২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চেনা রূপে ফিরছে রাজধানী

-

প্রিয়জনের সাথে ঈদ উদযাপন শেষে সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানীর কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। ঢাকা ফেরত মানুষের ভিড় বলে দিচ্ছে রোববার থেকে আগের কর্মব্যস্ত রূপে ফিরবে যানজটের এ নগরী। ঈদের আনন্দটা একটু বেশিই ছিল লম্বা ছুটির কারণে। কর্মজীবীরা এক দিন ছুটি ম্যানেজ করেই উপভোগ করেছেন টানা ৯ দিনের ছুটি। সেই আনন্দের রেশ নিয়ে তৃণমূল থেকে মানুষ ফিরতে শুরু করেছে কর্মস্থল রাজধানীতে। অবশ্য আজ থেকে কর্মব্যস্ততা শুরু হলেও এখনো মানুষের ভিড় বাড়েনি, বাড়েনি কোলাহল। ধীরে ধীরে চেনা রূপে ফিরছে রাজধানী।
রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে শনিবার থেকেই অফিস পাড়ায় মানুষের সমাগম থাকলেও বাড়েনি কোলাহল। অফিসে অফিসে এখনো ঈদের আমেজ। সড়কে নেই সেই চিরচেনা যানজট। মোড়ে মোড়ে সিগন্যাল থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে না।
গতকাল শনিবার রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরবাসী এখনো নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে পার্ক বা সিনেমা হলগুলোতে বেশ ভিড় দেখা যায়। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিপাকে পড়েছিলেন নগরবাসী। ঈদের পর এমনিতেই সব ধরনের পরিবহনের ভাড়া কিছুটা বেশি ছিল, বৃষ্টির কারণে সেটা আরো কিছুটা বেড়েছে। এ নিয়ে সাধারণ যাত্রীরা বাসের চালক-সহকারীর সাথে তর্কেও জড়িয়েছেন।
বাসাবোর বাসিন্দা তৌহিদ শ্যামলীর টেকনিক্যালে আসেন স্ত্রী-সন্তানদের নেয়ার জন্য। তিনি বলেন, বাসাবো থেকে টেকনিক্যাল আসতে আমার আধ ঘণ্টার একটু বেশি সময় লেগেছে। যেটা আমরা সবসময় প্রত্যাশা করলেও ঈদের সময় ছাড়া পাওয়া যায় না। কল্যাণপুরের সিএনজি চালক আলিম বলেন, আসলে অফিস খুললেও এখনো ঢাকার এপার থেকে ওপার মানে মিরপুর বা উত্তরা যেতে ৩০-৪০ মিনিটের বেশি লাগে না। অথচ ক’দিনের মধ্যেই সেটি দু’তিন ঘণ্টায়ও যাওয়া যাবে না।
গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় ছিল আগের দিনগুলোর তুলনায় বেশি। মহাসড়কে যানজট না থাকায় বাসগুলো সময়মতো পৌঁছায়। ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর পৌঁছায়।
টেকনিক্যাল মোড়ের বাস কাউন্টারে কুষ্টিয়া থেকে আসা মিজান বলেন, ‘সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় চলে এলাম। এত কম সময়ে আসা যাবে ভাবতেও পারিনি। ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে ভোগান্তি ছাড়া আসতে পেরেছি। এটাই ভালো লাগছে।
হানিফ পরিবহনের এক কর্মী জানান, ঈদের পর শুক্রবার রাতে ও শনিবার যাত্রীর চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। যানজট না হওয়ায় উত্তরবঙ্গ থেকে আসা বাসগুলো নির্ধারিত সময়েই ঢাকায় পৌঁছেছে।
তবে লঞ্চযাত্রীরা সদরঘাট টার্মিনালে এসে দুর্ভোগে পড়েন। লঞ্চের বেশির ভাগ যাত্রী হকার, কুলিদের দৌরাত্ম্য এবং যানবাহন না পেয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। যানবাহনের সঙ্কট থাকায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বেশ কয়েকটি লঞ্চের যাত্রীরা লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা চাকরি করেন তারা শনিবার রাত থেকেই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। তবে কর্মজীবীরা ফিরতে শুরু করলেও রাজধানীর বড় একটা অংশ শিক্ষার্থীরা এখনো ফিরেনি। কেননা এখনো স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এখনো বন্ধ রয়েছে। এ কারণে কর্মকর্তারা ফিরলেও তাদের অনেকের পরিবার ফেরেনি। নগরে অবস্থানরতরা বলছেন আগামী সপ্তাহ থেকে চিরচেনা দৃশ্যপট ফিরে পাবে রাজধানী যেখানে যানজট হবে আবার নিত্যসঙ্গী। অলিগলিতে মানুষ আর মানুষ। রাজধানীর অনেক অলিগলির রেস্তোরাঁ এখনো বন্ধ।
মালিবাগের বাসিন্দা ইউসুফ বলেন, ঈদের সময় এত বেশি মানুষ গ্রামে যায় যে ফাঁকা ঢাকায় তখন ভয় ভয় লাগে। অলিতেগলিতে মানুষ না থাকলে হাঁটতেও ভয় লাগে। দু’দিন ধরে মানুষের সমাগম কিছুটা বেড়েছে। তবে পূর্ণতা পেতে এই সপ্তাহ চলে যাবে।
রাজধানীর সড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ না থাকায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে না। তারাও ঈদের আমেজ নিয়েই দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক মোড়েই দায়িত্বরত সার্জেন্টদের বিভিন্ন অপরাধের জন্য গাড়ি বা মোটরবাইক চালকদের মামলাও দিতে দেখা যায়। খিলগাঁওয়ে দায়িত্বরত এক সার্জেন্ট বলেন, রাস্তা একটু ফাঁকা থাকলে অনেকেই অতিরিক্ত স্পিডে গাড়ি চালায়। আমরা এসব দেখছি। শাহবাগ, ফার্মগেট, পান্থপথ, ধানমন্ডি, মহাখালীসহ একাধিক স্থানে দেখা গেছে কিছু দোকানপাট খোলা আবার অনেকগুলোই বন্ধ।
লঞ্চ আর ট্রেনে যারা ফিরছেন নগরে এসে তাদের সমস্যা হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে। কেননা টার্মিনাল থেকে বের হয়ে সিএনজি অটোরিকশা নিতে গেলেই অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে চালকরা। এতে বিপাকে পড়ছেন যাত্রীরা। অনেক যাত্রী একসাথে আসায় গুটিকয়েক সিএনজি অটোরিকশা সুযোগ নিচ্ছে।
গতকাল শনিবারও রাজধানীর অন্যতম বিনোদন স্পট হাতিরঝিল, চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেশ ভিড় ছিল। বিশেষ করে রাতের হাতিরঝিল যেন মানুষের হাট। এদিন কেউ কেউ পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানা ঘুরতে যান।

 


আরো সংবাদ