১৫ অক্টোবর ২০১৯
বিএনপিকে কাদের

হিম্মত থাকলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন

-

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ জেলে বন্দী করেনি। আদালতের আদেশে দুর্নীতির মামলায় তিনি বন্দী রয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বন্দ্বের কোনো বিষয় নেই। বিএনপির যদি এতই সাহস আর সক্ষমতা থাকে তাহলে খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করে না কেন? শুধু মুখে মুখে আন্দোলনের হাঁক ডাক, বাস্তবে কোনো আন্দোলন আজ পর্যন্ত তারা করে দেখাতে পারেননি। হিম্মত থাকলে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করে নিজেদের সক্ষমতা দেখান!
গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। দৃশ্যপট যতই দুর্বল হোক তলে তলে ষড়যন্ত্র বাড়ছে। সরকারকে বিপদে ফেলতে গুজবের ডালপালা বিস্তার করছে। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে এটা তারা সহ্য করতে পারছে না। গায়ে জ্বালা ধরছে। তাই তারা বলে লক্ষ মানুষের মাথা ও রক্তের প্রয়োজন। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের অ্যাকটিভ হতে হবে। পাল্টা জবাব দিতে হবে। অপশক্তির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
বর্তমান সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায় নেই- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের প্রতি আওয়ামী লীগেরই দায়বদ্ধতা আছে। আওয়ামী লীগই এ দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে। জনস্বার্থকে মাথায় রেখে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
সদস্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে কাদের বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যাকে তাকে আওয়ামী লীগের সদস্য পদ দিতে পারব না। নির্বাচনের সময় জোয়ারে অনেকেই আওয়ামী লীগ ও নৌকার পক্ষে মিছিল করেছে। সবাইকে আমরা জায়গা করে দিতে পারব কি না সেটা ভাবতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কেউ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। তিনি বলেন, দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভালো। জনগণের কাছে যারা গ্রহণযোগ্য নয়, ভালো মানুষ নয়, এসব মানুষ আওয়ামী লীগের কোনো প্রয়োজন নেই। দলকে খারাপ লোক থেকে মুক্ত রাখতে হবে। দূষিত রক্তের কোনো প্রয়োজন নেই। এমন কেউ যাতে না আসতে পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে ও ব্যবস্থা নিতে হবে। দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মী সমাবেশ করার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শৃঙ্খলার বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কাজেই দলের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে খুবই মনোযোগী, সাবধান ও সতর্ক হতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, সহপ্রচার সম্পাদক মো: মিরাজ হোসেন প্রমুখ।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum