১৯ অক্টোবর ২০১৯

ক্যাসিনো চলত নেতাদের ছত্রছায়ায়

জিজ্ঞাসাবাদে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ
আদালতে নেয়া হচ্ছে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদকে : নয়া দিগন্ত -

অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার দায়ে আটক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ক্যাসিনো চলত ‘লিডারদের’ ছত্রছায়ায়। স্থানীয় নেতা বা সংশ্লিষ্টদের ছত্রছায়ায় এগুলো পরিচালিত হতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে অনেক রাঘববোয়ালই জড়িত রয়েছেন। যারা খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়ার চেয়েও বড় নেতা। যাদেরকে সবাই স্বচ্ছ হিসেবেই জানেন। কিন্তু ক্যাসিনো ব্যবসার ভাগটা ঠিকই তাদের কাছে চলে যায়। প্রাথমিকভাবে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ওই রাঘববোয়ালদের অনেকেরই নাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন।

গত বুধবার রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। ফকিরেরপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবের সভাপতি তিনি। ওই ক্লাবে অবৈধভাবে ক্যাসিনো পরিচালিত হয় এই অভিযোগে খালেদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়। ক্লাবে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১২৪ জনকে আটক করে র‌্যাব। উদ্ধার করা হয় ২০ লাখের বেশি টাকা। অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগ এনে বুধবার দুপুরের পর থেকে খালেদের গুলশানের বাড়ি ঘিরে রাখে র‌্যাব। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের দাবি গ্রেফতারের সময় খালেদের দখল থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র, গুলি, ৫৮৫ পিস ইয়াবা, ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ টাকা, ৬-৭ লাখ টাকা মূল্যের সমমান বিদেশী মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করায় দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়।

খালেদকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় খালেদ অনেকেরই নাম বলেছেন বলে জানা যায়। ওই নামগুলো নিয়ে যাচাই-বাছাই করছেন আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য। খালেদ প্রাথমিকভাবে যাদের নাম বলেছেন তারা সবাই খালেদের চেয়ে বড় নেতা। ক্যাসিনোর টাকার ভাগ তারা নিয়মিত পেয়ে আসছিলেন। তাদের ভাগ বাসায় পৌঁছে যেতো। আবার অনেক নেতা রয়েছেন, যারা নিয়মিত ক্যাসিনোতে আসতেন এবং সময় কাটাতেন। আওয়ামী জোট সরকারের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ইয়ংমেন্স ক্লাবের চেয়ারম্যান। যদিও গতকাল মেনন একাধিক গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি ওই ক্লাবে জীবনে একবারই গিয়েছেন। তিনি যে চেয়ারম্যান তা-ও জানেন না তিনি। গণমাধ্যমকে মেনন বলেছেন, ২০১৬ সালে যখন ক্লাবটি চালু হয় তখন তিনি ওই ক্লাবে গিয়েছিলেন। এরপর ওই ক্লাবে কী হয় বা না হয় তার কিছুই তার জানা নেই।

ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর ইতোমধ্যে নেয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য ওইসব ক্যাসিনোতে যেতেন। ক্যাসিনোগুলোর সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তাদের চেহারা বেরিয়ে আসবে। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও অনেকে এসব ক্যাসিনো থেকে সুবিধাভোগী বলে জানা গেছে।
গতকাল বিকেলে খালেদ মাহমুদকে গুলশান থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তবে তার দেয়া তথ্য সঠিক কি না যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, খালেদের নিয়ন্ত্রণাধীন আরো ক্যাসিনো আছে কি না বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ক্যাসিনোর মতো অবৈধ ব্যবসা চালাতে গেলে অবশ্যই অর্থ ভাগাভাগির বিষয় থাকে। সে বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। র‌্যাব খালেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরো বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে নিশ্চিত না হয়ে এখনই সে বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট র‌্যাব কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেছেন, তাকে আমরা স্বল্প সময় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেয়েছি। তবে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যগুলো সঠিক কি না, নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

তার নিয়ন্ত্রণাধীন আরো ক্যাসিনো রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অনেক বিষয়েই কিছু তথ্য পেয়েছি, তবে মনে হচ্ছে এগুলো সঠিক নয়। রিমান্ডে এনে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করলে তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়া যাবে।
খালেদ রিমান্ডে : অস্ত্র, মাদক ও মানিলন্ডারিং আইনে ৪ মামলা
অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মানিলন্ডারিং আইনে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল দুপুরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে গুলশান ও মতিঝিল থানায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খালেদ মাহমুদকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে র‌্যাবের প্রহরায় একটি সাদা মাইক্রো বাসে করে র‌্যাব কার্যালয় থেকে গুলশান থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে সন্ধ্যায় তাকে সিএমএম কোর্টে হাজির করে। এ সময় তার মাথায় র‌্যাবের হেলমেট ও বুলেটপ্রæফ জ্যাকেট পরা ছিল।

