর্ঘ দিন ধরে অবস্থান করা বহিরাগত এক ছাত্রী। পুলিশ নাসরীন নুর নাবিলা নামের ওই ছাত্রীকে হল থেকে আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, নাবিলা শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবা নাসরিন রূপার ঘনিষ্ঠ এবং টাকার বিনিময়ে তাকে হলে রাখছেন রূপা। বঁটির কোপে আহত সাবিকুন্নাহার তামান্না ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির একজন সদস্য। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে, পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রূপা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলে ২১৯ নম্বর কক্ষে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাবিলাকে টাকার বিনিময়ে রাখতেন। রূপার প্রভাবে নাবিলা সম্প্রতি বেয়াদবি করেছেন অনেক সিনিয়রের সাথে। বহিরাগত হয়েও নাবিলার প্রভাব বিস্তার এবং বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ জানান ছাত্রলীগের অন্য নেত্রীরা। তাকে হলে রাখাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার ভোর রাতে হলে অন্য নেত্রীদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাবিকুন্নাহার তামান্নার হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেন নাবিলা। পরে আহত তামান্নাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাবিলার ব্লকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী গতকাল বলেন, ইডেনে প্রচুর সিট-বাণিজ্য হয়, এটি সবার জানা। আজকের ঘটনার মূলহোতা নাবিলা মেয়েটি বহিরাগত। সে টাকার বিনিময়ে হলে থাকে এবং হলের মেয়েদের শাসন করে বেড়ায়। আমরা শুধু নিজেদের সেফটির জন্য এসব বলি না।
জানা যায়, নাবিলাকে হলে রাখা নিয়ে অনেক দিন ধরে সমস্যা হচ্ছিল। গতকাল শনিবার ভোরে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনজুমান আরা অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা ওই হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে নাবিলাকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং তাকে হুমকি দেন। অনুর অনুসারীদের একজন ছিলেন সাবিকুন্নাহার তামান্না। এ সময় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ খবর পেয়ে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রূপা দৌড়ে যান ২১৯ নম্বর কক্ষে। রূপা সেখানে গেলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তামান্নাকে বঁটি দিয়ে কোপ দেন নাবিলা। পরে অন্যপক্ষ রূপার গ্রুপের কর্মীদের ওপর পাল্টা হামলা করে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রূপা বলেন, ২১৯ নম্বর রুমে নাবিলা নামে এক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ডিগ্রিতে পড়ে। তিনি বহিরাগত না। তাকে নিয়ে ঝামেলা শুরু করেন অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা। তারা ২১৯ নম্বর রুমে গিয়ে ওই রুমের মেয়েদের বিবস্ত্র করে তাদের ছবি তুলেছেন ও মারধর করেছে। তারা আমার রুম ভাঙচুর করেছেন। আমাকে হল থেকে বের করে দিয়েছেন। আমি কাউকে মারিনি। কাউকে আঘাতও করিনি। ছাত্রলীগের কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আনজুমান আরা অনু বলেন, আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না, ঘটনার পরে আসছি। আমি কাউকে মারধর করিনি।
আহত তামান্না জানান, ওই হলের পাঁচতলা থেকে নিচে নামলে ছাত্রলীগ সহসভাপতি রূপা আক্তারের নির্দেশে নাবিলা নামের মেয়েটি আমার বাম হাতে বঁটি দিয়ে কোপ দেন। পরে অন্য ছাত্রীরা আহত অবস্থায় আমাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা দেখে ভর্তি করেন। কয়েক দিন আগে ওই নেত্রীর সাথে আমার কথাকাটাকাটি হয়। তার জের ধরে আজ (শনিবার) সকালে আমার ওপর হামলা করে।
এ বিষয়ে লালবাগ থানার ওসি এ কে এম আশরাফ উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা শুনেছি হলে মেয়েদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আটক হওয়া নাবিলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না দেয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ দিলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ দিকে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেত্রীদের সিট-বাণিজ্যের কথা কলেজ প্রশাসন জানলেও এর কোনো প্রতিকার হয়নি। সার্বিক বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ শামসুন নাহারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 


আরো সংবাদ