১৭ নভেম্বর ২০১৯

একনায়ক সরকার হটাতে ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামতে হবে : ফখরুল

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা হনয়া দিগন্ত -

সরকার পতনে সবাইকে রাস্তার নামার তাগিদ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, এই সরকার ফ্যাসিস্ট, একনায়ক। এদের হাত থেকে মুক্তি পেতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। বেগম খালেদা জিয়াকেও মুক্ত করতে হবে। আমাদের অধিকারগুলোকে ছিনিয়ে আনতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামতে হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে এককভাবে পরাজিত করা যায় না। সব শক্তি এক জায়গায় আনতে হয়। আমরা সেই লক্ষ্যেই যাচ্ছি। আমরা মনে করি যে, সব দেশপ্রেমিক শক্তি, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা এই একনায়ক ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো। তার জন্য দরকার ইস্পাত কঠিন ঐক্য। সেই ঐক্য সৃষ্টি করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। বিজয় আমাদের অবশ্যম্ভাবী।
তিনি বলেন, এই সরকার যারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সচেতনভাবে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র করতে চায়। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দিচ্ছে, তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, মানুষকে সুশাসন থেকে বঞ্চিত করছে, নিজেদের দুর্নীতি এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যেটাকে ঢাকার জন্য নিজেদের চুনোপুঁটিদের ধরতে হচ্ছে। একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই চুনোপুঁটি ধরে এবং ক্যাসিনো গল্প সাজিয়ে মূল দুর্নীতি থেকে আপনারা (সরকার) জনগণের দৃষ্টিকে আড়াল করতে পারবেন না।
৭ নভেম্বর নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যারা সরকারে আছেন, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননি, জোর করে ক্ষমতায় আছেন তারা বলেন, ৭ নভেম্বর আমরা মানি না। আজকে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে, যারা বাংলাদেশকে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে আছেÑ এ ধরনের রাষ্ট্র দেখতে চায়Ñ তারা অবশ্যই ৭ নভেম্বরকে পালন করব। কারণ ওই দিন নতুন করে আমাদের দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করছেন তার হিসাব কোথায়, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছেন তার হিসাব কোথায়? শেয়ার মার্কেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছেন তার হিসাব কোথায়? তাদের হিসাব মাফ করার জন্য আপনাদের কেউ মন্ত্রী, কেউ উপদেষ্টা, কেউ আপনাদের নিজেদের আপনজন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে মানুষের অধিকার নেই, ভোটের অধিকার নেই, বেঁচে থাকার অধিকার নেই, বাকস্বাধীনতা নেই, সংবাদপত্রের কোনো স্বাধীনতা নেই। গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে সাদেক হোসেন খোকার বিভিন্ন নামাজে জানাজার খবর ছাড়া কোনো খবর ছিল না। আজকে আমাদের প্রিন্ট মিডিয়াগুলো দেখবেন, বেশির ভাগ প্রিন্ট মিডিয়ায় এই খবরটাকে পেছনের পাতা অথবা ভেতরের পাতায় নিয়ে গেছে। আমি জানি, জিজ্ঞাসা করলে বলবেন, আমাদের বলার কী আছে। আমাদেরকে তাই নির্দেশ দিয়েছে। এটাই চলছে এখন। কেউ নির্দেশ করছে, কেউ আবার সেলফ সেন্সরশিপ করছে। এটি ছাপলে নাকি আবার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ৭ নভেম্বর যে অবস্থা দেশের হয়েছিল আজকেও আমাদের ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসন, গায়ের জোরের শাসনের কারণে বাংলাদেশে আজকে ঠিক একই অবস্থা বিরাজ করছে। আজকে বাংলাদেশ একটি স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট সরকারের রোল মডেল হয়েছে, দুর্নীতির রোল মডেল হয়েছে, অত্যাচার-অনাচার-চাঁদাবাজির রোল মডেল হয়েছে, ক্যাসিনোর রোল মডেল হয়েছে।
তিনি বলেন, এ দেশে ওপর থেকে সমাজের সর্বস্তরে পচন লেগেছে। তাই আমাদেরকে এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ছাড়া গণতন্ত্র আসবে না, এই সরকারের পতন হবে না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে আমরা ব্যর্থ হয়েছি বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করতে পারিনি। আজকে এক বছর ৯ মাস হয়ে গেছেন তিনি কারাগারে আছেন। তার শরীরের অবস্থা খুবই খারাপÑ আপনারা সবাই জানেন। আদালতের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার জামিনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। হয়তো জামিন হবে না। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি রাজপথের আন্দোলনে আসতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে হাসিনার মুক্তি। এই দুটো পাশাপাশি। সেই কারণেই সিদ্ধান্ত নিনÑ সরকার পতনের আন্দোলন করবেন না দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন করবে। যেই কারণেই আন্দোলন করেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন মানেই সরকার পতনের আন্দোলন, আর সরকার পতনের আন্দোলন মানেই দেশনেত্রীর মুক্তি। সেই কারণে বলব, ৭ নভেম্বর চেতনাকে ধারণ করেন, আজকে আবার সেই ৭ নভেম্বরের চেতনা গর্জে উঠুক সবার মনে, সবার অন্তরে।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী ও সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের বজলুল বাসিত আনজু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় বিএনপির আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, বিলকিস জাহান শিরিন, শিরিন সুলতানা, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, রেহানা আখতার রানু, আবদুস সালাম আজাদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম, মোরতাজুল করীম বাদরু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, কাজী আবুল বাশার, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবুল কালাম আজাদসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