গত বুধবার সন্ধ্যায় গুলশান-২-এর নিজ বাসা থেকে খালেদ মাহমুদকে আটক করে র‌্যাব। এ ছাড়া তার মালিকানাধীন রাজধানীর ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ ১৪২ জনকে আটক করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। খালেদ মাহমুদের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় মোবাইল, অস্ত্র, গুলি, ইয়াবা, পাসপোর্ট, টাকা ও ডলার। খালেদ মাহমুদের বাসায় অভিযানে অংশ নেয়া একজন কর্মকর্তা জানান, তার বাসা থেকে একটি অবৈধ পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি, ২০১৭ সালের পর নবায়ন না করা একটি শটগান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

ক্যাসিনো থেকে গ্রেফতার ১৮২ জনের কারাদণ্ড : রাজধানীর ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা ১৮২ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে ৩১ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এদের ১৬ জন ক্যাসিনোর স্টাফ। বাকিদের ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আটক স্টাফদের মধ্যে দুই নারীকে ছেড়ে দেয়া হয়।
রাতভর ৪ ক্যাসিনোতে অভিযান : যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ গ্রেফতার ও তার মালিকানাধীন ফকিরেরপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযানের পরপরই রাতে যেসব ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়েছে সেগুলো সিলগালা করে দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ক্যাসিনোগুলো হলো ফকিরেরপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাব ক্যাসিনো, বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ ক্যাসিনো, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ক্যাসিনো এবং মতিঝিলের আরামবাগে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ক্যাসিনো।

জানা গেছে, ইয়ংমেন্স ক্লাবের পাশে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ পরিচালনা করেন। তার সহযোগী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি মোল্লা কাউসার। এখানে জুয়ার বোর্ড রয়েছে ১২টি। এখান থেকে মদ, বিয়ার ও বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-৩ এর এএসপি মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, জুয়া খেলার টাকা ১০ লাখ, মদের বোতল, তাস উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বর্ণের আংটি, চেইন পাওয়া গেছে, যা জুয়ায় ব্যবহৃত হতো।

একই সময়ে রাজধানীর গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় জুয়ার বোর্ডসহ মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। ক্লাবটি থেকে ৩৯ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র ক্লাব থেকে তিন লাখ ৩৯ হাজার টাকা, কষ্টিপাথর, মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। ক্লাবটিতে থাকা সাতটি জুয়ার বোর্ডের মধ্যে দু’টি ভিআইপিদের সংরক্ষিত ছিল।
র‌্যাব জানায়, এই ক্লাবটিতে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। ক্লাবটির পরিচালনা বোর্ডের কিছু সদস্য এর জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত বলেও অভিযোগ রয়েছে। জুয়ার পাশাপাশি ক্লাবটির ভেতরে মদ-বিয়ার ইত্যাদির বেচাকেনা চলত। কথিত ভিআইপিরা এই ক্লাবে জুয়ার আসরে বসতেন। তাদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

একই দিনে বনানীর আহম্মেদ টাওয়ারের গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ নামক ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-১। অভিযানের খবর পেয়ে ক্যাসিনোর লোকজন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অভিযানের সময় ক্যাসিনোর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ জুয়া খেলার সামগ্রী পাওয়া গেছে। ক্যাসিনোটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। এ ক্যাসিনোটির মালিককে খোঁজা হচ্ছে বলে র‌্যাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন।


আরো সংবাদ

দেশী-বিদেশী পাইলটরা লেজার লাইট আতঙ্কে (৩৯৯৩৬)পাকিস্তান বনাম ভারত যুদ্ধপ্রস্তুতি : কে কতটা এগিয়ে (২৮৪৮৪)ভারতীয় বিমানকে ধাওয়া পাকিস্তানের, আফগানিস্তান গিয়ে রক্ষা (২১৮৯৮)দুই বাঘের ভয়ঙ্কর লড়াই ভাইরাল (ভিডিও) (২০৬১৪)শীর্ষ মাদক সম্রাটের ছেলেকে আটকে রাখতে পারলো না পুলিশ, ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা (১৪৭১৯)রৌমারী সীমান্তে বিএসএফ’র গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ! (১৪৫৭২)বিশাল বিমানবাহী রণতরী নির্মাণ চীনের, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেকে (১৪৩৩৮)‘গরু ছেড়ে মহিলাদের দিকে নজর দিন’,: মোদির প্রতি কোহিমা সুন্দরীর পরামর্শে তোলপাড় (১৩৫৮২)বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়ে যা বললো বিজিবি (১১৮৬৩)লেন্দুপ দর্জির উত্থান এবং করুণ পরিণতি (৯৩৩৫)



portugal golden visa