১৫ অক্টোবর ২০১৯

ফতুল্লায় ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে ১৪ ঘণ্টার অভিযান

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নারী ব্যাংক কর্মকর্তাসহ তিনজন আটক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় উগ্রবাদীদের আস্তানায় পুলিশের অভিযান :নয়া দিগন্ত -

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার পিলকুনি তক্কার মাঠ এলাকায় উগ্রবাদী আস্তানা সন্দেহে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে ১৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। অভিযানে তিনজনকে আটক এবং বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও খেলনা পিস্তল (টয়গান) উদ্ধার করেছে। অভিযান শেষে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, আটককৃতরা নব্য জেএমবির সদস্য। আর ওই বাড়িটি বোমা তৈরির ল্যাব হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত ২টার দিকে পিলকুনি এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জয়নাল আবেদিনের বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। পরে ফতুল্লা থানা ও নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের একাধিক টিম তাদের সাথে যোগ দেয়। সকাল গড়ালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আশপাশের রাস্তা আটকিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
সকাল ৭টার দিকে ওই বাড়ি থেকে জয়নাল আবেদিনের ছেলে রাজধানীর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ফরিদউদ্দিন রুমি ও স্ত্রী অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফোয়ারা ওরফে অনুকে আটক করে। এর আগে রাজধানী থেকে মিজানুর রহমান নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানায়। মিজানুর রহমান যন্ত্রকৌশলী ফরিদউদ্দিন রুমির সাংগঠনিক ভাই বলে জানায় সিটিটিসি। ব্যাংক কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিনের আরেক ছেলে যন্ত্রকৌশলী জামাল উদ্দিন রফিক (২৩) পলাতক রয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে এসে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা বাড়িটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিট, ১টা ১০ মিনিট, ১টা ২৪ মিনিট এবং ২টা ৯ মিনিটে সর্বশেষ বোমা বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। শেষ বিস্ফোরণের পর অভিযানস্থলে আগুন ধরে গেলে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বেলা পৌনে ৩টার দিকে অভিযান সমাপ্ত করার পরে সিটিটিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মূলত ওই বাড়িটি নব্য জেএমবির সদস্যরা বোমা তৈরির ল্যাব হিসেবে ব্যবহার করত। সেখানে কেউ থাকত না। বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম, আইডি, বিস্ফোরক তৈরির উপাদান, খেলনা পিস্তল (টয়গান) চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান শেষে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযানে বাড়িটিতে বিস্ফোরক পাওয়া গেছে, এই বিস্ফোরক দিয়ে আরো অন্তত ১৫-২০টি বোমা (আইইডি) তৈরি করা যেত।
তিনি বলেন, ফতুল্লার বাসায় অভিযানের পর সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া টয়গানের (খেলনা অস্ত্র) সাথে আইএসের একটি ভিডিওর তরুণদের হাতে থাকা টয়গানের অনেকটা মিল আছে। কয়েক মাস আগে আইএস এই ভিডিও প্রকাশ করে বলে জানান তিনি।
মনিরুল বলেন, রোববার রাতে ঢাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বক্তব্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের একটি বাড়ি থেকে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ফরিদউদ্দিন রুমিকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে রুমির স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।
মনিরুল ইসলাম আরো জানান, সম্প্রতি ঢাকায় পুলিশের ওপর কয়েকটি হামলায় বোমার যেসব উপাদান ছিল সেসব উপাদান, টয়গান ও ভেস্ট নারায়ণগঞ্জের এই বাড়িতে পাওয়া গেছে। পুলিশ মনে করছে, তারা আলাদা কোনো সংগঠনের এবং অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী। তারা হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত।
মনিরুল ইসলাম বলেন, যে পাঁচটি ঘটনা আগে ঘটানো হয়েছিল বা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল সেই সব ঘটনার টার্গেট ছিল পুলিশ এবং নিরস্ত্র পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ বা পুলিশ বক্স। এটি পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশকে হত্যা করে পুলিশের মনোবল ভেঙে দেয়া, আতঙ্ক সৃষ্টি করা, পাশাপাশি তাদের এক ধরনের প্রতিশোধপরায়ণতা। তারা মনে করে পুলিশ, যেহেতু উগ্রবাদী সংগঠনের বিস্তার রোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল তাই তারা পুলিশকে শত্রু মনে করে, মুরতাদ মনে করে। এই কারণে তারা পুলিশকে টার্গেট করে আগের হামলাগুলো পরিচালনা করার চেষ্টা করেছে। এ ক্ষেত্রেও আমরা মনে করছি পুলিশ, পুলিশ বক্স, পুলিশ স্থাপনা বা পুলিশ টহল দলের ওপর ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে এগুলো এসব বিস্ফোরক ফতুল্লার এই বাড়িতে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

 


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum