১৬ অক্টোবর ২০১৯

রাখাইনে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তাব চীনের

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চীনের প্রতিনিধিদল : নয়া দিগন্ত -

কেড়ে নেয়া নাগরিকত্ব ও জমিজমা ফেরতের নিশ্চয়তা না পেলে মিয়ানমারে ফিরে যাবেন না বলে চীনের প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন টেকনাফে শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।
টেকনাফের ২৬ নম্বর শিবিরের সিআইসি কার্যালয়ে গতকাল সোমবার সকালে রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের কাছে এসব দাবি জানান তারা। এই সময় তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চীনের প্রতিনিধিদল মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধিদল গঠন করে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি দেখতে পাঠানোর কথা বলেন। বাংলাদেশ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন সহকারী কমিশনারসহ চীনা প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারে ফিরে যেতে কি সমস্যা লি জিমিংয়ের এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারে এখনো রোহিঙ্গাদের জন্য শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি জানিয়ে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা বলেন, ‘সে দেশে বিবদমান গ্রুপের মধ্যে সংঘাত লেগে আছে। এখনো যেসব রোহিঙ্গা সে দেশে রয়েছে, তাদের ওপর নির্যাতন চলছে। তা ছাড়া গত ২০১২ সালে আকিয়াবে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে কয়েক মাসের জন্য একটি জায়গায় জড়ো করে রাখা হলেও এখনো পর্যন্ত একই অবস্থায় তারা রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে মিয়ানমার যাব।’ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মিয়ানমারে যাবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে রোহিঙ্গা নেতা আবুল ফয়েজ, গুরা মিয়া ও মো: জসীম বলেন, আমাদের দাবি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও কেড়ে নেয়া জমিজমা ফেরত দিলেই আমরা নিজ উদ্যোগে ফিরে যাবো। মতবিনিময় শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত শালবন শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের তিনটি বাসায় যান। তাদের বাসা দেখেন, পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং কিছু স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল তাদের হাতে তুলে দেন।
এর আগে সকাল ১০টায় চীনের রাষ্ট্রদূত টেকনাফের কেরুনতলী ট্রানজিট ঘাট পরির্দশন করেন। পরিদর্শনকালে প্রত্যাবাসন বিষয়ে লি জিমিং জানতে চাইলে জবাবে অতিরিক্ত ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ্দোজা নয়ন বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশে সব কিছু প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে প্রত্যাবাসন করা যাবে।
এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূতের সাথে আরো ছিলেন, নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ইনচার্জ (সিআইসি) আবদুল হান্নান, জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালিদ হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালিদ হোসেন বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল টেকনাফের কেরুনতলী ট্রানজিট ঘাট ও শালবাগান শিবিরের রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন এবং ওই শিবির পরিদর্শন করেন। প্রসঙ্গত, গত রোববার চীনের এই প্রতিনিধিদল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে তমব্রু শূন্য রেখায় আটকেপড়া রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন এবং সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন।
কক্সবাজারে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতসহ প্রতিনিধিদল : এ দিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত মিস. চারলোটা সিলিটার, সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মিস. সিসিলিয়া রুটাসট্রমসহ ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজার পৌঁছেছে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় বিমানযোগে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল কক্সবাজার পৌঁছেন। প্রতিনিধিদলটি বিকেল পৌনে ৫টায় আরআরআরসি মো: মাহবুব আলম তালুকদারের সাথে বৈঠকে বসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হোটেল সায়মনে জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ইউএনএইচসিআর, স্থানীয় সিভিল সোসাইটির প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন। আজ মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন তারা। প্রতিনিধিদলটি ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেলথ ক্লিনিক, মডেল ওয়ার্কিং গ্রুপসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে আজ বেলা পৌনে ৩টায় প্রতিনিধিদল বিমানযোগে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum