১৬ অক্টোবর ২০১৯

পুলিশকে জনগণ যেন বন্ধু ভাবতে পারে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে পদক বিতরণ করেন : পিআইডি -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষানবিস পুলিশ কর্মকর্তাদের এমনভাবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন যেন বিপদে জনগণ তাদের বন্ধু ভাবতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নবীন পুলিশ কর্মকর্তা এবং আজকে মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে (এক বছরের) কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন তাদের এটাই বলব যেÑ বিপদে জনগণের বন্ধু, এভাবেই নিজেকে গড় তুলবেন।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের ওপর যে দায়িত্ব তা যথাযথভাবে পালন করবেন এবং সমাজের সমস্ত কালো বিষয়, যা দেশ ও সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
শেখ হাসিনা গতকাল সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সবসময় মনে রাখবেন, আপনারা জনগণের পুলিশ। কারণ জনগণের মাঝেই আপনাদের বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়-পরিজন। কাজেই তাদের কল্যাণ এবং তাদের জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা দেয়াÑ আপনাদের দায়িত্ব, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চাই, আমাদের দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আজকের যারা নবীন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুন কাজে যোগদান করছেন তাদের আমি এটাই আহ্বান জানাবো-সততা, নিষ্ঠা এবং একাগ্রতার সাথে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী সকালে সারদার বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির ভিআইপি অতিথি ভবন ‘তরুণিমায়’ পৌঁছলে হাউজ গার্ডের একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ মো: নজিবুর রহমান তাকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী সেখানে ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং একটি সুসজ্জিত খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদকও বিতরণ করেন।
শিক্ষানবিস পুলিশ কর্মকর্তা শারমিন আক্তার চুমকি কমান্ডার হিসেবে কুচকাওয়াজ পরিচালনা করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিদেশী কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে ১১৭ জন এএসপি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ১৭ জন ছিলেন মহিলা সদস্য।
প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে মো: খায়রুল কবির ‘বেস্ট শুটার’, মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বেস্ট ‘ফিল্ড পারফর্মার’ মো: সালাহউদ্দিন ‘বেস্ট হর্সম্যানশিপ’ এবং সাইফুল ইসলাম খান ‘বেস্ট অ্যাকাডেমিকে’র পুরস্কার লাভ করেন। মো: সালাহউদ্দিন শ্রেষ্ঠ শিক্ষানবিসও বিবেচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং শিক্ষানবিস এএসপিদের সাথে ফটো সেশনেও অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ অ্যাকাডেমিতে একটি আমগাছের চারা রোপণ করেন এবং ৩৬তম ব্যাচের কোর্স সমাপনী উপলক্ষে কেক কাটেন। প্রধানমন্ত্রী এবারের পুলিশ বাহিনীর সদস্য নিয়োগে ঘুষ-দুর্নীতির কোনো অভিযোগ পাওয়া না যাওয়ায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা (পুলিশ বাহিনী) যে নতুন সদস্য নিয়োগ দিয়েছেন সেখানে একটি লোকও কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ঘুষ দেয়ার কথা বলতে পারেনি। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে এবার পুলিশ বাহিনীতে যে নিয়োগ হয়েছে, সেজন্য তিনি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সরকার প্রধান বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার জন্য এই পদক্ষেপটা আমি মনে করি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতেও সেভাবেই আপনারা এগিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে বলেই আজকে আমরা জঙ্গিবাদ দমন করতে পেরেছি, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি, মাদকের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে এবং এই অভিযান চলবে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum