১৯ নভেম্বর ২০১৯

ভোলায় দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম ৫ হাজার জনকে আসামি করে মামলা

জেলাজুড়ে থমথমে অবস্থা
-

মহান আল্লাহ ও রাসূল সা:-কে নিয়ে কটূক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সাথে তৌহিদী জনতার সংঘর্ষে হতাহতের প্রতিবাদ এবং ছয় দফা দাবিতে গতকাল সোমবার ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে সমাবেশের ডাক দেয় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্যপরিষদ। তবে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্যপরিষদ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার ওসির অপসারণসহ ছয় দফা দাবিতে ভোলা প্রেস কাবে সংবাদ সম্মেলন করে। এ সময় তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলন শেষে ভোলা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ দিকে পুলিশের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু’টি পৃথক তদন্ত কমিটি। যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে পুলিশসহ বিপুল বিজিবি, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহলরত আছে। তবে সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনার পর থেকে পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। তবে নেতৃবৃন্দের দাবি পূরণ করে নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পরে তাদেরকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। ভোলা প্রেস কাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সর্বদলীয় ঐক্যপরিষদের আহŸায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখার স্বার্থে সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলমান থাকবে। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে প্রতি উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি, বুধবার বেলা ১১টায় জেলা শহরে মানববন্ধন এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতদের জন্য দোয়া মুনাজাতের কর্মসূচি পালন করা হবে। যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছয় দফা মেনে না নেয়া হয় তবে আরো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্যপরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, আল্লাহ ও নবী রাসূল সা:-কে নিয়ে কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে যদি দেশে কঠিন শাস্তির আইন থাকত তা হলে রোববার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের গুলিতে নিহত চার মুসলিমকে নিহত হতো না।
মহান আল্লাহ তায়ালা, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: ও ইসলামকে নিয়ে ব্যঙ্গ ও কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে। বিপ্লব চন্দ্র শুভর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে। সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহতদেরকে সরকারি খরচে চিকিৎসা দিতে হবে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদেরকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
ছয় দফা দাবিগুলো হলো : অবিলম্বে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার, বোরহানউদ্দিনের ওসিকে এবং তদন্তসাপেক্ষে গুলির হুকুমদাতা ও গুলিবর্ষণকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: ও ইসলাম নিয়ে ব্যঙ্গ এবং কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে। আমাদের মহানবী সা: ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলাম নিয়ে ব্যঙ্গ ও কটূক্তিকারী বিপ্লব চন্দ্র শুভকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে। ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় সংঘর্ষে শাহাদত বরণকারী ব্যক্তিদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সরকারি খরচে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানিমূলক মামলা বা কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইয়াকুব আলী চৌধুরী, মাওলানা মো: ইউসুফ, মাওলানা মো: আতাহার আলী, মাওলানা তৈয়বুর রহমান, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা মাহাবুুবুর রহমান, সদস্য সচিব মাওলানা তাজুদ্দিন ফারুকী প্রমুখ। এ দিকে সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত হচ্ছে, পরবর্তীতে তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, যে দাবিগুলো সরকারি বিভাগ সম্পর্কিত তারা তা বিবেচনা করে দেখবে।
এ দিকে মহান আল্লাহ ও মহানবী সা:-কে কটূক্তি করে ফেসবুক ও মেসেঞ্জজারে বার্তা দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের জন্য বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করেছে পুলিশ সদর দফতর। অন্য দিকে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (স্থানীয় সরকার) প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে দেশব্যাপী হরতাল, বিক্ষোভ, সমাবেশসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। সংঘর্ষের পর থেকে পুরো জেলাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে পুলিশসহ বিপুলসংখ্যক বিজিবি, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক।


আরো সংবাদ