২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সাতক্ষীরা ও নাটোরে আরো দুই নারীর মৃত্যু

ডেঙ্গু রোগী কমছে
রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত মায়ের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে উদ্বিগ্ন সন্তান : নয়া দিগন্ত -

হ্রাস পাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৪৪৬ জন। সরকারি হিসাবে নতুন করে কোনো মৃত্যু নেই। মোট মৃত্যু ৪৭ জন। গতকালও রাজধানীর চেয়ে সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি ছিল। গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৮৯ জন এবং রাজধানীর বাইরে দেশের আট বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫৭ জন। রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা গতকাল ভর্তি হয়েছেন ৪৪০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ছিল ২৪৯ জন।
বৃষ্টি হ্রাস পাওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টি আরো কমে যেতে থাকবে। ডিম ছাড়ার পর পিউপা থেকে পূর্ণাঙ্গ একটি এডিস মশা ৮ থেকে ১৫ দিন বেঁচে থাকে। এর মধ্যে বৃষ্টি না হলে মশার উৎপাদনও কমে যায়। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম ছিল। তা ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মশার বিভিন্নতা রয়েছে। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে খুবই ছোট আকৃতির এক ধরনের মশা বিস্তার লাভ করেছে। ডেঙ্গু মশা মাঝারি আকৃতির। গায়ে ও পায়ে সাদা ডোরা কাটা দাগ রয়েছে। ছোট আকৃতির যে মশা বাড়ছে সেগুলোর গায়ে সাদা দাগ নেই।
এডিস মশা শুধু যে ডেঙ্গু ভাইরাসই বহন করে, তা নয়। মশাটি চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। একই সাথে ইয়েলো ফিভার, মাইয়্যারো ফিভারও ছড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়ার ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়। এরপর ২০১৮ সালে ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়া কোনোটাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।
স্বাস্থ্য অধিদফতর চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনকে এডিস মশার ব্যাপারে সতর্ক করলেও সিটি করপোরেশন ব্যাপক ভিত্তিতে মশা নিধনে কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এডিস মশা।
গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ১০১ জন। মিটফোর্ড হাসপাতালে ৭১ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ২২, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৪১, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯, পুলিশ হাসপাতালে ১৮, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭০, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৯ জন, বিজিবি হাসপাতালে দু’জন। ঢাকার বাইরের ঢাকা বিভাগে ২০৮, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৬, খুলনা বিভাগে ১৮৩, রাজশাহী বিভাগে ৬৩, রংপুর বিভাগে ২৮, বরিশাল বিভাগে ১২৭, সিলেট বিভাগে ১৬ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২০ জন, বারডেম হাসপাতালে ১১ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে চারজন, স্কয়ার হাসপাতালে ১২ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১৮ জন, কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ২১ জন, গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ১৬ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, আদদীন হাসপাতালে ১৫ জন, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ দিকে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সাতক্ষীরায় এবং বৃহস্পতিবার নাটোরে দুই গৃহবধূ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শাহানারা খাতুন (৩৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিক্যালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। শাহানারা খাতুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালি গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী। এ নিয়ে সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দু’জনের মৃত্যু হলো।
শাহানারা খাতুনের দেবর জিয়াউর রহমান জানান, গত ১৮ তারিখে তার ভাবী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল রাত ৩টার দিকে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। খুলনায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা: আবু শাহিন জানান, সাতক্ষীরায় ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩০৮ জন ডেঙ্গু রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে এখনো পর্যন্ত ভর্তি রয়েছেন ৫১ জন।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফরিদা বেগম (৪৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। ফরিদা বেগম বড়াইগ্রাম পৌরসভার বড়াইগ্রাম মহল্লার মৃত মাঙ্গন খাঁর মেয়ে ও জোনাইল চড়ইকোল গ্রামের জালালউদ্দিনের স্ত্রী।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট ফরিদা বেগম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত মঙ্গলবার তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, কেশবপুর উপজেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। গত পাঁচ দিনে কেশবপুর উপজেলায় ২১ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৮ দিনে কেশবপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। ফলে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে ব্যাপক হারে ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মাগুরাডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা কামারুজ্জামান খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬০ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৪৬৬ জনে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৫৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের শয্যা ও ফ্লোর উপচে সিঁড়ি বারান্দায় ডেঙ্গু রোগীদের ভিড়। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল রয়েছেন ২৪ জন রোগী। বাকিরা বিভিন্ন প্রাইভেট ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জেলা সদরের বাইরে ভাঙ্গায় দু’জন, বোয়ালমারীতে ছয়জন, আলফাডাঙ্গায় পাঁচজন, মধুখালীতে ১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা: মোহা: এনামুল হক জানান, এ পর্যন্ত ৯০৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন। জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন সাতজন।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy