১৬ অক্টোবর ২০১৯

সরকার দেশে নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে : বিএনপি

বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : নয়া দিগন্ত -

সরকার বাংলাদেশে নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকেলে গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধ্বংস করে ফেলেছে। তারা এসবকে ধ্বংস করেছে স্বৈরতান্ত্রিক বা অটোক্রেটিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এখন দেশে নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র চলছে। এখানে দুইটি বিষয় আছেÑ একটা হচ্ছে পোশাক, পোশাক পরে ভাব দেখানো হয়Ñ এটাই গণতন্ত্র, ভেতরে ভেতরে গণতন্ত্রের উল্টো।
মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে জনগণের কাছে আমরা যে বক্তব্যটি দিতে চাই তা হচ্ছেÑ আসুন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করি।
সংবাদ সম্মেলন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের দলের কমিটমেন্ট শতকরা ১০০ ভাগ। আমাদের দলই সেই দল, যে দল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহু দলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে এসেছিলেন এবং বহু দলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। তিনি (জিয়াউর রহমান) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন এবং বদ্ধ অর্থনীতিকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন।
সারা দেশে বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে চরম রাজনৈতিক নৈরাজ্য চলছে। বিরোধী দলের ওপর চলছে নিষ্পেষণ, অত্যাচার, গুম, খুন ও হামলা। যে ব্যক্তি এই সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে তার বিরুদ্ধে নেমে এসেছে প্রশাসনের খড়গ। বিগত ১০ বছরে বিরোধী দলের প্রায় ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখের বেশি মামলা দেয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যা-মিথ্যা মামলা, কাস্টডিতে হত্যাÑ এসব করে একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে গত ১০ বছরে।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ থেকে মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদে বিশ্বের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময়ে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি কানাডা সরকারও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়গুলো স্পষ্টভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল বাহন যে নির্বাচন, সেই নির্বাচনের গতি-প্রকৃতি ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮-এর আগের রাতে কী ছিল তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই, তা বিশ্বের সব পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। নিউজ ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট যে প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিল তার শিরোনাম ছিলÑ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মৃত্যুর ওপর একটি শোকবার্তা।
বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আইনবহির্ভূত খেয়াল-খুশি মতো হত্যাকাণ্ড ঘটানো, বিচারবহির্ভূত হত্যা, জোরপূর্বক গুম, বেআইনিভাবে আটক, জেলখানায় জীবনের প্রতি হুমকির পরিবেশ, বন্দীদের রুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বিধিনিষেধ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, সাইবার সিকিউরিটি আইন, যা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার বড় রকমের আইন, খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখার বিষয়গুলো তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, এই গণতন্ত্রহীন পরিবেশে সরকার হয়তো এই আত্মতৃপ্তি অনুভব করতে পারেÑ তারা আজ পুরো বাংলাদেশ দখল করে নিয়েছে, আজকের বাংলাদেশে কোনো বিরোধী দল নেই, তাদের সব কার্যক্রম স্তব্ধ করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মাধ্যমে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে দুর্নীতির দায়ে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে দেশে কী হারে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি চলছে। এরকম সারা দেশে চলছে। এই বহিষ্কার হচ্ছে স্বীকৃতি, রিকগনেশন। এটা প্রমাণ হয়ে গেছে যে, তারা দুর্নীতি করছে।
ছাত্রদলের কাউন্সিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন দিয়ে তো রাজনীতি হয় না। আমি সেদিনও বলেছি যে, এভাবে রাজনীতিকে আদালত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা, এখানেই আমাদের আপত্তি। এটা নজিরবিহীন ঘটনা যে, একটা রাজনৈতিক দলের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে আদালত এবং সেটা সরকারের উদ্যোগে, তারাই করাচ্ছে।
ছাত্রদলের প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ বলেন, দেশে দুই আইন চলছে। সরকারি দল হলে এক রকমের আইন আবার বিরোধী দল হলে আরেক ধরনের আইন। আমাদের নেত্রীকে বিচার করে বানোয়াট মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। তাকে জামিনও দেয়া হচ্ছে না। বিএনপি ছাত্রদলের কাউন্সিলে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, একটি নিম্ন আদালত রায় দিচ্ছে। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ হস্তক্ষেপ করতে পারছে। সরকার যেভাবে চাচ্ছে সেভাবে হচ্ছে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum