১৭ জুলাই ২০১৯

ট্রেনে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার

-

যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনার পর ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে কমলাপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের কাছে পাঠানো হলে পুলিশ তাকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে ১২ ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রেখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাড়ি ঢাকার মানিকনগরে। এ ঘটনায় সম্রাট নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ট্রেনটির যাত্রীরা। সম্র্রাট কমলাপুর রেলস্টেশনে ময়লা পরিষ্কারের কাজ করে। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। এ ঘটনায় কমলাপুর থানা পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগীর পরিবারকে খুঁজে না পাওয়া এবং মামলা না দায়ের হওয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্কুলছাত্রীর নানী মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। সেখানে তার মা তাকে রেখে গিয়েছিল। হাসপাতাল থেকে ফুসলিয়ে সম্র্রাট তাকে ট্রেনে করে ঢাকার বাইরে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকেসহ তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে তুলে দেয়। পরে তারা মেয়েটিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা জানায় সেখানে ধর্ষণের কোনো চিকিৎসা দেয়া হয় না। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একটি ইনকেজশন দেয়। শেষে বিষয়টি বিমানবন্দর থানার মধ্যে পড়ে না বলে তারা বুধবার রাত ১২টার দিকে তাকে কমলাপুর থানায় পাঠিয়ে দেয়। কমলাপুর থানা পুলিশ মেয়েটিকে হেফাজতে নিয়ে রাত ১২টা থেকে পরদিন অর্থাৎ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখে। এরপর তাকে হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশের এমন ঢিমেতালে দায়িত্ব পালন করার বিষয়টিকে অবহেলা বলছেন অনেকে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাথে থানায় থাকা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল শিকদার বলেন, পুলিশ চাইলে রাতেই শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠাতে পারত, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারত। তা তো করেইনি, উল্টো সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও হাসপাতালে পাঠায়নি তারা। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে, তারা রাত দেড়টার দিকে থানা থেকে ফোন পেয়ে থানায় যান এবং মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন।
কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর রুশো বণিক বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। রাতে তার পরিবারকে খুঁজে পেতে সময় লাগে এবং তারা মামলাও করতে দেরি করেন। এ ছাড়াও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় তাকে রাতে না পাঠিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাঠানো হয়। এখানে আমরা কোনো প্রকার বিলম্ব করিনি। রেলওয়ে পুলিশ ঢাকা জোনের এএসপি ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi