২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাফি হত্যা মামলায় ওসি কামালের সাক্ষ্য

-

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই দিনেই ৯ আসামিকে গ্রেফতার করেছিলেন সোনাগাজী মডেল থানা থেকে বদলি হওয়া ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন। এ ছাড়া তিনি দুইজন সাক্ষীর জবানবন্দীও নিয়েছিলেন। গতকাল ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে আদালতকে এ তথ্য জানান তিনি।
সূত্র জানায়, নুসরাত রাফি হত্যা মামলায় গতকাল ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন আদালতে সাক্ষ্য দেন। কামাল হোসেন আদালতকে জানান, ‘ঘটনার পর ৮ এপ্রিল রাফির ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। তখন মামলার তদন্তের দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৯ আসামিকে গ্রেফতার করি। এদের মধ্যে চারজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। অপর চারজন আদালত থেকে অব্যাহতি পান। এরপর ১০ এপ্রিল মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়। সেখানে পিবিআই পরিদর্শক মো: শাহআলম নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব পান।’ আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল তাকে জেরা করেন। আজ মঙ্গলবারও তাকে জেরা করা হবে।
পিপি হাফেজ আহম্মদ জানান, গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা: মো: ওবায়দুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও তিনি উপস্থিত না হওয়ায় আগামী রোববার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত। আলোচিত এ হত্যা মামলায় গতকাল পর্যন্ত ৮৮জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো: শাহ আলম আদালতে মোট ১৬জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রের ১৬ আসামি হলেনÑ মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল। এ মামলায় মোট ২১জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পিবিআই অন্য পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করলে আদালত তা অনুমোদন করেন। গত ২৭ জুন মামলার বাদি ও প্রথম সাক্ষী নুসরাত রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলার চার্জশিট জমা দেয়ার আগে সাতজন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে।

 


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy