২১ আগস্ট ২০১৯

বন্যার অজুহাতে উত্তাল সবজির বাজার করলার কেজি ১০০

-

এবার বন্যার অজুহাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকার সবজির বাজার। কাঁকরোল, বরবটি, কচুমুখী, ঝিঙ্গাসহ বেশির ভাগ সবজির দাম এখন ৮০ টাকার ঘরে। ১০০ টাকায় উঠেছে করলার কেজি। সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হওয়া পেঁপের কেজি এখন ৫০ টাকা। দাম বেড়েছে রসুন-পেঁয়াজেরও। খুচরা বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পেঁয়াজ। আমদানি করা রসুনের কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। দেশী রসুনের দাম ৭০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিদরে। বন্যার অজুহাতে দাম বেড়েছে মাছেরও। রূপচাঁদা, আইড়, বোয়াল, বাইন প্রভৃতি মাছের দাম আকাশছোঁয়া। রুই-কাতলের দামও বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটোর দাম কেজিতে ৪০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে গাজরের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিদরে। গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হওয়া করলার দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে গতকাল বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স ও ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
সবজির মধ্যে এখন সবচেয়ে কম দামে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি এবং কচুমুখী বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিদরে। একেকটি কচুর দাম ৮০ থেকে ১২০ টাকা। প্রতি কেজি বেগুনের দাম ৭০ থেকে ৯০ টাকা। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস। জালি কুমড়ার পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পাশাপাশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও এই কাঁচা মরিচ ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ধনেপাতার কেজি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রতি আঁটি শাক বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। লেবুর হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা।
খিলগাঁও কাঁচাবাজারে গতকাল কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী রূহুল আমিনের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাছ-গোশত খাওয়া অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু সবজির যা দাম, তাতে সাধারণের কেনার সাধ্য নেই। গরম এবং রোগশোকের প্রাদুর্ভাবের কারণে করলা খাওয়া বেশ জরুরি মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতি কেজি করলা যদি ১০০ টাকায় কিনতে হয় তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ যাবো কোথায়? গরিব মানুষের ঢাকায় থাকার অধিকার নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাজারের ওপর কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। একই পণ্যের একেক বাজারে একেক দাম। যে যার মতো করে গলা কাটছেন।
এ দিকে কোনো কারণ ছাড়াই বেড়ে চলেছে ডিমের দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি পিস ডিমের দাম বেড়েছে এক টাকা এবং ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা। আর মাসের ব্যবধানে প্রতি পিস ডিমের দাম বেড়েছে তিন টাকা এবং ডজনে ৩০ টাকার ওপরে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ডিমের যে চাহিদা বাজারে সরবরাহ তার থেকে বেশ কম। বাজারে ডিমের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, খামারিরা তা সরবরাহ করতে পারছেন না। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে।
বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদের পরও কিছু কিছু বাজারে ডিমের ডজন ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত তিন সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বেড়ে ডিম এখন অনেকটাই নি¤œ আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। গত এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে তিন দফা। এর মধ্যে শেষ দুই সপ্তাহ দাম বৃদ্ধির হার ছিল সব থেকে বেশি। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কারো নজরদারি না থাকায় ডিমের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা বাজার নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ জন্য ভুগতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
খুচরা পর্যায়ে মুদিদোকানে গতকাল এক পিস ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হয় ১০ থেকে ১১ টাকায়। আর হালি হিসাবে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪২ টাকা। এসব ব্যবসায়ী ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ১১৮ থেকে ১২০ টাকা। হাঁসের ডিমের দাম বেড়েছে আরো বেশি। ১২০ টাকা থেকে বেড়ে প্রতি ডজন ডিম গতকাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। খিলগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল জানান, বাজারে এখন ডিমের অনেক চাহিদা। খামারিরা চাহিদা অনুযায়ী ডিম সরবরাহ করতে পারছেন না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে। তবে দাম বাড়লেও বিক্রি কমেনি বলে জানান তিনি।
খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। দেশী রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ও আমদানিকৃত রসুন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায়। খুচরা বাজারে গতকাল বয়লার মুরগি ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর গোশত বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।
আদা-রসুনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মুদিদোকানি আবুল হোসেনের মন্তব্য, সবই আমদানিকারকদের কারসাজি। যদিও বাজেটের কথা বলছেন সবাই। তিনি বলেন, আমরা মহল্লার মধ্যে দোকান করি। আদা-রসুন-পেঁয়াজ কমই চলে। রাস্তায় যারা ভ্যানে করে বিক্রি করেন তারা একটু কম দামেই বিক্রি করতে পারেন। এ জন্য মানুষ পচনশীল এসব পণ্য ভ্যানওয়ালাদের কাছ থেকেই কেনেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভ্যানওয়ালারা আসছে না। এতে করে আমার দোকানের পার্মানেন্ট কাস্টমাররা কষ্ট পাচ্ছেন। তাদের চাহিদার কারণে বাধ্য হয়ে আদা-রসুন দোকানে তুলেছেন জানিয়ে হোসেন বলেন, ১৫০ টাকা পাইকারি দরে রসুন কিনেছি। বিক্রি করছি ১৬০ টাকা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে মাঝারি আকারের প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। বড় তেলাপিয়ার ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা। গত বছর এ সময়ে চাষের যে পাঙ্গাশ ১০০ টাকায় মিলছিল, এবার তার জন্য গুনতে হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়া শিং মাছ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা বেশিদরে। এ ছাড়াও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বোয়াল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, আইড় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, রূপচাঁদা ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, কোরাল ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা এবং পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিদরে।

 


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet