২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বর্জ্য পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল

রাবি শিক্ষার্থীদের সফল উদ্ভাবন
রাজশাহীতে বর্জ্য পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের পদ্ধতি দেখাচ্ছেন আবদুল্লাহ হিল কাফী : নয়া দিগন্ত -

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একদল শিক্ষার্থী বর্জ্য পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কার্বন কালি উৎপাদনের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এ পদ্ধতির নাম পাইরোলাইসিস। এ পদ্ধতি উদ্ভাবন দলের সদস্যরা বলছেন, এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পলিথিন থেকে ৭০ থেকে ৭৮ শতাংশ ফার্নেস তেল ও ৫ থেকে ৮ শতাংশ কার্বন কালি পাওয়া যাবে। একইসাথে ফার্নেস তেল হতে বর্জ্য তেল নিঃসরণ যন্ত্রের সাহায্যে ৬৫ শতাংশ পেট্রল ও ৩০ শতাংশ পরিমার্জিত ডিজেলও পাওয়া যাবে। এ ছাড়া পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ার সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় উচ্চতর ক্যালরি মূল্য সম্পন্ন ১০ থেকে ১৮ শতাংশ নন-কনডেন্সেবল গ্যাস তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল কাফীর নেতৃত্বে একটি দল প্ল্যান্টটি তৈরি করেছেন। এ প্রসঙ্গে কাফী জানান, তাদের উৎপাদিত জ্বালানি তেলের ক্যালরিফিক মান ফার্নেসের ক্ষেত্রে ৩৮.৫ মেগাজুল/কেজি ও পেট্রলিয়াম পেট্রলের ক্ষেত্রে ৪২.০৯ মেগাজুল/কেজি। এটি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) কর্তৃক পরীক্ষিত।
তিনি জানান, উৎপাদিত এ ফার্নেস তেল শিল্প কলকারখানায় জ্বালানি উপকরণ হিসেবে এবং খনন যন্ত্র, রাস্তা বেলন বা লোডিং মেশিনের মতো নি¤œ গতির ইঞ্জিনগুলোতে পরিমার্জিত ডিজেল ও পেট্রল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কার্বন কালি সম্পর্কে আব্দুল্লাহ হিল কাফী বলেন, কার্বন কালিটি মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি ইট বা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এই কার্বন কালি প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যসম্পন্ন এন-২২০ ও এন-৩৩০ কার্বন পাওয়া যায়। এ ছাড়া এটি রঙের মাস্টার ব্যাচ হিসেবে পাইপ, কেবল জ্যাকেট প্রভৃতির মৌলিক উপাদান হিসাবে প্রক্রিয়াজাত করা যাবে। পুরো প্লান্ট প্রস্তুত ও জ্বালানি উৎপাদন করতে তাদের ৮ মাস একটানা কাজ করতে হয়েছে।
তাদের উদ্ভাবিত এ প্লান্টে খুব বেশি খরচেরও প্রয়োজন নেই। ১ হাজার ৫০০ বর্গফুট জমির মধ্যেই হয়ে যাবে পুরো প্ল্যান্ট। ১ হাজার লিটার পানিতে চলে প্ল্যান্টটি। তাপ ও চাপের নিয়ন্ত্রণ, চুল্লি পরিচালনা ও উৎপাদন কাজের জন্য দু’জন মানুষ প্রয়োজন। ডিস্টিলেশন প্ল্যান্টসহ পাইরোলাইসিস প্ল্যান্ট বানাতে খরচ পড়বে দুই লাখ টাকার মতো। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৭ ঘণ্টায় ৮০ কেজি হিসেবে বছরে ২৪ টন জ্বালানি তেল উৎপাদন করা যাবে এ প্ল্যান্ট থেকে। যার মধ্যে ফার্নেস তেল ১৮ টন এবং তা থেকে পেট্রল ১১.৭ টন ও ডিজেল ৩.৮৪ টন, কার্বন কালি ১.৪ টন এবং গ্যাস উৎপাদন হবে ৩.৮৪ টন।
কাফী জানান, রাজশাহী শহর ‘গ্রিন সিটি’ নামে পরিচিত। কিন্তু রাজশাহীতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে। সেগুলোর কোনো পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্যাল) হচ্ছে না। আমি অনলাইনে দেখে ও বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানতে পারি পাইরোলাইসিস নামের এক পদ্ধতি আছে যার মাধ্যমে পলিথিন পুনর্ব্যবহার করে জ্বালানি তেল উৎপাদন সম্ভব। এ প্রক্রিয়ায় মাটি, পানি বা বায়ুর কোনো ক্ষতি বা দূষণ হয় না। এরপরই আমি টিম নিয়ে কাজে নেমে পড়ি।
কাফীর নেতৃত্বে এ প্ল্যান্ট তৈরিতে কাজ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসয়ায়ন বিভাগের মাহমুদুল হাসান, আভিলাষ দাস তমাল, বাবুল চন্দ্র রায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ল্যাবরেটরি সহকারী নাসির উদ্দিন আহমেদ লিমন ও মাহমুদুল হাসান নামের আরেক শিক্ষার্থী। আগামীতে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।

 


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy