film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indirEzhel mp3 indir, Ezhel albüm şarkı indir mobilhttps://guncelmp3indir.com Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

পারভেজ রবের স্ত্রীর সামনে শুধুই অন্ধকার

-

বাসচাপায় স্বামীর মৃত্যুশোক না সইতেই একই বাসের চাপায় মারাত্মকভাবে আহত সন্তান। এ নিয়ে হাসপাতালে শোকে স্তব্ধ পারভেজ রবের স্ত্রী রুমানা। তার মনে অসংখ্য প্রশ্ন, সামনে শুধুই অন্ধকার। খাওয়া নেই, ঘুম নেই। কোথায় যাবেন? অভাবের সংসারে সন্তানদের নিয়ে জীবনযুদ্ধের শেষ গন্তব্য কোথায় তা-ও তার জানা নেই। আপাতত হাসপাতালই তার ঠিকানা। চিকিৎসাধীন সন্তানের পাশে বসে কী করবেন? সংসারে চুলা চালাবেন নাকি সন্তানের চিকিৎসা ব্যয়ের সন্ধান করবেন তা ভেবে চোখের জলেই হাবুডুবু খাচ্ছেন। একান্ত স্বজন ছাড়া সহযোগিতার কেউ নেই। তাই সন্তানের চিকিৎসায় সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
গতকাল আলাপকালে উদ্বিগ্ন রুমানা পাল্টা প্রশ্নে জানতে চান, ‘সন্তান বাঁচবে তো? বেঁচে থাকলেও স্বাভাবিক জীবন পাবে কি? সন্তানের চিকিৎসা খরচ কোথা থেকে আসবে? বাকি সন্তানদের নিয়ে কোথায় দাঁড়াব’? কথাগুলো শেষ না করতেই চোখ ভিজে এলো। কিছুক্ষণ স্তব্ধ থেকে চোখ মুছলেন, বললেন, ‘কার কাছে কী বলব। একটা পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল; কিন্তু বিচার হলো না। কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে এলো না। এ নালিশ কার কাছে করব।’ এবার আর কান্না চেপে রাখতে পারলেন না। হাউমাউ কান্নার মধ্যে প্রশ্ন রাখলেন, ‘আমার স্বামী সন্তানের কী দোষ? কেন আমার এমন পরিণতি।’
এবার একটু শান্ত হয়ে বলেন, আমাদের পরিবারের সবার ঠিকানা এখন হাসপাতাল। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী যেখানে পারভেজের জন্য দোয়া করার কথা, সেখানে আমরা পরিবারের আরেক সন্তানকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। কোথা থেকে আসবে সন্তানের চিকিৎসা খরচ। তার ওপর বাকি সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে তার উদ্বেগের শেষ নেই। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
রুমানা বলেন, ‘তিন ছেলেমেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে সুখেই চলছিল আমাদের সংসার। সঞ্চয় করা টাকা আর ব্যাংক থেকে নেয়া লোন দিয়ে তুরাগ এলাকায় একটি বাড়ির কাজও চলছিল। হঠাৎ করে পারভেজ চলে যাওয়ায় জীবন নিমিষেই কেমন অগোছালো হয়ে গেল। স্বামী মৃত্যুর শোক শেষ হয়নি। বাড়িতে চুলা জ্বলছে না। পারভেজের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন চলছিল। ঠিক সে সময় আরেক দুর্ঘটনা আমাকে স্তব্ধ করে দিলো।’
তিনি বলেন, ‘একটা বাস কী করে এত বেপরোয়া হতে পারে। বাসের লোকগুলো আমাদের বাসার কাছেই স্ট্যান্ড বানিয়েছিল। তারা আমাদের সবাইকে চেনে। এরপরেও তারা এই কাজ করতে পারল? এখন তিন সন্তানকে নিয়ে কিভাবে বেঁচে থাকব সেটিই ভাবতে পারছি না। বড় ছেলে ইয়াসীন ইশরাক রব মালয়েশিয়াতে পড়াশুনা করে। টাকা পাঠাতে না পারলে তার পড়াশুনাতেও ব্যাঘাত ঘটবে। ছোট ছেলে ইয়াসীর বিন আলভী উত্তরা টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ে। আর মেয়ে তুরাগে একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা কিভাবে হবে তা নিয়ে বিপাকে পড়েছি।’ এ নিয়ে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চান।
গত বৃহস্পতিবার ভিক্টর পরিবহনের বাসচাপায় মারা যান সঙ্গীত পরিচালক ও শিল্পী পারভেজ রব। আর এর এক দিন পর শনিবার একই পরিবহনের আরেক বাসের চাপায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তার অনার্স পড়ুয়া ছোট ছেলে আলভী। এ ছাড়া ওই একই ঘটনায় আলভীর বন্ধু ছোটনেরও মৃত্যু হয়।

 


আরো সংবাদ