film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indirEzhel mp3 indir, Ezhel albüm şarkı indir mobilhttps://guncelmp3indir.com Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নাগরিকত্ব দিলে ফিরে যাবে রোহিঙ্গারা

বিতাড়নের দুই বছর পূর্তিতে কক্সবাজারে বিশাল সমাবেশ; প্রত্যাবাসন না হওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে; স্বদেশে ফিরতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা
কক্সবাজারে আয়োজিত রোহিঙ্গা সমাবেশে মানবেতর জীবনযাপনকারী রোহিঙ্গাদের মুনাজাত : নয়া দিগন্ত -

নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সমাবেশে রোহিঙ্গারা বলেছে, নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কিছুতেই স্বদেশে ফিরে যাবে না। এ অবস্থায় নিজেদের ঘরে ফিরতে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেছে।
গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে উখিয়া কুতুপালং মধুরছড়া এক্সটেনশন-৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খোলা মাঠে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস’ পালন করা হয়। রাখাইনে ভয়াবহ সহিংস ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রোহিঙ্গারা এ দিবস পালন করেছে। দিবসটিতে আয়োজিত সমাবেশে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু উপস্থিত ছিল।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহ, মাস্টার আবদুর রহিম, মৌলভী ছৈয়দ উল্লাহ ও রোহিঙ্গা নারী নেত্রী হামিদা বেগমসহ আরো অনেকে। বক্তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যা, ধর্ষণসহ সব ধরনের বর্বর নির্যাতনের নিন্দা জানান এবং আন্তর্জাতিক আদালতে এসব নির্যাতনের সাথে জড়িত সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী মগদের বিচারের দাবি জানান। সমাবেশ থেকে ভেসে আসে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরার আকুতিও। তবে এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক মর্যাদা প্রদানসহ ৫টি শর্ত মেনে নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার সরকারকে জোরালোভাবে চাপ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
শর্তগুলো হলো : (১) নাগরিকত্ব দেয়া, (২) নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, (৩) ভিটেমাটি ফিরিয়ে দেয়া, (৪) ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং (৫) রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনকারীদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করা। এ জন্য মিয়ানমার সরকারের সাথে রোহিঙ্গাদের সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
এর আগে সকাল থেকে দলে দলে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও নানা সেøাগান নিয়ে সমাবেশে যোগদান করে রোহিঙ্গারা। নানা রকম সেøাগানে মুখরিত ছিল পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা। এ ছাড়া উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, টেকনাফের উনচিপ্রাংসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাখাইনে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে সমাবেশ হয়েছে। সব সমাবেশেই নাগরিকত্ব ও ভিটেমাটি ফিরিয়ে দিয়ে প্রত্যাবাসন করার দাবি জানানো হয়।
প্রত্যাবাসন ঝুলে যাওয়ায় বেড়েছে জটিলতা : কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ায় জটিলতা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তাই রোহিঙ্গাদের আগমনের দুই বছরের পূর্তিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আবারো জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে স্থানীয়রা।
রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের দুই বছর পূর্তিকে সামনে রেখে মিয়ানমার সরকার ১ হাজার ৩৭ পরিবারকে ফেরত নেয়ার ঘোষণা ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা নাগরিকত্বসহ ৫ দফা শর্ত জুড়ে দেয়ায় প্রত্যাশিত সেই প্রত্যাবাসন সফল হয়নি। গত বছরের ১৫ নভেম্বরও একইভাবে প্রথম দফা প্রত্যাবাসনের আয়োজন ব্যর্থ হয়েছিল। জাতিগত মর্যাদা, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তাসহ তাদের মৌলিক দাবি পূরণ না করে হঠাৎ করে মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগকে একটি চালাকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয়রা : এ দিকে প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় লোকজন। ফলে শুরুতে যে সহানুভূতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল স্থানীয়রা; সময়ের ব্যবধানে সেই সহানুভূতি কমতে থাকে। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর যখন প্রথম দফায় প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হয়, তখন রোহিঙ্গাদের প্রতি অসহনশীল হয়ে উঠে স্থানীয়রা। এরপর গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাবাসনের নির্ধারিত সময়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয়দের অনেকেই এখন রোহিঙ্গাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয়দের দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতেরও সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বিপুল সংখ্যক রোহিংগা অবস্থানের কারণে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্য দিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না দেয়া ও রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না করাসহ অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে বারবার প্রত্যাবাসনের তারিখ দেয়ায় ভীতি ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে। রোহিঙ্গাদের দাবি, অধিকার ও নিরাপত্তা ছাড়া মিয়ানমারে ফিরে গেলে তাদের জীবনে আগের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি নেমে আসতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকারের বিষয়গুলো চূড়ান্ত না করে প্রত্যাবাসনের তারিখ দেয়ায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে দায় এড়ানোর কৌশল কিংবা কক্সবাজারে স্থানীয়দের সাথে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিনষ্ট করতে প্রত্যাবাসন ফাঁদ পেতেছে মিয়ানমার। তাই বিশ্লেষকরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করে এবং রোহিঙ্গাদের মতামত যাচাইপূর্বক পরবর্তীতে প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যথায় মিয়ানমারের প্রত্যাবাসন ফাঁদে তৃতীয়বার পা দিলে অশান্ত হয়ে উঠতে পারে পুরো কক্সবাজারের পরিবেশ। আর তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশও।
উল্লেখ্য, কথিত আরসা নামক একটি সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদের সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনার অজুহাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমার বাহিনী। দেশটির সেনা, বিজিপি ও উগ্রবাদী রাখাইন যুবকরা গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে রোহিঙ্গা নর-নারী ও শিশুর ওপর বর্বরোচিত নৃশংসতা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে বানের পানির মতো বাংলাদেশের দিকে ছুটতে থাকে রোহিঙ্গারা।
নতুন-পুরনোসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুযায়ী এ সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

 


আরো সংবাদ