১৬ অক্টোবর ২০১৯
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

সার্বজনীন স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্ক পৌঁছালে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে : বাসস -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বজনীন স্বাস্থ্য কর্মসূচি (ইউএইচসি) অর্জনে অভিন্ন লক্ষ্যের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে জাতিসঙ্ঘভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে জাতিসঙ্ঘভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সার্বজনীন স্বাস্থ্য কর্মসূচি অর্জনের অভিন্ন লক্ষ্যের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ভিত্তি।’
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ইউএইচসি ও এসডিজিস অর্জনে প্রতিটি দেশের জন্য স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়ন কৌশল প্রণয়নে কার্যকর বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদরদফতরের ইকোসোক চেম্বারে সার্বজনীন স্বাস্থ্য কর্মসূচির (ইউএইচসি) ওপর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি ‘মাল্টি স্টেকহোল্ডার প্যানেল’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে সহসভাপতিত্ব করছিলেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেজও ‘ইউএইচসি সমতা, অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন ও সবার জন্য সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সহসভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচকদের মধ্যে ছিলেনÑ জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিজ মিশেল বাশেলে, ম্যালেরিয়া নির্মূলে আরবিএম অংশীদারিত্ববিষয়ক বোর্ডের সভাপতি মিজ মাহা তাইসির বারাকাত, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক মিজ উইনি বায়ানিমা ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক জেফেরি সাখস।
বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুবিধার অধীনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সম্পদের সমাবেশ ঘটাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে ইউনিভার্সেল হেলথ কভারেজের আওতায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করাটাই প্রধান বাধা এবং এই বাধা দূর করার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ইউনিভার্সেল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটসের ক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই পর্যাপ্ত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও ভালোভাবে জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার পল্লীর জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব ক্লিনিকের মধ্যে প্রতিদিন প্রতিটি ক্লিনিক থেকে গড়ে ৪০ জন রোগী স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই শিশু ও নারী। প্রতি মাসে এসব ক্লিনিকে প্রায় ১০ মিলিয়নেরও বেশি লোক স্বাস্থ্য সুবিধা নিতে আসে।
অটিজম এবং নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার-বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: মোদাচ্ছের আলী অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নিউ ইয়র্ক পৌঁছেছেন
ইমরান আনসারী যুক্তরাষ্ট্র থেকে জানান, জাতিসঙ্ঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার স্থানীয় সময় ৪টা ২০ মিনিটে ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের একটি বিমানযোগে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে পৌঁছেন। নিউ ইয়র্ক পৌঁছালে বিমান বন্দরে তাকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. জিয়া উদ্দিন ও জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মাসুদ বিন মোমেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় ম্যানহাটনে অবস্থিত লটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেল। সেখানেই তিনি প্রায় আট দিন অবস্থান করবেন। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিবেশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ প্রায় দুই শতাধিক সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তিরা। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ সফরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজ শীর্ষক দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এতে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরার কথা রয়েছে। একই দিন প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আয়োজিত কাইমেট অ্যাকশন সামিটে অংশগ্রহণ করবেন।
এ ছাড়াও দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স ভ‚ষিত ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কারের জন্য এ বছর মনোনীত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে।
রোহিঙ্গা সঙ্কট বিষয়ে তিনটি সাইট ইভেন্টে যোগদানের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়াও জাতিসঙ্ঘ সফরকালে তিনি বৈঠক করবেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব এন্তেনিয়ো গুতেরাস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে জড়ো হয়েছিলেন পাঁচ শতাধিক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেøাগানে সেøাগানে প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানান দলটির নেতাকর্মীরা। অপর দিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিমান বন্দরে কাল পতাকা প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখান যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum