১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় নতুন লড়াই শুরু আফগানিস্তানে কাবুলে মার্কিন দূতাবাস এলাকায় রকেট হামলা

-

শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আফগানিস্তানে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। উত্তর আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে লড়াই চলছে। কয়েক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক দিন পর বুধবার আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা বলেন।
এ দিকে গতকাল নিউ ইয়র্কে যখন ৯/১১-এর হামলার ১৮তম বার্ষিকীতে ভোরে কাবুলে মার্কিন দূতাবাস এলাকায় রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন তাখার, বাগলান, কুন্দুজ ও বদখশানের উত্তরাঞ্চলে তীব্র লড়াইয়ের সাথে সাথে কমপক্ষে ১০টি প্রদেশে লড়াই চলছে; যেখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে তালেবান যোদ্ধারা নিরাপত্তা বাহিনীকে চাপে রেখেছিল। বুধবার নিরাপত্তা বাহিনী বদখশানের কোরান-ওয়া-মঞ্জন জেলাটির দখল ফিরিয়ে এনেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। জুলাই মাসে তালেবানের হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া এই জেলাটির বিখ্যাত মূল্যবান নীল লাফিস লাজ্জুলি পাথর মজুদ থাকা খনি থেকে বিদ্রোহীদের রাজস্ব সরবরাহ করা হচ্ছিল।
গত চার বছর ধরে তালেবানের দখলে রাখা ইয়ামগান ও ওয়ারদুজের পর এটিই সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নিরাপত্তা দেয়া তৃতীয় প্রদেশ। তবে প্রতিবেশী তাখার প্রদেশের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই সপ্তাহে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীকে ইয়াঙ্গি কালা ও দারকাদ জেলা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল, যখন খাজা ঘর ও ইশকামেশ জেলায় লড়াই চলছিল।
তাখার প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র জওয়াদ হিজরি বলেছেন, ‘এই অঞ্চলে বেসামরিক লোকজন হতাহত হওয়া এড়াতে এটা ছিল কৌশলগত পশ্চাদপসরণ। এই এলাকায় আমাদের নতুন বাহিনী রয়েছে এবং শিগগিরই জেলাগুলো পুনরায় দখল করা হবে।’
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং দেশটিতে চলমান ১৮ বছরের যুদ্ধের অবসানের পথ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে তালেবানের সাথে চলা আলোচনা আকস্মিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাতিল করার পরে সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় সর্বশেষ লড়াইয়ে জোর দেয়া হয়েছে।
ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এই সিদ্ধান্তটি বিদ্রোহীদের যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হওয়ার কারণে এবং গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনাকে হত্যা করার কারণে নেয়া হয়েছে। তালেবান এই সপ্তাহে বলেছিল যে, অব্যাহত হামলার ফলে আমেরিকার সেনাদের মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়বে। জবাবে মার্কিন প্রবীণ এক জেনারেল বলেছিলেন, তালেবান হামলা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানে তাদের অভিযানের গতি আরো ত্বরান্বিত করবে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছিলেন, উত্তর আফগানিস্তানে লড়াইয়ের মাত্রা তীব্র হওয়ায় উভয় পক্ষকেই লড়াই মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। শান্তির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়া শীতকালীন আবহাওয়ায় পাহাড়ে লড়াই আরো সীমাবদ্ধ হওয়ার আগেই শেষ লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সোমবার মধ্য ময়দান ওয়ারদাক প্রদেশের সায়েদ আবাদ জেলায় আমেরিকান ও আফগান কমান্ডোদের দ্বারা পরিচালিত বিমান হামলায় কমপক্ষে সাতজন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন আফগান নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
তালেবান এক বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, ড্রোন হামলায় বিয়ের পার্টিতে যাওয়ার পথে ৯ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিমান হামলার ব্যাপারে আমেরিকান ও ন্যাটো কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
বাগলান প্রদেশের রাজধানী পুল-ই খুমরিতে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানী কাবুলের সাথে উত্তরকে সংযোগকারী প্রধান মহাসড়ক আংশিকভাবে মুক্ত করেছে।
এ দিকে গতকাল কাবুলে মার্কিন দূতাবাস এলাকায় রকেট হামলা চালানো হয়েছে। ৯/১১-এর ১৮তম বার্ষিকীতে ১১ সেপ্টেম্বর ভোরে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় দূতাবাস ভবনের বাইরে বিকট আওয়াজে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো দূতাবাস চত্বর। দৃশ্যত মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনা বাতিলের পর এটিই কাবুলে প্রথম বড় ধরনের হামলা। আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মী বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত সপ্তাহে দুই গাড়িবোমা বিস্ফোরণে দুই ন্যাটো সদস্যসহ অনেকে নিহত হন।


আরো সংবাদ