২১ জুলাই ২০১৯
সেমির সম্ভাবনায় পাকিস্তান

বাবরের সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ড পরাস্ত

উইকেট নেয়ার পর পাকিস্তান দলের উল্লাস : এএফপি -

বিশ^কাপ ক্রমান্বয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এখন চলছে সেমিফাইনালে ওঠার হিসাব-নিকাশ। কে কে উঠবে শেষ চারে সে হিসাব। টপ ফোরে নেই বাংলাদেশ, পাকিস্তানও। তবু এই দুই দলের মধ্যে অন্য এক হিসাব চলছে। যদি কোনো দুর্ঘটনায় পতিত হয় ইংল্যান্ড, ভারত। তখন তো সুযোগ এই দুই দলেরই। একটু আগ থেকে নিজেদের গুছিয়ে রাখতে মন্দ কি। কাল নিউজিল্যান্ডকে না হারাতে পারলে পাকিস্তানের জন্য এ হিসাবে থাকা টাফ হয়ে যেত। কিন্তু এখন তারা ৭ খেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সমান ৭ পয়েন্টই অর্জন করেছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের প্লাস পয়েন্ট শেষ দুই ম্যাচ তাদের যথাক্রমে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের শেষ দুই ম্যাচ পাকিস্তান ছাড়াও ভারত। টপ ফোর থেকে অবনমন হওয়ার আর একটি দলের শঙ্কা রয়েছে তারা ইংল্যান্ড। যদিও তাদের পয়েন্ট এখন ৮। তাদের শেষ দুই ম্যাচ নিউজিল্যান্ড ও ভারত। একেবারে স্বস্তিতে নেই ভারতীয়রাও। কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে তাদেরও। যদিও পয়েন্ট এখন ৫ খেলায় ৯। এখন বাকি চার ম্যাচ। দুর্ঘটনা আর ক’ ম্যাচে হবে। ফলে ভারতকে নিয়ে না ভেবে বরং ইংল্যান্ডকেই টার্গেট করা উচিত।
কাল নিউজিল্যান্ড ব্যাট হাতে সুবিধাই করতে পারেনি। যদিও টসে জিতে প্রথম ব্যাটিংয়েরই সিদ্ধান্ত তাদের। এজবাস্টনে রান সংগ্রহ করতে পরিশ্রম করতে হয়েছে। তা কিউইরা যতটুকু করেছেন, তার চেয়ে ঢের বেশি ছিল পাকিস্তানের। এতেই ওই জয়ের সাফল্য। বাবর আজম ও হারিস সোহেলের কৃতিত্বে জিতেছে ম্যাচ। বাবর সেঞ্চুরিও করেছেন এ ম্যাচে। প্রথম হাফিজকে নিয়ে ৬৬ রানের দায়িত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলার পর বাবর জুটি বাঁধেন হারিসের সাথে। এরাই শতাধিক রানের পার্টনারশিপ খেলে দলকে নিয়ে যান জয়ের লক্ষ্যে। ৬৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির লক্ষ্যে পৌঁছান তিনি ১২৪ বলে। ১১টি চারের মার ছিল তাতে। এ জুটি ১২৬ করে শেষ মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হন। রান আউট হন হারিস ৬৮ করে। আর বাবর ১০১ রানে থাকেন অপরাজিত। ১২৭ বল খেলে ওই রান করেছেন। হারিস আউট হওয়ার পর শরফরাজ নেমে খেলা শেষ করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয়লাভ করে পাকিস্তান। উইলিয়ামসন ৮ বোলার ব্যবহার করেও কোনো সুবিধা তুলে নিতে পারেননি।
এর আগে বৃষ্টিতে আউটফিল্ড ভেজা থাকায় দেরিতে শুরু হওয়া এ খেলায় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। বিশেষ করে যে স্মার্ট ব্যাটিং তারা করে থাকেন। কাল তা ছিল অনুপুস্থিত। তবু দেখেশুনে শেষ পর্যন্ত ২৩৭ রান সংগ্রহ করেছে তারা। তবে পাকিস্তানের বোলাররা যেমন নিখুঁত নিশানায় বল রেখেছেন। একই সাথে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদেরও ঘাম ঝরিয়ে রান তুলতে হয়েছে। উইকেট অনুসারে সহজে ব্যাটিং করে যে জিততে পারবে না পাকিস্তান তাও অনুমান করা যায়। উইকেটে টিকে থেকে দেখেশুনে খেললেই কেবল সম্ভব হবে, নতুবা স্বল্প টার্গেটে হেরেও যেতে পারে মোহাম্মাদ আমির, শরফরাজ, মোহাম্মাদ হাফিজরা।
এ ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে সেভ করেছে তাদের দুই ব্যাটসম্যান জিমি নিশাম ও গ্রান্ডসহোম। এমন রান খরার মধ্যেও ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৩২ রান তুলেছেন তারা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ ৩২ রানের। যা করেছেন নিশামের সাথে কেন উইলিয়ামসন। নিশাম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৯৭ রানে। ১১২ বলে ওই রান করেন তিনি ৩ ছক্কা ৫ চারের সাহায্যে। নাইন্টির ঘরে গিয়েও সেঞ্চুরি না পাওয়ার কষ্ট অনেক। এরপর তো তিনি ছিলেন অপরাজিত। মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত তিনি। অবশ্য ওভার ছিল না। আরেকটু আগ থেকে চেষ্টা করলে হয়তো হয়েও যেত। কিন্তু শেষের দিকে শাদাব খান, শাহিন আফ্রিদি, মোহাম্মাদ আমির ও ওয়াহাব রিয়াজরা যেভাবে বোলিং করেছেন, তাতে চাইলেই ইচ্ছামতো কিছু করা সম্ভব না। ইনিংসে নিশাম ছাড়া গ্রান্ডহোম করেছেন ৬৪ রান। এর আগে কেন উইলিয়ামসন ৪১ করে আউট হয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের দিকে তাকালে এ তিনটি স্কোরই চোখে পড়বে। উপমহাদেশের দলগুলোর বিপক্ষে বরাবর যিনি ভালো করেন সেই রস টেইলর ৩ রান করেই আউট।
বল হাতে আফ্রিদি নিয়েছেন ৩টি। তার বোলিং বিশ্লেষণ ১০-৩-২৮-৩। দুর্দান্ত। আমির কিছুটা খরুচে ছিলেন। তবু সূচনার উইকেটটি তিনিই নিয়েছেন। গাপটিল আউট হন তার বলে। এ ছাড়া শাদাব খানও ভালো বোলিং করেছেন। ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। ওয়াহাব রিয়াজ উইকেট না পেলেও তার ১০ ওভারে দিয়েছেন ৫৫ রান। বাবর ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi