১৮ অক্টোবর ২০১৯

ছোঁয়া লাগেনি অভিজাত পানশালায়

-

অভিজাতদের পানশালা হিসেবে পরিচিত ক্লাব, বার এবং হোটেলে এখনো ধরপাকড়ের ছোঁয়া লাগেনি। ওসব স্থানে নির্বিঘেœই চলছে জুয়াসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এসব অভিজাত স্থানে আদৌ কোনো অভিযান হবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ-সংশয় রয়েছে। এগুলো যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা অনেক উঁচু মাপের বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সন্দেহ।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্যাসিনো, বার, ক্লাব, স্পা সেন্টারসহ যেসব স্থানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে আসছে সেসব স্থানে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। টানা অভিযান চললেও অভিজাত কোনো স্থানে এখনো অভিযান হয়নি বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বড় বড় হোটেলগুলোতে আলাদা বার ও ক্যাসিনো রয়েছে। রাজধানীতে এমন অভিজাত হোটেলের সংখ্যা কম নয়। কোনো কোনো হোটেলে জলসাঘরও রয়েছে। রাতভর নাচ-গান ও পানীয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এসব হোটেলে। রাত হলেই এসব হোটেলে টাকা ওড়ে।
কিছু ক্লাব রয়েছে যেখানে অভিজাত লোকজনেরই যাতায়াত। যেসব ক্লাবে সদস্য হতেই কোটি টাকা লাগে। এমনও ক্লাব আছে যেখানে টাকা হলেও সদস্যপদ মেলে না। সেখানের একটি সদস্যপদ সামাজিকভাবে অনেক সম্মানের। এমন অনেক ক্লাব রয়েছে যেখানে ঢুকতে হলেও ওয়েস্টার্ন রীতিনীতি মানতে হয়। লুঙ্গি পরে, স্যান্ডেল পায়ে ঢোকা যায় না। অভিযোগ আছে, ওই ক্লাবগুলো টিকেই আছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড দিয়ে। অথচ ওই সব ক্লাবে অভিযানের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। ঢাকার বাইরেও এমন অভিজাত ক্লাব রয়েছে; কিন্তু সেসব ক্লাবে কোনো অভিযান হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব ক্লাবের সদস্য এবং পরিচালনা পর্ষদে যারা রয়েছেন তারা সবাই প্রভাবশালী। ধারণা করা হচ্ছেÑ প্রভাবের কারণেই ওই সব স্থান এখনো অভিযানের বাইরে রয়েছে।
রাজধানীতে অনেক হোটেল রয়েছে যেখানে জুয়া ও মদের আসর বসছে। রাতে সেসব হোটেলে দেশী-বিদেশীদের নিয়ে জলসাও বসছে। কিন্তু সেখানেও কোনো অভিযান নেই। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরাসহ অভিজাত এলাকার রেস্তোরাঁগুলোতেও রাতে মদের আসর বসে। অভিজাত ঘরের ছেলেমেয়েরা সেখানে আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে। ওসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় কোনো অভিযান এখনো হয়নি। অনেক অভিজাত হোটেল রয়েছে যেখানে অনেক সরকারি কর্মকর্তাও নিয়মিত যাতায়াত করেন। এমনকি, প্রশাসনের লোকজনেরও যাতায়াত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেসব স্থান এখনো অভিযানের বাইরে রয়ে গেছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালায় র্যাব। ওই ক্লাবটির সভাপতি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। ক্লাব থেকে ১৪২ জন নারী-পুরুষকে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। ওই রাতে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র এবং বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ ক্যাসিনোতে অভিযান চালান র্যাব সদস্যরা। ২০ সেপ্টেম্বর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালায় র্যাব। ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মোহামেডান, আবাহনী ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালানো হয়। ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আরামবাগ ক্লাব, মোহামেডান ক্লাব, ভিক্টোরিয়া ক্লাব, দিলকুশা ক্লাব এবং বাড্ডার ইস্টওয়েস্ট ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ওই দিন গুলশানের একটি স্পা সেন্টারেও অভিযান চালানো হয়। গতকাল সোমবার ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান চালান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা। ঢাকার একটি পুরনো ক্লাবের এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, ক্লাবগুলো ফুটবলসহ নানা ধরনের খেলাধুলা পরিচালনা করে। এদের মূল লক্ষ্য জুয়া খেলা নয়। দু-একটি বাদে এসব ক্লাবে মদের চর্চাও নেই। অথচ এই ক্লাবইগুলোই এখন টার্গেট। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন। অথচ যেসব ক্লাব-বার মদ আর জুয়ার জন্যই গড়ে উঠেছে সেসব স্থানে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযান হয়নি।

 


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa