১৬ অক্টোবর ২০১৯
স্থায়ী কমিটির বৈঠক

দুর্নীতির দায়ে সরকারের পদত্যাগ দাবি বিএনপির

-

দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনায় দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। গত রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের স্বর কমে গেছে। তাদের লোকেরাই সব ধরিয়ে দিচ্ছে, ধরা পড়ছে। তাই গলাবাজি না করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছেনÑ এই কারণে পদত্যাগ করুন। নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে, নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করে জনগণকে রেহাই দিন, জনগণকে স্বস্তি দিন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গোটা দেশে এখন একটাই আলোচনাÑ ক্যাসিনো-জুয়া। সারা দেশে বলা হচ্ছে যে, ঢাকার বাইরেও এই জুয়া চলছে। এই সরকারের আমলে এটা প্রচণ্ড রকমে বেড়ে গেছে। এর প্রধান কারণটা হচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই কোথাও।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারা সচেতনভাবে দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের কারণেই কিন্তু সমস্ত অরগানগুলো ফেল করে যাচ্ছে, ভেঙে পড়ছে, কাজ করছে না। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে জোটের অন্যতম শরিক রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতি এখন একেবারে ওপর থেকে শুরু করে নিচে পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, চকিদার পর্যন্ত দুর্নীতি হচ্ছে একেবারে ফ্রিÑ যা খুশি করতে পারো, কেউ কিছু দেখবে না, দেখার কেউ নেই। দেয়ার ইজ নো অ্যাকাউটিবিলিটি, কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই।
‘খালেদার শারীরিক অবস্থা’ : মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার খালেদা জিয়ার সাথে তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। সেখান থেকে বেরিয়ে তার বোন বলেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) অত্যন্ত অসুস্থ, আগের চেয়ে অনেক বেশি অসুস্থ। উনি শুকিয়ে গেছেন এবং তিনি এখন নিজে খেতেও পারছেন না, তাকে খাইয়ে দিতে হচ্ছে।

ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলেছি, চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দেয়া হোক। তিনি যেখানে ভালো চিকিৎসা করতে চাইবেন সেখানেই তিনি চিকিৎসা করাবেন। অথচ সরকার কোনো কথাই শুনছে না। আমরা উচ্চ আদালতে গিয়েছিলাম, আদালত সেটাকে পূর্ণাঙ্গ কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমরা মনে করি, খালেদা জিয়ার প্রাপ্য বিলম্বিত করা হচ্ছে, জেনেশুনে সরকার এটা করছে। উদ্দেশ্যÑ রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাকে দূরে রাখা এবং একই সাথে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া। আমরা অবিলম্বে তার মুক্তি চাই, আইনগতভাবে চাই, জামিনের মাধ্যমে চাই।
উচ্চ আদালতের অবকাশকালীন ছুটির পর খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ের আইনি প্রক্রিয়া আবার শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
‘তারেক রহমানকে অভিনন্দন’ : মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ছাত্রদলের কাউন্সিল অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তার নেতৃত্বে ও ব্যাপক প্রচেষ্টায় এটা সফল হয়েছে। একই সাথে আমরা মির্জা আব্বাসকেও ধন্যবাদ জানিয়েছি যে, তার বাসায় এই কাউন্সিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকেলে স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক হয়। বৈঠকে রংপুর-৩ উপনির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ ও দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum