১৯ নভেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ত্রিপক্ষীয় গ্রুপের বৈঠক ঢাকায় থাকছে তিন দেশের প্রতিনিধি

-

মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সুরাহায় ব্যর্থতার পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চলতি মাসে ঢাকায় চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের ত্রিপক্ষীয় কার্যকরী গ্রুপের এটি প্রথম বৈঠক। ঢাকায় নিযুক্ত চীন ও মিয়ানমারের দুই রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মহাপরিচালককে নিয়ে এই কমিটি গঠিত হয়েছে।
সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া এই গ্রুপের লক্ষ্য। এর পরবর্তী বৈঠক মিয়ানামারে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গ্রুপের সদস্যরা রাখাইনে সরেজমিন গিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখবেন।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর দিন নির্ধারিত ছিল; কিন্তু রোহিঙ্গাদের আপত্তির কারণে প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। তারা মিয়ানমারের নাগরিকত্বসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় কক্সবাজারে মাঠপর্যায়ে চীন ও মিয়ানমার দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সার্বিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। গত বছর ১৫ নভেম্বর একই কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যায়।
নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে উপস্থিত ছিলেন। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গাবিষয়ক দূত ক্রিস্টিনা বার্গেনারও এতে যোগ দিয়েছিলেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গারা যাতে তাড়াতাড়ি দেশে ফিরে যায়, সে জন্য চীন একটি ত্রিপক্ষীয় কার্যকরী গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী এটি মাঠপর্যায়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সহায়তা দেবে। ত্রিপক্ষীয় কার্যকরী গ্রুপটি তাদের সুপারিশ মন্ত্রীদের দেবে। চীনের এই প্রস্তাবে মিয়ানমার প্রথমে রাজি ছিল না। তাদের যুক্তি, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কার্যকরী গ্রুপ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের এই প্রস্তাবে মিয়ানমার তাদের সম্মতির কথা জানিয়েছে। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মিয়ানমার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বলেছে, প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠক শেষে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ বারবার বলে আসছে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সুরাহা না হলে এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে। চীন এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিয়ানমারও এটা স্বীকার করে নিয়েছে। মিয়ানমারের মতে, এটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী ও বৌদ্ধ উগ্রপন্থ’ীদের দমন-পীড়ন ও নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সই হওয়া প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় গত দুই বছরে একজন রোহিঙ্গাও রাখাইনে ফিরে যেতে পারেনি। এ জন্য রোহিঙ্গাদের অনীহার পাশাপাশি মিয়ানমারের কূটকৌশলকে দায়ী করে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বন করে আসছে চীন। এর কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চীনের মধ্যস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

 


আরো সংবাদ