১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কমিউনিটি ব্যাংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ভিডিও কনফারেন্সে কমিউনিটি ব্যাংক উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বাসস -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণে গতকাল কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্যাংকটির উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ পুলিশ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মালিকানাধীন এই ব্যাংকের লক্ষ্য বিভিন্ন কমিউনিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছানো এবং উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা।
২০১৮ সালের ১ নভেম্বর লাইসেন্স পাওয়ার পর এই ব্যাংক ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে ছয়টি শাখা দিয়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হলো। দু’টি ঢাকার গুলশান ও মতিঝিল এলাকায়, একটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, একটি গাজীপুরের শ্রীপুর মাওনা, একটি নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি ও হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. মুস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো: নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি বাংলাদেশ কমিউনিটি ব্যাংকের বিষয়ে ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী মো: আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, এনবিআর চেয়ারম্যান মো: মোশাররফ হোসেন ভুইয়া, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিদায়ী কমিশনার মো: আছাদুজ্জামান মিয়া, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে উপস্থিত পুলিশ সদস্য এবং কমিউনিটি ব্যাংকের গুলশান শাখার সাথে মতবিনিময় করেন।
আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোনো জাতির একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী গৃহীত বেশ কিছু উদ্যোগের আবাসস্থল, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার লড়াইয়ে সম্মিলিতভাবে আমাদের টিকে থাকার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ঢাকা থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’-এর নেতৃবৃন্দের সাথে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমিশনের একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, যদিও বাংলাদেশ অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, তথাপি অনেক কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে।’
‘যে কারণে আমি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের নতুন কার্যালয় খুলতে দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এই নতুন অফিস বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন প্রচেষ্টা এবং ধারণার সাথে খাপ খাওয়াতে এবং সমন্বয় সাধন করতে সহায়তা করবে এবং আমরা এখন পর্যন্ত যতটা সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করেছি তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে এটি সারা বিশ্বের জন্য ওয়েব পোর্টাল হিসেবে কাজ করবে,’ যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোপরি, কোনো জাতিই এটি একা করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের সমগ্র বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’ কমিশনের নেতৃত্ব প্রদান করছেন জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন। বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার প্রযুক্তিবিদ বিল গেটস এবং বিশ্ব ব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও কমিশনে রয়েছেন। এ বছর জুলাই মাসে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনে’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তথা রাজনিতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দু’দিনব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বান কি-মুন এবং ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এই বৈঠকে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন।
সফরকালীন তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন, কী করে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে। তাদের সেই সফরের ফলেই গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকায় ‘গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন’-এর নতুন অফিস খোলা হচ্ছে।


আরো সংবাদ