২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশকে লজ্জায় ভাসিয়ে আফগানদের জয়জয়কার

-

উত্তেজনার পারদ ক্রমেই বেড়ে চলছিল! ম্যাচের শেষ দিন। বৃষ্টিতে প্রথম সেশন ভেসে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সেশনে খেলা শুরু হয় বেলা ১টায়। এবং সাত মিনিট খেলা চালিয়ে আবার তুমুল বৃষ্টি হওয়ায় খেলাই আর হবে নাÑ এমন আমেজ বিরাজ করছিল। যার অর্থ ম্যাচ ‘ড্র’। চট্টগ্রামের আকাশও জানান দিচ্ছিল এমন কিছুর। মুহূর্তে ঘনকালো মেঘ ও বৃষ্টি। আবার থেমে গিয়ে রোদ। আবার বৃষ্টি। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় যাকে বলে ‘বৌ দৌড়ানো বৃষ্টি’। বউ বাইরে কাপড় রোদ দিয়ে ফেরার সাথে সাথে বৃষ্টি শুরু। আবার কাপড় নিয়ে ঘরে ফিরলে রোদ।’ এমনটা প্রায়ই হয়ে থাকে এখানে। তবে গতকাল আগের রাত থেকে তার চেয়েও একটু বেশিই ছিল বৃষ্টি। এতে খেলোয়াড়দের মধ্যেও চলে আসে কিছুটা রিল্যাক্সভাব। সর্বনাশের শেষ দৃশ্যপট ছিল ওটা। তবু সারাদিনই কী হয়, কী হয় করে শেষ ৭০ মিনিটে ১৮.৩ ওভার অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। এতে হঠাৎ এবং নতুন করে এক টেনশন এসে ভর করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর। ওই নার্ভাসই শেষ করে দেয় সব। সাকিব নিজেই বলেছেন, তিনিও নার্ভাস ছিলেন! কারণ আফগান দুর্দান্ত বোলিং ঠেকিয়ে ড্র করতে তো হবে। সেটা কি সম্ভব? ম্যাচের দীর্ঘ সময় যেখানে প্রত্যাশিত ব্যাটিং হয়নি। সেখানে শেষ মুহূর্তে শেষ চার উইকেটে কি সম্ভব হবে? ক’দিন আগে হেডিংলিতে অ্যাশেজে শেষ উইকেট জুটিতে ৭৬ রানের পার্টনারশিপ খেলে ইতিহাস সৃষ্টি করে বেন স্টোকস যদি পারেন, সাকিবরাও পারবেন বাকি চার উইকেটে। এ দৃঢ়তাও ছিল। কিন্তু বাকি ৪ উইকেট তুলে নিলেই দুর্দান্ত এক জয় মিলবেÑ আফগানরা কি এ সুযোগ ছাড়ে? মিস করেনি তারা। ২২৪ রানের বিশাল এক জয় তুলে জানান দিলো ২০১৭ তে আইসিসির দেয়া টেস্ট স্ট্যাটাস তাদের জন্য যথার্থই ছিল।
এর আগে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যখন খেলা শুরু হলো, তখন বিকেল ৪টা ২০ মিনিট। (১৩৬/৬ থেকে ১৪৩/৬ যাওয়া স্কোর নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশের) যার ওপর ছিল ম্যাচের সব ভরসা সেই সাকিব ওই সময়ের প্রথম বলে অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল অহেতুক কাটশট খেলে সিøপে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে ভীত নড়ে যায় বাংলাদেশের। কারণ এরপর বাকি আর সৌম্য, মিরাজ, তাইজুল ও নাইম। এরা কি আর পারবে? পরাজয়ের শঙ্কা আরো জোরাল হয়ে ওঠে। এরপর চলে বল টু বল খেলার মহড়া উইকেট ঠেকিয়ে। একেকটা বল যেন কামানের গোলার মতো এসে আছড়ে পড়তে থাকে উইকেটে। ঠিক মতো খেললে সবাই হাফ ছেড়ে বেঁচে গেলেন। আবার আর এক বলের প্রত্যাশা। হার্টবিট বাড়তে থাকে ক্রমেই। কী হবে? অপর দিকে সর্বোচ্চ আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়ে বোলিং করতে থাকেন রশিদ, জহির, মোহাম্মদ নবিরা। আফগানরাও। যারা যেখানে বসে এ খেলা উপভোগ করছিলেন, সবার মাঝেই ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। কেউ চাচ্ছিল জয়, কেউ ড্র। শেষ পর্যন্ত রশিদ খান তার দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য বজায় রেখে জয় তুলে নেন বাংলাদেশকে মলিন করে দিয়ে। সাকিবের পর এক এক করে বাকি তিন উইকেট তুলে নিয়ে আফগানরা তাদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের তৃতীয় ম্যাচে এসে দ্বিতীয় জয় তুলে নেয়। জয়টা তাদের পাওনাই ছিল। যেভাবে ব্যাটিং-বোলিং করেছে, তাতে বাংলাদেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল তারা এ ম্যাচে। তবে আউটগুলোর মধ্যে অসি আম্পায়ার পল উইলসনের ভুল আম্পায়ারিংও ছিল। যার শিকার তাইজুল। ব্যাট-প্যাড হলেও সেটাকে লেগ বিফোর দেন। রিভিউ ছিল না বিধায় আর সেটা নিতে পারেননি তিনি। কিন্তু অন্য আউটগুলোও ছিল যথার্থ। এবং বাংলাদেশ যে কোণঠাসা থেকেই খেলেছে তার প্রমাণ মেলে এতে। সাকিবের পর সৌম্য এক প্রান্তে থেকে লড়ে যান। কিন্তু মিরাজ ভুল শট খেলে আউটের পর তাইজুল অমন আউটের শিকার। আর মাত্র ২০ বল ঠেকালেই ড্র। এমন পরিস্থিতিটাও আর সামাল দিতে পারেননি সৌম্য। রশিদের বলে ক্যাচ দিতে বাধ্য হলে আফগানরা মেতে ওঠে জয়ের উৎসবে। সত্যিই দুর্দান্ত খেলেছে তারা এ ম্যাচে। শুরু থেকে যেভাবে খেলতে চেয়েছে, সব কিছুই যেন ঠিকঠাক মতোই হয়ে যায় তাদের। এবং প্রত্যাশিত জয়ও।
এ ম্যাচে রশিদ ও সাকিবের মধ্যেও ছিল একটা লড়াই। সেটাতেও জিতেছেন রশিদ। কারণ বল হাতে দুই ইনিংসে নেন ১১ উইকেট। আর ব্যাটিংয়ে ৫১ ও ২৪ দলকে অনেক এগিয়ে দিয়েছিল। এরপর জয়টাও তো পেলেন তিনি ক্যাপ্টেন্সির প্রথম ম্যাচেই। ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে সূচনাটা দুর্দান্ত হলো টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক রশিদেরও।

 


আরো সংবাদ